তুলারামপুরকে মডেল ইউনিয়ন গড়তে চেয়ারম্যান প্রার্থী শিহাবুর রহমান শিহাব

তুলারামপুরকে মডেল ইউনিয়ন গড়তে চেয়ারম্যান প্রার্থী শিহাবুর রহমান শিহাব

তুলারামপুরকে মডেল ইউনিয়ন গড়তে চেয়ারম্যান প্রার্থী শিহাবুর রহমান শিহাব

নড়াইল  সদর প্রতিনিধি: স্বপন কুমার দা
নড়াইল সদর উপজেলার ৬ নম্বর তুলারামপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরের প্রত্যয় নিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শিহাবুর রহমান শিহাব।

চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় তাঁকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—বিভিন্ন স্থানে তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে চলছে আলোচনা। তাঁর সমর্থকেরাও বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন।
শিহাবুর রহমান শিহাবের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, তিনি তুলারামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তুলারামপুর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৭৭ সালের ১৬ জুলাই সেনা কর্মকর্তা হাজী এম এ খালেক ও হেনা বেগমের ঘরে তাঁর জন্ম। ১৯৯৩ সালে তুলারামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে স্টার মার্কসহ এসএসসি পাস করেন তিনি। পরে ১৯৯৫ সালে যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৯৭ সালে খুলনার বিএল কলেজ থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।
ছাত্রজীবন থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন শিহাবুর রহমান। ১৯৯২-৯৩ সালে তুলারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে সরাসরি ভোটে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি, সদর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং থানা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে পুনরায় একই পদে দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি ওই পদে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানান।
রাজনৈতিক জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথাও তুলে ধরেন শিহাবুর রহমান। তাঁর দাবি, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে নড়াইল সদর থানায় ১২টি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় তাঁর দেড় বছরের সাজা হয়। এছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে ১৭টি নাশকতার মামলা দেওয়া হয় এবং এসব মামলায় তাঁকে ১৭ বার কারাগারে যেতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার দিন কারাগারে ছিলেন বলেও জানান।
তাঁর ভাষ্য, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে যাননি। বরং দলের নেতাকর্মীদের পাশে থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। জুলাই আন্দোলনেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অংশগ্রহণ এবং নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে মাঠে সক্রিয় থাকার দাবি করেন তিনি।
শিহাবুর রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর তুলারামপুর ইউনিয়নের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের নিরাপত্তায় সহযোগিতা করা এবং রাত জেগে পাহারা দেওয়ার কথাও জানান তিনি। একই সময়ে বিভিন্ন বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টা প্রতিহত করেছেন বলেও তাঁর দাবি।
ইউনিয়নে বিএনপিকে সুসংগঠিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার কথাও জানান এই চেয়ারম্যান প্রার্থী।
তিনি বলেন, তুলারামপুর ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় নির্মাণে সহযোগিতা, মিতনা মন্দিরের দর্শনার্থীদের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, বেনহাটি মন্দিরে সাবমার্সিবল স্থাপনে ১০ হাজার টাকা অনুদান এবং মন্দির প্রাঙ্গণ সংস্কারে ২৫ গাড়ি বালু দেওয়াসহ বিভিন্ন কাজে তিনি সহযোগিতা করেছেন। হরিতলা মন্দিরে ১২০ ফুট ইটের সলিংয়ের কাজেও সহায়তা করেছেন বলে জানান।
এছাড়া বেনহাটি বড় মন্দির ও চর মালিডাঙ্গায় ২০টি করে চেয়ার দেওয়া, বেতেঙ্গা সড়ক চলাচলের উপযোগী করতে রাবিশ দিয়ে সংস্কার এবং তুলারামপুর মহাসড়কের পাশে ড্রেনের ওপর ঝুঁকিপূর্ণ ও ভাঙা স্ল্যাবের পরিবর্তে নিজ অর্থায়নে নতুন স্ল্যাব তৈরি করে বসানোর কথাও জানান তিনি।
তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্কুল ও মাদ্রাসায় ৩০টি ফুটবল বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলেও দাবি করেন শিহাবুর রহমান।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও উন্নত তুলারামপুর ইউনিয়ন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ইউনিয়নের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, খেলাধুলা, যোগাযোগব্যবস্থা ও সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে চান।
আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়ী হওয়ার জন্য তুলারামপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন শিহাবুর রহমান শিহাব।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিহাবুর রহমান চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তবে নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তই প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.