৪ নভেম্বর ( সোমবার) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন বাদে দশটি সিটি কর্পোরেশনের জনগনের স্বার্থে ফ্যাসিবাদ বিরোধী কাউন্সিলরদের পূনর্বহালের দাবিতে কাউন্সিলর সমাবেশ অনুষ্ঠিত।
এ অনুষ্ঠানে ওয়ার্ড নং-০১, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন, কুমিল্লা জনাব কাজী গোলাম কীবরিয়া সাবেক কাউন্সিলরের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, প্রধান অতিথিঃ জনাব ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশ সিটি কর্পোরেশন কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর এসোসিয়েশন। বিশেষ অতিথি: জনাব খুরশীদ আলম সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন। বিশেষ অতিথি: জনাব সরদার শামস্ আল-মামুন (চাষী মামুন) এই চিন্তক ও গণসংগঠক এবং প্রধান সমন্বয়ক যুক্ত ফোরাম। বিশেষ অতিথিঃ জনাব এম মোশারফ হোসাইন ধায়ার সম্পাদক, কুমিল্লা সাংবাদিক ফোরাম এবং সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন। জনাব এ্যাডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম খান জাহনর্জার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও সাবেক কাউন্সিলর, ওয়ার্ড নং-৩০, গাজীপুর সিটি কর্পেরেশন ও আহবায়ক, বাংলাদেশ সিটি কর্পোরেশন কেন্দ্রীয় কাউন্সিলর এসোসিয়েশন।
প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ্য কউন্সিলরদের দাবী সমূহঃ
বিগত ১৫ বছর আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নানা ভাবে নির্যাতিত হয়ে বৈষ্যমের শিকার হয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তারা ছাত্রদের পক্ষে ছিল এবং আন্দোলন চলাকানীন সময়েও আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের নানা জুলুম ও অত্যাচারের শিকার হয়েছে । তারপরও তারা স্ব-শরীরে এই আন্দোলনে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহন করে। অন্তর্বতীকালীন সরকারের সময় এসে ও পুনরায় তারা বৈষম্যের শিকার হই। তারা অন্তবর্তীকালীন সরকারের সাথে কাজ করতে ইচ্ছুক। নিম্নোক্ত কারণ গুলোর কারণে আমাদেরকে পুনরায় স্ব স্ব পদে বহাল করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে
১। সকল কাউন্সিলর সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছেন।
২। নির্বাচিত কাউন্সিলরগণ প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের অভিভাবক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
৩। কাউন্সিলরদের পরিপূরক নির্বাচিত কাউন্সিলরই হতে পারে, অন্য কেউ নয়।
৪। একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি শুধুমাত্র দাপ্তরিক কাজ করেন না, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের প্রতিটি বিষয়ে তদারকি ও সমাধান করেন।
৫। কাউন্সিলরগণ শুধুমাত্র সরকারের যত ধরনের নাগরিক সেবা আছে এবং সরকার নাগরিকদের জন্য যে ধরনের সুযোগ সুবিধা দিতে চাই, সেগুলোই বাস্তবায়ন করাই কাউন্সিলরদের কাজ।
৬। একজন কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার পুরো মেয়াদ পর্যন্ত কাউন্সিলর হিসাবে যে দায়িত্ব প্রাপ্ত হন, সেই দায়িত্ব পালন করেন, এখানে কোন প্রকার ছুটি বা ব্যাক্তি স্বাধীনতা থাকে না। যখন যে অবস্থায় ওয়ার্ড বাসীর প্রয়োজন হয় তখনই সে বিষয়ে কাউন্সিলরদের পদক্ষেপ নিতে হয়।
৭। কাউন্সিলরগণ স্ব-স্ব ওয়ার্ডের আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সর্বাথক ভূমিকা পালন করে থাকেন।
৮। দেশের যে কোন জরুরী অবস্থায় সরকারী আদেশ অনুযায়ী কাউন্সিলরগণ সেই আদেশ পালন করে থাকেন।
৯। কাউন্সিলরগনদের নাগরিক সেবা শুধুমাত্র স্বাক্ষরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নাগরিকদের প্রত্যেকটি সমস্য কাউন্সিলরগণ স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি সমাধান করে থাকেন।সূত্রঃ
১০
সরকারের যতগুলো ওয়ার্ড পর্যায়ে সেবা মূলক কার্যক্রম আছে সেগুলো দেখভাল করে থাকেন। যেমন-ওএমএস, টিসিবি, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিশুভাতা, সকল প্রকার টাকা কার্যক্রম ও সরকারী নির্দেশ অনুযায়ী সকল প্রকার সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।
১১। কাউন্সিলরগণ বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। যেমন- সিডিসি, পিসক্লাব, রুপান্তর, ওয়ার্ড ভিশন, আশ্রয় ফাউন্ডেশন ও ব্রাকসহ বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন।
১২
একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি দলমত নির্বিশেষে সকলের জন্য সেবা দিয়ে থাকেন।
১৩। কাউন্সিলরদের অপাসরনের পর থেকে নাগরিক সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট হয়েছে। যার ফলে ওয়ার্ডবাসী নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন যাপন করছে। ওয়ার্ডবাসী তাদের চাহিদা অনুযায়ী নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। যার ফলে সরকারের ভাব- মূর্তি নগরবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আমরা এই সরকারের সফলতা দেখতে চাই। এই সরকারের ভাব-মূর্তি ব্যর্থতা দেখতে চাই না। তাই সরকারের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল কার্যক্রম করার জন্য অপসারণকৃত কাউন্সিলরদের পুনরায় বহাল করে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।
১৪। কাউন্সিলরদের অপসারণের সুযোগে রোহিঙ্গারা ভোটার হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
১৫। কাউন্সিলরদের পুনর্বহাল করা হলে তারা এই সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিবে এই ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
১৬। ঢাকা উঃ এবং ঢাকা দঃ সিটি কর্পোরেশনেকে ব্যাতিত বাকী ১০ টি সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরদেরকে পূনর্বহাল করার জন্য বিনয়ের সহিত সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি। ১০ টি সিটি কর্পোরেশনের ৫২৪ জন কাউন্সিলর বর্তমান সরকারের সকল কাজ ও সিদ্ধান্তে ঐক্যমত পোষণ করে এবং আগামীতে সকল উন্নয়নমূলক কাজে অংশীদার হতে চায়।
১৭। কাউন্সিলরদের অপসারণের পর দেশে বর্তমানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা সুযোগে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ইভটিজিং ও মাদক সেবণ ও কেনাবেচা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমাতবস্থায় কাউন্সিলরদের পূনর্বহাল অতীব জরুরী।