ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি

ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি

ভারতে কারাভোগ শেষে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরলেন ৪৭ বাংলাদেশি

বিশেষ প্রতিনিধি

দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে আটক হওয়ার পর কারাভোগ শেষে ৪৭ বাংলাদেশি নারী-পুরুষ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত আনা হয়।


ফেরত আসা ৪৭ জনের মধ্যে চারজন নারী ও ৪৩ জন পুরুষ রয়েছেন। তারা ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, গাইবান্ধা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা।
জানা গেছে, কাজের সন্ধানে দুই থেকে তিন বছর আগে তারা জাফলংসহ বিভিন্ন সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের পুলিশ তাদের আটক করে। দীর্ঘদিন তারা সেখানে ক্যাম্প ও কারাগারে ছিলেন। দুই দেশের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হরিদাসপুর চেকপোস্ট দিয়ে বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের গ্রহণ করে বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঠায়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছ থেকে ৪৭ বাংলাদেশিকে গ্রহণের পর মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
এ কাজে ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’, মহিলা আইনজীবী সমিতি, রাইট যশোর এবং পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার সদস্যরা সহযোগিতা করেন। পরে তাদের যশোরের বিভিন্ন শেল্টার হোমে নিয়ে পরিচর্যা ও কাউন্সেলিং করা হয়।
রাইট যশোরের সহকারী কর্মকর্তা শামিম হোসেন বলেন, ভারত থেকে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের প্রথমে যশোরের শেল্টার হোমে রাখা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থার চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম বলেন, অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে আটক বাংলাদেশিরা দেশে ফিরলে তাদের শেল্টার হোমে রেখে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও কাউন্সেলিং করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে পাচারের শিকার অনেক অসহায় পরিবার উপকৃত হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দালালচক্রের মাধ্যমে অসহায় মানুষকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তারা পুলিশের হাতে আটক হলে অনেক সময় কারাগার কিংবা শেল্টার হোমে দীর্ঘদিন থাকতে হয়। নাগরিকত্ব যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
সৈয়দ খায়রুল আলম আরও বলেন, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার ও মানবপাচার ঠেকাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে দালালচক্রের প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও এ বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.