কবি :-
রাহেলা আক্তার
বাবা নামের বটবৃক্ষটির, সুশীতল ছায়ায়
বর্ষপঞ্জি আঁকড়ে ধরে কঞ্চির মায়ায়।
শতবর্ষী বৃক্ষটি পরিপূর্ণ ফুলে ফলের রসে
কঞ্চির মঞ্জুরি ছিড়লে বৃক্ষ কাঁদে আঠালো কষে।
কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে, বৃক্ষটি যায় উপড়ে
ডালপালা, ফুল-ফল সবই যায় মুখ থুবড়ে।
কেউ কাটে ডালপালা,কেউ ছিঁড়ে ফুল-ফল
উপড়ে যাওয়া বৃক্ষের মূলে কেউ দেয়না জল।
বাবা নামের বটবৃক্ষটি, গত হলে মাথার উপর
পাড়াপড়শি স্বজনরা সবে খুঁড়বে তার কবর।
বরই পাতার গরম জলে জ্বালায় আগর বাতি
কূল কিনারহীন সিন্দু তীরে, কাটায় সন্তান দিবারাতি।
চাচা-জেঠা, মাসি-পিসি সবাই থাকে আগে
সহযোগিতার হাত বাড়াতে চড়ে যায় রাগে।
কতো মেজবান খাবায় তারা, দেখি রোজরোজ
অনাহারে কাঁদলেও কেউ করায় না আর ভোজ।
বাবার বিয়োগান্তে দেয় সবাই মিছে সান্ত্বনা
পিতৃহীন এই জীবনে পেলাম শত লাঞ্চনা।
বাবার মতো আপন কেউ নাই এই দুনিয়াতে
এতিম দুঃখীর কষ্টের দান, বিধি দিও আখিরাতে।