দুই হাজার বছরের বৃহত্তম কাব্যগ্রন্থে সাতক্ষীরার কবি রুহুল আমিন বিশ্বমঞ্চে গদাইপুর গ্রামের নতুন গৌরব

দুই হাজার বছরের বৃহত্তম কাব্যগ্রন্থে সাতক্ষীরার কবি রুহুল আমিন বিশ্বমঞ্চে গদাইপুর গ্রামের নতুন গৌরব

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীর

বিশ্বসাহিত্য ও সংস্কৃতির অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য নতুন গৌরব বয়ে এনেছেন সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গদাইপুর গ্রামের কবি ও ছড়াকার মো. রুহুল আমিন। ভারতের ‘বিশ্ব বাংলা সাহিত্য’ প্রকাশনীর উদ্যোগে প্রকাশিত ঐতিহাসিক এক কাব্যসংকলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচিত কবিদের সঙ্গে স্থান পেয়েছে তার একাধিক কবিতা।
প্রকাশিত সংকলনটিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে গত দুই হাজার বছরের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ কাব্যগ্রন্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা কবি রুহুল আমিনের লেখা স্থান পাওয়ায় গদাইপুরসহ সাতক্ষীরার সাহিত্যাঙ্গনে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
কবি রুহুল আমিনের এ অর্জনকে গদাইপুর গ্রামের মানুষের জন্য বিশেষ গৌরবের বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, বিভিন্ন সময় শিক্ষা, চাকরি, কৃষি, মৎস্যচাষ, ব্যবসা ও প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে গদাইপুরের মানুষ এলাকার সুনাম বাড়িয়েছেন। এবার সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে গ্রামের পরিচিতি তুলে ধরেছেন কবি রুহুল আমিন।
বহুমুখী পেশার মানুষের গ্রাম গদাইপুর
আশাশুনি উপজেলার গদাইপুর একটি কৃষি ও মৎস্যনির্ভর জনপদ। এ গ্রামের অনেক মানুষ কৃষিকাজের পাশাপাশি বাগদা চিংড়ি চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় চিংড়ি চাষিরা দেশের রপ্তানি খাতেও ভূমিকা রাখছেন।
এ ছাড়া গদাইপুরের অনেক বাসিন্দা শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, ব্যবসা, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন পেশায় কর্মরত রয়েছেন। অনেকে প্রবাসে থেকেও পরিবারের পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বিভিন্ন পেশায় সফল মানুষের পাশাপাশি সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায়ও গদাইপুরের মানুষের আগ্রহ রয়েছে। কবি রুহুল আমিনের আন্তর্জাতিক সংকলনে স্থান পাওয়ার ঘটনা সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সাহিত্যচর্চায় রুহুল আমিন
গদাইপুর গ্রামের সন্তান মো. রুহুল আমিন ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত। গ্রামের প্রকৃতি, মানুষের জীবনযাপন, সামাজিক বাস্তবতা ও চারপাশের নানা অসঙ্গতি তার লেখার অন্যতম উপজীব্য।
তার লেখা কবিতা ও ছড়া দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদপত্রের সাহিত্য পাতায় প্রকাশিত হয়েছে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত ১২টি যৌথ কাব্যগ্রন্থে তার লেখা স্থান পেয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো তার কোনো একক কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি।
সাহিত্যাঙ্গনে রুহুল আমিনের লেখায় সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম, শোষণ-বঞ্চনা, বৈষম্য, দুর্নীতি ও সামাজিক অসঙ্গতির বিষয় উঠে আসে। সহজ-সরল ভাষা, গ্রামীণ জীবন ও মানুষের মুখের ভাষার ব্যবহার তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ট্য বলে মনে করেন পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীরা।
মাটির কাছাকাছি থাকা কবি
আন্তর্জাতিক একটি বৃহৎ কাব্যসংকলনে নিজের লেখা স্থান পেলেও কবি রুহুল আমিনের জীবনযাপন অত্যন্ত সাধারণ বলে জানিয়েছেন তার পরিচিতজনরা। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে সাহিত্যচর্চা করতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিশে থাকা, তাদের সুখ-দুঃখের কথা শোনা এবং চারপাশের বাস্তবতাকে লেখায় তুলে ধরাই তার সাহিত্যচর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই স্থানীয়দের অনেকেই তাকে ‘সাধারণ মানুষের কবি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা
কবি রুহুল আমিনের এ অর্জনকে স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমী ও তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখছেন গদাইপুরের মানুষ। তাদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকেও নিয়মিত সাহিত্যচর্চা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি পাওয়া সম্ভব—রুহুল আমিনের সাফল্য তার একটি উদাহরণ।
স্থানীয়রা জানান, কবির এই অর্জন উপলক্ষে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। গদাইপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত গদাইপুর থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক কাব্যসংকলনে স্থান পাওয়া কবি রুহুল আমিনের এ সাফল্য শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, স্থানীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

Leave a Reply

Your email address will not be published.