বুধবার , ১৩ মে ২০২৬ , দুপুর ১২:৪৬
ব্রেকিং নিউজ

ভুয়া সাংবাদিকতায় ধরা খেলেন মুশফিক আনসারী

রিপোর্টার : আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : সোমবার , ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , সকাল ১০:৫৯

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিরোধী প্রশ্নগুলো একটু মনোযোগ দিয়ে শুনলেই একটি নাম শোনা যায়, সেটি হলো মুশফিক ফজল আনসারী।

দপ্তরের মুখপাত্ররা বিভিন্ন সময় এসব প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেও বারবার তাদের প্রশ্ন করে বিরক্ত করতে দেখা যায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাবেক এই সহকারি প্রেস সচিবকে।  

আনসারী নিজেকে মূলত একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে তিনি নিজেকে বার্তা সংস্থা ইউএনবির সাবেক রাজনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। 

বার্তা সংস্থাটি জানান, আনসারী আসলে স্বল্প সময়ের জন্য নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করে। তবে কখনোই প্রতিষ্ঠানটির রাজনৈতিক প্রতিবেদক ছিলেন না তিনি।

সম্প্রতি মুশফিক আনসারীর পক্ষপাতমূলক এবং রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে সাংবাদিকতার আড়ালে কার্যক্রম নিয়ে একটি খবর প্রকাশ করে বার্তা সংস্থা ইউএনবি। সেখানে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে প্রশ্ন করার অজুহাতে বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এক প্রেস কর্মকর্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে একটি মিথ্যা উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আর এই সাবেক প্রেস কর্মকর্তা হলেন আনসারী। আবারও গণমাধ্যমের স্বীকৃতির অপব্যবহার' সাংবাদিকতার আড়ালে সংবাদটির হেডলাইন  ছিল, 'মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্রিফিং:  সেখানে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে করা তার একটি প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে আনসারি বলেন, 'শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য নির্বাচনে ভারতের হস্তক্ষেপের বিষয়ও প্রকাশ পেয়েছে। জয়ের জন্য ভারতের সমর্থন নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাস্তবে বাংলাদেশের নির্বাচনে যেসব দেশ জনগণের ম্যান্ডেট মেনে নিয়েছে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু তাদের স্বীকৃতি দিয়েছেন। ’

 জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে ভারতীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগকে বিশ্বাসযোগ্যতা দেওয়ার চেষ্টা একটি পুরোনো তৎপরতা। এটিকে কোনোভাবেই সাংবাদিকতা বলা যায় না, কারণ তিনি এই প্রশ্নগুলোর জবাবও চেয়েছিলেন।

আনসারীর অতীতের একের পর এক মিথ্যা বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক গোলাম রহমান বলেন, 'এ ধরনের প্রচারণাকে সাংবাদিকতার কাজ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়- কেবল কর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালাতে পারে। এ ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি ভালো হাতিয়ার। ’

এদিকে, এ খবরের প্রতিবাদ জানালে আনসারীর উত্তরের পাশাপাশি নিজেদের অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউএনবি। সাংবাদিকতার নীতি অনুযায়ী, এই প্রতিবেদনটি ছাপালেও ইউএনবির সম্পাদক প্রতিবাদ প্রতিবেদনটির শেষে একটি নোট দেন। যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়, আমরা ন্যায্যতা বজায় রাখার নীতি এবং একজন ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া জানানোর অধিকারের অংশ হিসাবে প্রতিবাদটি প্রকাশ করছি । যাইহোক, আমরা আমাদের প্রতিবেদনে অটল আছি কারণ এটি ছিল বাস্তবসম্মত এবং শিক্ষাবিদদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। আনসারী কখনোই ইউএনবিতে রাজনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেননি। তবে সে খুব অল্প সময়ের জন্য একজন নিজস্ব প্রতিনিধি হিসেবে ইউএনবিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন।  

আনসারী, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস সচিব ছিলেন। তিনি বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরীর ভাগিনা এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক কমিটির সাবেক সদস্য সচিব ছিলেন। মুশফিক ফজল আনসারী এক সময় এনটিভি এবং বাংলাভিশনে টকশো করতেন। এই মুশফিক ফজল আনসারী এখন রীতিমত সাংবাদিক বনে গেছেন! তিনি সাংবাদিকতার মুখোশে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাংবাদিকের মুখোশে মুশফিক ফজল আনসারী জাতিসংঘ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট, হোয়াইট হাউসের ব্রিফিংয়ে যোগ দিয়ে বাংলাদেশ ও সরকারবিরোধী এবং বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পক্ষে নানা কথা বলেন, প্রশ্ন করেন।  

সরকারবিরোধী প্রচারণা চালানোর জন্য মুশফিক ফজল আনসারী jastnews.com নামে একটি অনলাইন পরিচালনা করেন। আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে সকল ধরণের অপপ্রচারের কাজ নিষ্ঠার সাথেই করে চলেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক কমিটির এই সাবেক সদস্য সচিব।  

 




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত। কোড নং :- ৩৪৬১