আবু বকর সিদ্দিকী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি

আবু বকর সিদ্দিকী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি

আবু বকর সিদ্দিকী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি
নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের বেনাপোল-যশোর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী আবু বকর সিদ্দিকী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রায় দুই শতাধিক বছরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের মাধ্যমে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই শতাধিক বছর আগে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত দ্বীনি প্রচারক ও ফুরফুরা শরীফের বড় পীর হযরত আবু বকর (রহ.)-এর সক্রিয় উদ্যোগে এ এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি মক্তব হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে বাংলা, আরবি ও ইসলামী শিক্ষার প্রসারে এটি মাদ্রাসা স্কুল হিসেবে পরিচালিত হয়। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়ভাবে ‘বড় পীরের মাদ্রাসা’ নামে পরিচিত ছিল।
জানা যায়, ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির অর্থায়ন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম ফুরফুরা শরীফ থেকে পরিচালিত হতো। ব্রিটিশ শাসনামলেও প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
দেশভাগের পর ফুরফুরা শরীফ ভারতের অংশে চলে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে এলাকাবাসী প্রয়াত বড় পীরের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘আবু বকর সিদ্দিকী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ রাখেন।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সংক্ষেপে এবি এস মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত। এর প্রতিষ্ঠান কোড (ইআইআইএন) ১১৮৪৬৮। নড়াইল শহরতলীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা রেখে আসছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ফুরফুরা শরীফের বড় পীর হযরত আবু বকর (রহ.)-এর স্মৃতি এবং এ অঞ্চলের শিক্ষা বিস্তারের দীর্ঘ ইতিহাস। এখনো আশপাশের এলাকায় ‘মাদ্রাসা স্কুল’, ‘মাদ্রাসার হাট’ ও ‘মাদ্রাসা বাসস্ট্যান্ড’ নামে স্থানগুলো পরিচিত হওয়া প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক পরিচয়েরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রাচীন ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং শিক্ষা বিস্তারে দীর্ঘদিনের অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আবু বকর সিদ্দিকী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের আওতায় আনা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটির মর্যাদা ও স্মৃতি সংরক্ষিত হবে, অন্যদিকে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।
এলাকাবাসী আশা করছেন, সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.