মঙ্গলবার , ১২ মে ২০২৬ , রাত ১১:০৮
ব্রেকিং নিউজ

গল্প পরিচয়ে পরিণতি

রিপোর্টার : কবি ,মোঃ রুহুল আমিন
প্রকাশ : বৃহঃস্পতিবার , ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ , দুপুর ১২:৫৬

মো: মামুন মোল্যা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে বসে আছি কিন্তু মাথায় বিষম চিন্তা,ভর্তি পরীক্ষায় কি প্রশ্ন আসবে? পড়ছি তো কম নয়, তার পরও ভয়ে গলা শুকায় যাচ্ছে। মা-বাবার স্বপ্ন কি পূরণ করতে পারবো? আকাশ পানে চেয়ে দেখি, নীল গগনে ধূসর মেঘের ছুটাছুটি। হালকা হওয়ায় ঢাকার আকাশে, চিল ডানা মেলেছে শিকারের আশায়। ওদের দেখে বিলুপ্ত সাহস খুঁজে পেলাম। কারণ ওদের দেখেও মনে হয় যেন ওরাও চিন্তার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। এই এলোমেলো চিন্তার মধ্যে হঠাৎ এক ফুটন্ত গোলাপের উপস্থিতি। অদ্ভুত তার হাস্য উজ্জ্বল বদন খানা। চোখের পাতায় প্রীতির পদ্ম পুষ্প ফুটেছে। সৌরভ ছড়িয়েছে স্বচ্ছ জলে। অবাক চোখে চেয়ে চেয়ে, ভাবনার গহীনে তাকে নিয়ে কাব্য রচনায় ব্যস্ত। ঠিক সেই সময় তরুণী বলে উঠিল; কে আপনি মহাশয়? দেখছেন না কাব্য রচনায় ব্যস্ত? আপনি তো পলকহীন চোখে চেয়ে আছেন আমার পানে; তবে কাব্য রচনা করছেন কোথায়? আপনি কি জানেন না আমি কবি? ও তাই নাকি? হ্যাঁ! আমাকে নিয়ে একটি কবিতা লেখে শুনান দেখি। সত্যি আপনাকে নিয়ে কবিতা লিখব? আপনি আমার কবিতা শুনবেন? হ্যাঁ আপনি লিখবেন এবং আপনার মুখ থেকে আবৃত্তি শুনব। একটু বসেন না,আমার পাশে। আপনাকে দেখি দুই নয়ন ভরে,ছবি আঁকি হৃদয়ের অ্যালবামে। সুগন্ধ ঝরুক প্রীতির বাগিচায়। বসন্তের হাওয়া কিংবা বৈশাখের হাওয়া কাব্যের এক একটি সৈনিক। এদের ছন্দে ছন্দে সঙ্গমে লেখব তোমাকে নিয়ে বাক্য। ঠিক আছে কবি লেখেন তো।

কবিতা

[[এক হৃদয়ে বহু পথ]]

স্বপ্ন ছিল না,মস্ত বড় ব্যক্তি হয়ে
 মেঘের আঘাতে রক্তে রক্তাক্ত হব!
পাখির ডানায় উন্মুক্ত গগনে
বিচারণ ;সে এক অদৃশ্য অদ্ভুত অনুভূতি!
লেখছি স্বাধীন শব্দে;
 আবিষ্কার করছি সোনা মুক্তা হীরার হিমালয়।
লেখা পড়া করছি বেশ!
ছিলাম মফস্বলে মন্দ কি তাতে?
বেশ তো কেটেছে অদেখা লেনদেন;
কত শত কবিতার ছন্দ কেটেছি ফোনে
 একই চাঁদের দিকে চেয়ে চেয়ে...
 চিন্তার সাগরে হাবুডুবু;গভীরে অদ্ভুত শান্তি!
 পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ফুলের বাগিচায়
 কিংবা অন্য কোথায় ও কি দেখা যায়?
মা-বাবার স্বপ্নের জোয়াল কাঁদে নিয়ে
হাল চাষে এই কলেজ ক্যাম্পাসে!
 হঠাৎ দর্শন!
তোমার চোখে প্রীতির বন্যা,ঠোঁটে পুষ্পের হাসি
বসন্ত কোকিলের মত সুমিষ্ট কণ্ঠ
বন্দি করেছি কবিতার শব্দের রঙ্গ মঞ্চে!
বসন্তের পাখি উড়াল দিলে সেকি আর ফেরে?
  রক্তাক্ত সূর্য ডুবে যায় যায়
তবুও সে তার পথ চেয়ে চেয়ে রয়।

কি স্নিগ্ধ প্রীতির কবিতা কিন্তু; কিন্তু কি? আপনি তো আকাশে মেঘের ঘনঘটা ছাড়াই; ঝড় উঠিয়ে ঘন বরষায় ভাসিয়ে দিলেন কবিতার শিরা উপশিরায়? একটা প্রশ্ন করবো? যদি কিছু মনে না করেন! অবশ্যই অবশ্যই করবেন। মনে করার কি আছে! শুধু কি আমাকে বন্দি করেছেন কবিতার শব্দের রঙ্গ মঞ্চে! নাকি হৃদয় রঙ্গমঞ্চে ও? থাক না; না বলা কথা!একটু আড়ালেই। আড়াল থেকেই না হয় জেনে নিয়েন। এ কথা না হয় পরে একদিন বলবো। সত্যি একটা কথা বলবো? জি বলেন। দূর থেকে দেখে ভেবেছিলাম আপনি যাযাবর, কাছে এসে কথা বলে মনে হয়েছিল আপনি উন্মত্ত। এখন কি মনে হয় প্রিয়? এখন মনে হচ্ছে আপনি বড্ড জ্ঞানী,এবং কবিতা লেখার পাগল। ভুল বললে কিন্তু ? কোথায় ভুল বলছি? আমি কিন্তু ভালবাসা পাবার কাঙ্গাল। যেমন? আমি একটি মেয়ের জন্য ভীষণ রকম পাগল। আপনার অঙ্গ ভঙ্গিতে তেমন কিছু দেখছি না যে ? এই চোখের পানে চেয়ে দেখ, এই সাগরে কার নৌকা ভাসে। কার জন্য এই সাগরে ঝড় উঠেছে? কার ভালবাসা পাওয়ার জন্য পাগল? চিন্তায় মগ্ন মেয়েটি,মুচকি এসে বলিল,কবি; কিন্তু কবিতার চেয়ে কম সুদর্শন নয়। পরীক্ষার সময় হল। পরীক্ষা শেষ হতে কত খুঁজাখুঁজি। হারিয়ে যায় মনের অজান্তে। তার দেখা পাবো কোন একদিন। সেই দিনের দীর্ঘ অপেক্ষায়। মা বাবার স্বপ্ন পূরণ হল। ভার্সিটিতে এসে তাকে কত খুঁজাখুঁজি। এক সাগর হতাশা বক্ষে নিয়ে  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বসে আছি। হঠাৎ চেয়ে দেখি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পূর্ব পাশে ফুটেছে কৃষ্ণচূড়ার ফুল আর ফুল। গাছের নিচে বসে আছে এক ঝাঁক প্রেমিক-প্রেমিকা।  কি অদ্ভুত দৃশ্য! কৃষ্ণচূড়া ফুলের সাথে নিজের সাদৃশ্য শেষমেশ খুঁজে পায়।

লেখা ২-৬-২৩

 




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত। কোড নং :- ৩৪৬১