অসীম মন্ডল
আমি জানি আমার এ কবিতা একদিন নিষিদ্ধ হবে আমি জানি অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত হব আমি ।
তবুও আমি বলব একমাত্র সুস্থ সরল যৌন জীবন উপহার দিতে পারে
একটা উর্বর মানব জাতি ।
যৌনতা মানব জমিনের এক পবিত্র সম্পদ ।
যৌনতা আছে তাই তো সৃষ্টি এতটা মহান
এতোটা শান্তির এতোটা সম্প্রীতির।
তাইতো প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের বোঝাপড়ায়
গড়ে ওঠে দাম্পত্য
সামাজিক সম্পর্কের পবিত্র বন্ধনে ।
ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্কের বেড়াজালে আমরা বাঁধা পরি। তাই তো যৌনতায় নারী ও পুরুষ
একে অপরের পরিপূরক
বীজ ও জমি হিসেবে পালন করে রাস্ট্রের দায়িত্ব।
তাই যৌন জীবন যদি সুন্দর ও সহজ হয়
কিংবা যৌন চাহিদায় যদি শ্রদ্ধা থাকে
কিংবা সমব্যথী হয়ে মিলেমিশে উপভোগ করে
এই জীবনকে
তাহলে সংসার সমাজ আনন্দে ভরে যায়।
হৃদয়ের সুস্থতা ,স্বাভাবিক রক্তচাপ ,
কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ছাড়াও মানসিক আনন্দ জীবনকে পবিত্র করে।
একটা শান্তির বাতাবরণে আমরা আশ্রয় পাই। তবুও কখনো কখনো আমাদের জীবন
অশান্তিতে ভরে ওঠে।
যখন ইচ্ছার বিরুদ্ধে নারী ধর্ষিতা হয়
পুরুষের আগ্রাসী মনোভাব
নারীর আত্মাকে বিপন্ন করে।
পুরুষ কখনও বা নির্মমভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে
নারীদের উলঙ্গ শরীরে,
শৃঙ্গার ,স্তম্ভন ছাড়াই শুরু হয় যৌন ক্রিয়া
যন্ত্রণায় নীল হয়ে যায় অবলার দেহ
এক বিরামহীন যৌন চাহিদায় ।
একটা সময় পর
পুরুষ অবসন্ন হয় বীর্য স্খলনে
ঠিক তখনই যৌন উত্তেজনায় জেগে ওঠে নারী।
এক অপার্থিব কামনায় জড়িয়ে ধরে বুকে
তার প্রিয় মানুষ টিকে।
আর পুরুষ নেতিয়ে পড়ে তীব্র অবসাদে
এক চরম অতৃপ্তির অন্ধকারে
ডুবে যায় নারী।
তার চোখে মুখে ফুটে ওঠে রাশি রাশি ঘৃণা,
পচন ধরে দাম্পত্য জীবনে।
আলগা হয়ে আসে সম্পর্কের বাঁধন
তবুও নারী মেনে নেয় মুখ বুজে, নিরুপায় হয়ে ।
সমাজ সন্তান আর সংসারের কথা ভেবে
মানিয়ে নিতে বাধ্য হয় ,
নিজের বাসা ভাঙার ভয়ে।
তাই তো সমকাম পরকীয়ায় মেতে ওঠে দেশ
কিংবা ধর্ষনের স্বীকার হয় নারী,
বিকৃত কামনা থেকে জন্ম নেয় মানব সমাজ।
মাঝে মাঝে মনে হয় হোক না অশ্লীল এই যৌনতা
কি লাভ সত্যকে আড়াল করে ?
রাতের অন্ধকারে আমরা যারা সাধু কিংবা চোর
কম-বেশি সবাইতো মেতে উঠি
নগ্ন নারী দেহে উদ্দাম সম্ভোগে।
তাহলে যৌন শিক্ষায় এত ঢং কেন ?
কিংবা সমাজ উচ্ছন্নে যাওয়ার কেন এত ভয় ?
কম বেশি, সবাই তো ডুবে আছি
অশ্লীলতার এক গলা পাঁকে।
তাইতো সমাজ জুড়ে শুধু অনাচার, ব্যাভিচার
বিকৃত যৌনাচারে জন্ম নেয় ধর্ষক সন্তান
আমাদের উত্তরসূরী হয়ে।
তবুও আমরা হায় হায় করি
কিংবা দোষারোপ করি নব প্রজন্মেরে।