কালিয়ায় জমি বিরোধে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

কালিয়ায় জমি বিরোধে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

নড়াইলের কালিয়ায় জমি ও দোকানঘর নিয়ে বিরোধের জেরে দুই ভাইকে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বেলাল হোসেন, হালিম মোল্যাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নড়াগাতী আমলি আদালতে মামলা করেছেন শীতলবাটি গ্রামের মো. জিল্লাল মোল্যা।

মামলার আরজির তথ্যমতে, গত ১২ আগস্ট রাত ৮টার দিকে উপজেলার কলাবাড়িয়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে কালিয়া সড়কের একটি মন্দিরের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ১৪৩, ৩২৫, ৩২৬, ৩০৭, ৫০৬(২) ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার বাদী জিল্লাল মোল্যার অভিযোগ, আসামিদের সঙ্গে তাঁদের জমি ও দোকানঘর নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। পেড়ুলী মৌজায় একটি জায়গা ও দোকানঘর বাবদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তাঁর ভাই বেলাল হোসেনের সঙ্গে তাঁদের চুক্তি হয়। পরে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে জায়গা ও দোকানঘরের স্বত্ব হস্তান্তর করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর অভিযোগ, জায়গা হস্তান্তরের বিষয়টি গোপন করে আসামিরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে দ্বিতীয় আসামির নামে ডিসিআর কাটিয়ে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এর জেরে তাঁরা বিভিন্ন সময় হুমকিও পেয়ে আসছিলেন বলে মামলার আরজিতে দাবি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে বাদী ও তাঁর ভাই আত্মীয়ের বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মন্দিরের সামনে পৌঁছালে আসামিরা কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের পথরোধ করেন। এ সময় তাঁদের হাতে রামদা, ছ্যানদা, লোহার রড ও হাতুড়ি ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা দুই ভাইয়ের ওপর হামলা চালান। এতে বাদীর ভাইয়ের দুই পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে বাদী এগিয়ে গেলে তাঁর মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয়। আঘাত ঠেকাতে গিয়ে তাঁর ডান হাতের কবজির একাধিক হাড় ভেঙে যায় এবং মাথায়ও গুরুতর জখম হয় বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদীর দাবি, তাঁদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে স্থানীয়রা আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এরপর তাঁদের নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান বলে মামলার আরজিতে বলা হয়েছে।
মামলার বাদী জানান, আহতদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে ফোন দিলে ফোন ধরে কথা না বলে কেটে দেন।
মামলাটি আদালতে বিচারাধীন। ফলে বাদীপক্ষের করা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.