মোঃ লিটন সিকদার, গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে ভূমিসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম। গুরুত্বপূর্ণ এই পদে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় নামজারি, ভূমি রেকর্ড সংশোধন, শুনানি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রুহুল আমিন শরিফ বদলি হওয়ার পর প্রায় দেড় থেকে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো কর্মকর্তা ওই পদে যোগদান করেননি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রতিদিন গোপালগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ, রেকর্ড সংশোধন, জমি সংক্রান্ত অভিযোগ, শুনানি ও অন্যান্য সেবা নিতে ভূমি অফিসে আসেন। তবে নিয়মিত এসি ল্যান্ড না থাকায় এসব সেবার অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে নামজারি (মিউটেশন) নিষ্পত্তি, শুনানি, ভূমি রেকর্ড সংশোধন, অভিযোগ যাচাই-বাছাই এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিলম্ব হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। এতে জমি কেনাবেচা, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির মালিকানা হালনাগাদসহ জরুরি ভূমিসেবা নিতে গিয়ে মানুষকে একাধিকবার অফিসে আসতে হচ্ছে।
একাধিক সেবাপ্রত্যাশী জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে ভূমি অফিসে আসার পরও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে। পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে অনিশ্চয়তাও তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি, উত্তরাধিকার ও সম্পত্তির অধিকার সরাসরি ভূমি অফিসের সেবার সঙ্গে জড়িত। তাই গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি উপজেলায় দীর্ঘদিন এসি ল্যান্ডের পদ শূন্য থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সেবাপ্রত্যাশীদের দাবি, দ্রুত একজন নিয়মিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন করা হলে নামজারি, শুনানি, অভিযোগ নিষ্পত্তি ও অন্যান্য ভূমিসেবায় গতি ফিরবে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও আরও কার্যকর হবে।
তারা আরও দাবি করেন, নতুন কর্মকর্তা যোগদানের আগ পর্যন্ত জরুরি আবেদন, শুনানি ও গুরুত্বপূর্ণ ফাইলগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য সাময়িকভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যবস্থা করা হোক।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়ন করবে এবং সদর উপজেলা ভূমি অফিসে স্বাভাবিক ও গতিশীল ভূমিসেবা নিশ্চিত করবে।

Leave a Reply