বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারী হাসিনা পালিয়ে গেলেও তার প্রেতাত্মারা এখনো দেশে আছে। তাদের চিহ্নিত করে প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে হবে।
আজ শনিবার বিকালে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক স্মরণসভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান একথা বলেন।
প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্মরণসভায় হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লব অবিস্মরণীয় উল্লেখ করে আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যে পর্যন্ত ভোটের অধিকার নিশ্চিত না হবে সে পর্যন্ত বিএনপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তারেক রহমান আরো বলেন, দেশের জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি ব্যবস্থা থাকলে যারাই সরকার পরিচালানা করবে তারা জনগণের কথা চিন্তা করবে। এ কারণে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের এতো ত্যাগ, তিতিক্ষা ও আন্দোলন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করতে দেশকে স্বনির্ভর করে তুলতে হবে।আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে আঞ্চলিক উৎপাদন সম্ভাবনার ওপর। এদেশের মানুষের সামনে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, তার দল বিশ্বাস করে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে সকল সংস্কার প্রস্তাবের পাশাপাশি মানুষেরও রাজনৈতিক অধিকার অর্জনের সাথে সাথে অর্থনৈতিক অধিকারেরও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
৩১ দফা উপস্থাপন করে তারেক রহমান জাতির কাছে একথা উল্লেখ করে বলেন, দেশকে আজ এগিয়ে নিতে হলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে। এখানে অনেক কিছু আছে।তাই শুধু রাজনৈতিক মুক্তিতেই সব সুফল বয়ে আনতে পারবে না। সেক্ষেত্রেই দেশকে সামগ্রিকভাবে সম্ভাবনাময় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।তাই অর্থনৈতিক মুক্তি আনতে হবে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার মাধ্যমে।
সিরাজগঞ্জবাসীর উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি আশেপাশে দেখি তাহলে দেখতে পাবো চৌহালী, বেলকুচি,কামারখন্দের নাম আসলেই চলে আসে তাঁত শিল্পের কথা। বিএনপি ইনশাআল্লাহ তাঁত শিল্পের পাশে এসে দাঁড়াবে। সারা পৃথিবীতে এই শিল্প কিভাবে ছড়িয়ে যায় সেবিষয়ে গুরুত্ব দেবো আমরা।
তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল কৃষি, পাট শিল্প, তাঁত শিল্পকে সমৃদ্ধ করার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিল।মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের মানুুষের ভোটে ক্ষমতায় আসলে
স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বিশেষ অতিথি হিসেবে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও জেলা বিএনপির সভানেত্রী রোমানা মাহমুদ।
আমিরুল ইসলাম খান আলিম বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদকের সভাপতিত্বে এনায়েতপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব মঞ্জু সিকদার ও বেলকুচি উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বনি আমিনের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা ডা. এমএ মুহিত, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আলতাব প্রামাণিক, বেলকুচি উপজেলার আহবায়ক নুরুল ইসলাম গোলাম,চৌহালী উপজেলার সভাপতি জাহিদ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক ময়নাল ক্বারী, এনায়েতপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক মন্টু সরকার,স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল কায়েস, জেলা যুবদলের সভাপতি মির্জা আব্দুল জব্বার বাবু,মহিলা দলের সভানেত্রী সাবিনা ইয়াসমিন হাসি ও ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ প্রমুখ।
সুত্রঃ বাসস