বুধবার , ১৩ মে ২০২৬ , রাত ১২:২৩
ব্রেকিং নিউজ

নরসিংদীতে মাদরাসা শিক্ষকের প্রহারে ৭ বছরের শিশু রক্তাক্ত, হাসপাতালে ভর্তি—অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি।

রিপোর্টার : বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : শনিবার , ৪ এপ্রিল ২০২৬ , দুপুর ০১:৫০

নরসিংদীতে এক মাদরাসা শিক্ষকের নির্মম প্রহারে ৭ বছর বয়সী এক শিশু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে নরসিংদী শহরের ভেলানগর জেলখানা মোড় এলাকায় অবস্থিত মাদরাসাতুল আবরার এরাবিয়া মাদরাসাতে। অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিশুটিকে বেত দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহত শিশুটির নাম মুজাহিদ (৭)। সে ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী। শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, গোসল করতে অনীহা প্রকাশ করায় মাদরাসার শিক্ষক নাজমুল ইসলাম তাকে বেত দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। মারধরের একপর্যায়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতের চিহ্ন পড়ে এবং চামড়া ফেটে রক্ত বের হতে থাকে।

শিশুটি আরও অভিযোগ করে জানায়, ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা নিয়মিত খোঁজ নিতে মাদরাসায় গেলে তার শরীরে অস্বাভাবিক দাগ দেখতে পান। পরে বিস্তারিত জানতে চাইলে শিশুটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরিবারের সদস্যরা তার শরীরজুড়ে বেতের দাগ ও রক্তাক্ত ক্ষত দেখতে পেয়ে দ্রুত তাকে হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আহত শিশুটির চাচা বলেন,

“এতদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষকদের নির্যাতনের খবর দেখেছি, কিন্তু এবার নিজের পরিবারের শিশুই তার শিকার হয়েছে। কিছু শিক্ষকের এমন আচরণের কারণে পুরো আলেম সমাজের বদনাম হয়। একটি ছোট শিশুকে এভাবে নির্যাতন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

ঘটনার পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, একটি শিশুর গোসল না করার মতো সামান্য ঘটনায় এভাবে নির্মম শাস্তি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অভিভাবকদের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর মাদরাসা এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেক অভিভাবক এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

 




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত। কোড নং :- ৩৪৬১