লেখক :- সাজিয়া আফরিন
জীবনে পড়াশোনা করে প্রথম হওয়াই কী একমাত্র লক্ষ্য। নাকি মানুষের মতো মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা উত্তম। মাবাবার একটাই কথা সারাদিন রাত শুধু পড়ো আর পড়ো। ভালো করে পড়াশোনা না করলে কী ফাস্ট হতে পারবে। ফাস্ট না হলে লজ্জায় কারো সামনে মুখ দেখাতে পারব না। স্কুলে পড়ার চাপ, দুপুরে বাসায় মেডামের পড়া। বিকেল থেকে শুরু কোচিংয়ে দৌড়ানো। দম ফেলার নেই স্বস্তি। সারাদিনের ক্লান্ত শরীরে মাঝ রাত পর্যন্ত পড়ালেখা। কানের কাছে একটি ননস্টপ রেডিও অনর্গল চলতে থাকা। বিনোদন আর পরিবারের সাথে কোয়ালিটি টাইম পাস নো অফশন। সেটা আবার কী? শান্তিতে খাবার খাওয়ার কী উপায় বা সময় আছে। এতো এতো বইয়ের ভাঁজে শৈশবের স্মৃতিময় দিনগুলো আজ যেন বইয়ে আঁকা ছবির মতো। জীবনে পড়াশোনা করে হয়তো বা ফাস্ট হওয়া যাবে। কিন্তু জীবনে সেই শৈশবের দিনগুলো কী ফিরে পাবে? সামাজিকতা ও মনুষ্যত্বের বিবেকবোধের শিক্ষা কী পরিবার কখনো দিয়েছে। বাচ্চা বড় হয়ে আদৌ মানুষের মতো মানুষ হবে কী? অনেক লোকের ভীড়ে যখন নিজেকে গুটিয়ে রাখে, তার নাম কী সামাজিকতা। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যখন নিজেকে মানিয়ে চলতে পারে না, এর নাম কী সুশিক্ষা। পারিবারিক কাজে মাবাবাকে সাহায্য করার মানসিকতা আদৌ কী তৈরি হবে এদের মধ্যে। পরিবর্তন হাওয়ায় সত্যি কী নিজেকে মানিয়ে চলার যোগ্যতা কী আছে। বইয়ের পড়ার গণ্ডি পেরিয়ে ও যে আরও কিছু শিক্ষা জীবনে থাকতে হবে, তাঁর পরিবেশ কী তৈরি করে দিয়েছি কখনো ওদের মধ্যে ভেবে দেখেছি কী? গ্রাম্য পরিবেশে কাদা ধুলোবালি মেখে জীবনে কিছু শিখেছি, তাঁর কী কোন মূল্য নেই জীবনে। একা একা স্কুলে গিয়েছি, নিজের কাজ নিজে করেছি। এর মধ্যে কোন আনন্দ আছে কী? সারাক্ষণ মাথায় মধ্যে শুধু পড়ার চাপ নিয়ে শান্তিতে একটু ঘুম হয়েছি কী? নিজেদের সামাজিক পদমর্যাদা আর আত্মগরিমায় বাচ্চার মানসিকতা কোন দিকে ঠেলে দিয়েছি কখনো ভেবেছি কী? শুধু ধনীর সন্তান পড়াশোনা করে ফাস্ট হবে গরীরের সন্তান পিছনে থাকবে, এটাই কী মানবতা। খেলার সময় না দিয়ে পড়তে বসিয়ে রাখা, আত্মীয় স্বজনের সাথে মিশতে না দিয়ে পড়ার টেবিলে বসিয়ে রাখা, এর থেকে সে কী শিখছে, কখনো ভেবেছি কী? অনেক বাচ্চা বাবামায়ের ভয়ে নিজেদের মনের দুখ সুখের কথাগুলো প্রকাশ করতে পারে না। এর ফলে ওদের মনের প্রতিক্রিয়া দিনদিন কোনদিকে মোড় নিচ্ছে কখনো ভেবেছি কী? সুস্থ পরিবেশে হাসিখুশি সময়ের আবর্তে কিছু শিক্ষা দেওয়া যায়, কখনো ভেবে দেখেছি কী? জীবনে প্রথম হওয়া নাকি মানুষের মতো মানুষ হয়ে সন্মানের সাথে বেঁচে থাকা কোনটা বেশি গর্বের বা আনন্দের।