ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ: টুঙ্গিপাড়ায় বিক্ষোভের মুখে শিক্ষককে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি

ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ: টুঙ্গিপাড়ায় বিক্ষোভের মুখে শিক্ষককে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি

ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব ও যৌন হয়রানির অভিযোগ: টুঙ্গিপাড়ায় বিক্ষোভের মুখে শিক্ষককে অব্যাহতি, তদন্ত কমিটি

মোঃ লিটন সিকদার
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব ও অশালীন মন্তব্যের অভিযোগে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুককে বিদ্যালয়ের সমস্ত কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বাহানায় ছাত্রীদের আলাদা ডেকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করতেন, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও পোশাক নিয়ে আপত্তিকর কথা বলতেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের চেষ্টা চালাতেন। অষ্টম শ্রেণির এক ভুক্তভোগী ছাত্রী জানায়, তাকে ‘সোনা ময়না পাখি’ বলে সম্বোধন করা সহ শারীরিক গঠন ও পোশাক নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হতো। অপর এক ছাত্রীর অভিযোগ, বয়ঃসন্ধিকালের অজুহাত ও পালস মাপার কথা বলে তার বোরকা খোলার প্রস্তাব দেন ওই শিক্ষক।
সম্প্রতি এক ছাত্রীকে অশালীন প্রস্তাব দেওয়ার পর তার অভিভাবক বিষয়টি বিদ্যালয়ে জানান। অভিযোগ সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দিদারুল আলম ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরপেক্ষ বিচার ও শাস্তির আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরে যায়।
এ বিষয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সেলিম তালুকদার জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিন সদস্যের গঠিত তদন্ত কমিটিকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফারুকের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.