মঙ্গলবার , ১২ মে ২০২৬ , রাত ১১:৪৪
ব্রেকিং নিউজ

হারিয়ে যাচ্ছে খেঁজুর গাছ, মানুষ ভুলে যাচ্ছে রসের স্বাদ

রিপোর্টার : মোঃ আবদুল্লাহ (বুড়িচং) কুমিল্লা:
প্রকাশ : সোমবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ , রাত ০৮:৪১
শীত মৌসুমের শুরুতে গ্রাম বাংলার পাড়া-গাঁয়ে খেঁজুর গাছ থেকে সুস্বাদু রস সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত থাকতেন গাছিরা (গাছ পরিচর্যাকারীরা)।

গ্রামীণ সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয় খেঁজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের ধুম। এখন আর গ্রামগঞ্জে তেমনটা দেখা যায় না। আগের মত মিলছেনা খেঁজুরের রস। শহরায়নের আগ্রাসনে প্রকৃতির ঐতিহ্য খেঁজুর গাছ দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে খেঁজুর গাছ তত কমছে, দেখা মিলছেনা রসের। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের মধ্যে কাঁধে রসের হাড়ি নিয়ে গাছিদের হাঁকডাক শোনা যায় না আগের মতো। এমনকি রস বিক্রেতাদের বাড়ি গিয়েও রস পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তাই জমে উঠছেনা শীতের সকালে রোদে বসে আয়েশ করে পিঠা-পায়েস খাওয়া। সরেজমিনে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় বিভিন্ন  এলাকা ঘুরে দেখা ও জানা গেছে, কোনো কোনো এলাকায় কিছু কিছু খেঁজুর গাছ রয়েছে। আগে যে সব স্থানে রাস্তার দুই পাশে সারিসারি  অসংখ্য খেঁজুর গাছ ছিল সেটা এখন নেই বললেই চলে।

গ্রামের কোনো কোনো সড়কের পাশে কিছু গাছ থাকলেও তাতে তেমন রস হয় না বলে জানান রস সংগ্রহকারী গাছিরা। গাছিরা পেশা পরিবর্তনের ফলে আগের মতো আর রস সংগ্রহ করা হয়না। সময়ের সাথে সাথে একদিকে যেমন খেঁজুর গাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে, অন্যদিকে অভিজ্ঞদের অভাবে গাছী তৈরী হচ্ছে না। একপ্রকার মানুষ ভুলতে বসেছে খেঁজুর গাছের রসের স্বাদ।
এক সময়ে শীত মৌসুমের শীত আসার সাথে সাথে খেঁজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ত গাছিরা। ভোরের কুয়াশা অতিক্রম করে গ্রামগঞ্জের গাছিরা কাছি (মোটা দড়ি), বেতের ঝুড়ি কোমরে বেঁধে ছুটে চলতেন গ্রামের মেঠ পথ ধরে। ঝুড়ির ভেতরে থাকত কয়েক রকমের গাছ কাটা দা, বালি রাখার চুঙ্গা, রসের হাঁড়ি বা ঠিলা এমনকি দায়ে ধার দেয়ার বিভিন্ন প্রকারের সরঞ্জম। নাজমুল হাসান বলেন গভীর রাতে হাঁড়ি থেকে চুরি করে রস খাওয়া অনেকের শৈশবের স্মৃতি অম্লান হয়ে আছে আজো। গ্রামীণ মেঠোপথ আর খেঁজুর গাছের সাঁরি আর গাছে রসের হাঁড়ি আজ আর দেখা মিলে না। দেখা মিলে না পাখি আর কীট-পতঙ্গের গাছে গাছে ঘুরে রস খাওয়ার দৃশ্য।
বর্তমানে খেঁজুর রসের চাহিদা অনেক বেশি। ১লিটার রস ১০০-১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 
রাস্তার পাশে, জমির আইল, পরিত্যাক্ত জমিতে বিনা পরিচর্যায় যে কোন ধরনের মাটিতে এ প্রজাতির গাছ ভালো জন্মায়। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেঁজুরগাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। আগের মতো গ্রামের রাস্তার দু’পাশে সারি সারি খেঁজুর গাছ আর নেই। যে হারে খেঁজুরগাছ নিধন হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ হয় না। গ্রামের রাস্তা গুলো সংস্কার ও নতুন করে খেঁজুর গাছ রোপনে মানুষের আগ্রহের অভাবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেঁজুর গাছ ও খেঁজুরের রস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। 
মো. নাসির উদ্দীন ও মো. নূর হোসেন আজ থেকে ১০ বছর আগেও গাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ রস সংগ্রহ হতো।
এসময় বিভিন্ন ধরনের পাখিরা গাছে ভিড় করে রস খাওয়ার জন্য। আগে এসব রসের হাড়ি মান ভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হতো। 
এখন যেহেতু রসের চাহিদা বেশি তাই এর দামও বেশ ভালো পান।
এখন হাড়ি ৪০০ -৫০০টায় বিক্রি হয়। তবে গাছ কমে যাওয়াটাই তাদের সংকট। মোঃ জামাল, মোঃ আরিফ সহ কয়েকজন রস গ্রাহক জানান, আগের তুলনায় বেশি টাকায়ও মিলছে না চাহিদামত রস। গ্রাম এখন শহুরে ছোঁয়া। শীতের পিঠা ও রসের গুড় এখন আর খাওয়া হয় না বললেই চলে। নতুন প্রজন্ম হয়তো খেঁজুর গাছ ও খেঁজুরের রসের কথা ভুলেই যাবে। রস ব্যবসায়ী আলম  বলেন, একসময় শীতের মৌসুমে তিনি শতাধিক মণ  খেছুরের রস করতেন। কিন্তু বর্তমানে রস সংকটের৷ তাই এ পেশা বদলানোর কথা চিন্তা করছেন তিনি।
 




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত। কোড নং :- ৩৪৬১