কালিয়ায় ডিপটিউবওয়েল প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ, ২৮টির হদিস নেই
কালিয়া প্রতিনিধি :-
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ডিপটিউবওয়েল স্থাপন প্রকল্পে অনিয়ম ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ পাওয়া ১২৫টি ডিপটিউবওয়েলের মধ্যে ২৮টি স্থাপন করা হয়নি কিংবা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের না দিয়ে অন্যত্র স্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়া নির্ধারিত অর্থের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
২০২২-২৩ অর্থবছরে পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের আওতায় (টেন্ডার আইডি: ৮৬৬৩৪৭, প্যাকেজ নম্বর: ARRP-150/1) কালিয়া উপজেলায় ১২৫টি ডিপটিউবওয়েল স্থাপনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এর মধ্যে ৯৭টি স্থাপন করা হলেও বাকি ২৮টির কোনো হদিস নেই। কিছু ক্ষেত্রে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির বাড়িতে টিউবওয়েল স্থাপন না করে অন্যত্র স্থাপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
আনসার সদস্য নুরুল হক বলেন, ২০২৩ সালে তাঁর নামে একটি ডিপটিউবওয়েল বরাদ্দ দেওয়া হলেও তিনি এখনো তা পাননি। তাঁর অভিযোগ, অন্য ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়ে বরাদ্দের টিউবওয়েল অন্যত্র স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সোহাগ বলেন, তাঁর ভাই মো. নাসির শেখের নামে ডিপটিউবওয়েল পাওয়ার জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ের মেকানিক সাহাবুল ইসলামকে প্রথমে ১৫ হাজার এবং পরে আরও ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে ডিপটিউবওয়েল স্থাপনের পর এর গোড়া পাকা করার কাজও শেষ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
অন্য ভুক্তভোগী বিপ্লব দাস বলেন, ‘ডিপটিউবওয়েল স্থাপনের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ের মেকানিক বরুন দাসকে ২৫ হাজার টাকা দিয়েছি। তিনি ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করে দিলেও গোড়া পাকা করে দেননি। গোড়া পাকা করে দেওয়ার কথা বললে তিনি দেবেন বলে জানান। কিন্তু কবে দেবেন, তা বলেন না।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ৭ হাজার টাকার পরিবর্তে কোনো কোনো সুবিধাভোগীর কাছ থেকে ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। সরেজমিনে কয়েকটি ডিপটিউবওয়েলের গোড়া পাকা করার কাজও অসম্পূর্ণ পাওয়া গেছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির আওতায় ১২৫টি ডিপটিউবওয়েল স্থাপনের কাজ পায় সাতক্ষীরাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ।
এ বিষয়ে ঠিকাদার লিটন বলেন, ‘অফিস শতভাগ কাজ বুঝে নিয়ে আমাদের বিল পরিশোধ করেছে। কার নামে বরাদ্দ ছিল, কে পেয়েছে আর কে পায়নি—এসব বিষয়ে অফিসই ভালো বলতে পারবে।’
কালিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মিঠুন রায় বলেন, ‘আমার জানা মতে, বরাদ্দ পাওয়া সব বাড়িতেই ডিপটিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। কোনো বাড়ি বাদ পড়েনি।’
তবে সহকারী প্রকৌশলী খালিদ আহমদ উসমানী বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডিপটিউবওয়েল স্থাপন নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা যাচাই, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বঞ্চিতদের দ্রুত ডিপটিউবওয়েল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।