“এখনই সময়: মাদকের ভয়ংকর থাবা থেকে বাঁচার উপায়”

“এখনই সময়: মাদকের ভয়ংকর থাবা থেকে বাঁচার উপায়”
এখনই সময়: মাদকের ভয়ংকর থাবা থেকে বাঁচার উপায়
 লেখক, মো মামুন মোল্যা
বাংলাদেশে মাদকাসক্তি একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যা। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (বিএমইউ) ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টস লিমিটেড (আরএমসিএল) যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে,দেশে” প্রায় ৮২ লাখ মানুষ ইয়াবা, গাঁজা,ফেনসিডিল,হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত। সূত্র প্রথম আলো
মাদক সেবনকারীরা শুধু নিজেদের শারীরিক,মানসিক ও আর্থিক ক্ষতি করে না,  বরং তাদের পরিবার,সমাজও দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমান সময়ে মাদক শহর থেকে শুরু করে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ ও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের হাতের নাগালে চলে এসেছে। সহজলভ্য হওয়ায় মাদকের ভয়াল গ্রাসে জড়িয়ে পড়ছে তারা। ফলে পরিবারে দিন দিন বেড়ে চলেছে মানসিক ও অর্থনৈতিক অশান্তি । অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের মেধার বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে পরিবার। ভবিষ্যৎ ছেয়ে যাচ্ছে অন্ধকারে। বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা। ভেঙে যাচ্ছে মা-বাবার সোনার স্বপ্ন।
মাদকাসক্ত হওয়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে যেমন,কৌতূহল,খারাপ সঙ্গ,পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া ,মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পরিবার ও সমাজ থেকে বিতাড়িত করা,মানসিক হতাশা,বন্ধুদের উৎসাহে অনেক তরুণ মাদকে আসক্ত হওয়া,মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়ে কিছু মানুষ অনেক সময় অতিরিক্ত হতাশা থেকে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়া। আবার কেউ কেউ পারিবারিক অশান্তি, প্রেমে ব্যর্থতা,বেকারত্ব বা জীবনের নানা চাপ থেকে মুক্তি পেতে মাদক সেবন করে। তারা কিছু সময় শান্তি পাওয়ার আশায় মাদক সেবন করে। এই অভ্যাস একসময় ভয়ংকর নেশায় পরিণত হয়। তারা নিজেরাই তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করার ক্ষমতা হারিয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের বোঝা হয়ে পড়ে।
 মাদকাসক্তির কারণে মানুষের শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে চলে যায়,“মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়াসহ নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। তারা পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ হারিয়ে পরিবার ও পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে।  অনেক সময় তারা মাদকের অর্থ জোগাড় করতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এমনকি  হত্যার মতো জঘন্য কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
মাদক প্রতিরোধে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা  অপরিসীম। বর্তমান সময়ে সন্তানদের প্রতি মা-বাবার নজরদারি বাড়াতে হবে। “সন্তান কখন কোথায় যাচ্ছে?কার সঙ্গে যাচ্ছে?” তাদের সঙ্গে গিয়ে কী করছে?এসব বিষয়ে খবর রাখতে হবে। সন্তান ঠিকমতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কি না?  লেখাপড়া ঠিক মতো  করছে কি না?  প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখলে মাদকের ভয়ংকর থাবা থেকে দূরে রাখা সম্ভব।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন এবং শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং সৃজনশীল কাজে সম্পৃক্ত করে রাখতে পারলে তারা মাদক থেকে দূরে থাকতে উৎসাহিত হবে।
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ দায়িত্ব:
“দেশের যুবসমাজ ও অর্থনীতিকে রক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদকদ্রব্যের প্রবেশ রোধে কঠোর নজরদারি জোরদার করতে হবে। দেশে মাদক উৎপাদন, পরিবহন, বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
মাদকমুক্ত সমাজ গঠন শুধু প্রশাসনের কাজ নয়,  দেশের প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, জনপ্রতিনিধি,স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন,শিক্ষক,সাংবাদিক,
কবি,সাহিত্যিক,কলামিস্টসহ সকলে মাদকবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলে, মাদকের ভয়ংকর থাবা থেকে যুবসমাজ ও দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

সাংবাদিক, কবি, লেখক, কলামিস্ট, প্রবন্ধকার,

Leave a Reply

Your email address will not be published.