মুলাদীতে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার, সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য নুরু মৃধা

মুলাদীতে জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার, সংবাদ সম্মেলনে ইউপি সদস্য নুরু মৃধা

মুলাদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:

বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরলক্ষ্মীপুর মৌজায় ১৩০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় নিজের বিরুদ্ধে ওঠা জমি দখল, আমন ধানের বীজ নষ্ট ও ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য নুরু মৃধা। সোমবার (১৭ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) দক্ষিণ খালাসীরচর গ্রামের বাসিন্দা বজলুর রহমান নুরু মৃধার বিরুদ্ধে জমি দখল, আমন ধানের বীজ নষ্ট ও চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নুরু মৃধা বলেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তার মামা সালাম মাল ও কালাম মালের। তার দাবি, বজলুর রহমান যে জমির মালিকানা দাবি করছেন, সেটি আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। দলিল ও ক্রয়সূত্রে জমিটির মালিকানা তার মামাদের এবং মাঠ জরিপে বিএস রেকর্ডও তাদের নামে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

নুরু মৃধা বলেন, “আমি কারও জমি জোরপূর্বক দখল করিনি, আমন ধানের বীজ নষ্ট করিনি এবং ৩ লাখ টাকা চাঁদাও দাবি করিনি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

তিনি আরও দাবি করেন, তার মামাদের ওয়ারিশরা ওই জমিতে আমন ধান রোপণ করতে গেলে বজলুর রহমান তাদের বাধা দেন এবং পুলিশ দিয়ে হয়রানি ও মামলার ভয় দেখান। তার ভাষ্য, জমি নিয়ে বিরোধটি মূলত স্বত্ব ও দখলসংক্রান্ত।

নুরু মৃধা বলেন, জমির দলিল ও অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করলেই প্রকৃত মালিকানা পরিষ্কার হবে। কাগজপত্রে জমিটি বজলুর রহমানের প্রমাণিত হলে তিনি তা মেনে নেবেন। প্রয়োজনে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সালিশের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তিরও আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বজলুর রহমান বেপারীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি বিভিন্নভাবে পুলিশে ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে টাকা-পয়সা আদায় করছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে বজলুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

জানা গেছে, এ ঘটনায় বজলুর রহমান মুলাদী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি বরিশাল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ও ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.