লেখক :-
রেশম লতা
কোনো একটা গ্রাম যা শহর থেকে বহু দূরে। বলছি কিছু কাল আগের এক ঘটনা। ওই গ্রামে ছিল ঘনবসতি। মূর্খ লোকজন। মাত্র আধুনিকায়নের শব্দটা বাতাসে উড়ছে উড়ছে ভাব। দু'একটা সরকারি স্কুল-প্রতিষ্ঠান আছে তবে সব ফাঁকা। মূর্খরা তো আর ওসব বুঝেনা। শিক্ষার উপকরণ আছে কিন্তু শিক্ষিত মানুষ নেই। সেসব মানুষদের বন্য জীবন ছেড়ে আধুনিকতার গান শোনানোর জন্য কেউ একজন এগিয়ে এলো। চেষ্টা করলো খুব। এগিয়েওছে কিছু। কিন্তু শিক্ষিতদের মধ্যে পুরুষই বেশি। নারীরা কেমন যেন ভীতু। সংসার সামলানো নিয়ে ব্যস্ত। ছোট ছোট মেয়েদের ঘর গোছানো, রান্না সামগ্রীর মশলার নাম শেখানোতে অস্থির। প্রায় সব বয়সী মেয়ে-নারীরাই কুয়োর ব্যাঙ। হঠাৎ ৪০ বছর বয়স্কা এক মহিলা আগন্তুক ওই গ্রামে উপস্থিত। কিছু একটা পরিচয়ের সূত্র ধরে আগমন। মহিলা ভেল্কি দেখাতে ভীষণ পারদর্শী। সে দেখল গ্রামের মেয়ে-নারীরা সভ্যতা থেকে পিছনে। শিক্ষা থেকে দূরে। তাই এ থেকে উৎরাইয়ের জন্য কয়েকদিনের মধ্যে ভেল্কিবাজী দেখাতে শুরু করল। কি যেন একটা ফুঁকে দিল আর গ্রামের সকল অন্দর মহলের মেয়ে-নারীরা ঘর হতে বেরতে শুরু করে দিল। মহিলা পাঠাগার বসাল। মেয়ে-নারীরা দলে দলে যোগ দিতে লাগলো। তারা পরিবারের, পুরুষের কোনো বারণই শুনল না। কি চমৎকার সকলেই শিক্ষিত হয়ে গেল। আধুনিকতার যে বাতাস বইছিল সেটাকে ধরে মহিলাটা কেমন যেন বশ মানিয়ে ফেলল। আধুনিকতার জোয়ারে ভাসছে গ্রামটা। মুখে মুখে জয়োধ্বনি মহিলার নামে। এবার ছেলে পুরুষরাও ভিড়ল। কি এক জাদু মহিলার চোখে, মুখে, ঠোঁটে। কি মধুর কণ্ঠস্বর! মহিলার মোহে পুরো গ্রাম মোহচ্ছন্ন। সেই যে কেউ একজন ছিল ওই লোকটা গ্রামবাসীকে কিছু একটা বুঝাতে চাইল। কিন্তু কে শুনে কার কথা। সবাই মহিলা বলতে অজ্ঞান। শ্যামদেহীর মহিলাটা ঠিক যেন দেবী। গ্রামের একদল বুড়োবুড়িরা ইতিমধ্যেই পুজোর ডালায় অর্ঘ্য সাজিয়ে এই দেবীর নামে পূজা দিতে শুরু করল। আরেকদল তার নামে বানাল মসজিদ। প্রত্যেকদিন মসজিদের মাইকে তার জন্য আলাদা করে মোনাজাত করতে লাগল। বেশ চলছে মূর্খ গ্রামে শিক্ষিতের হাওয়া। এভাবেই কাটছে তাদের পাঠাগারের শিক্ষিতের পাঠদান। কিন্তু কয়েক বছর পর এক আচানক ঘটনা ঘটতে লাগল। একে একে গ্রামের মেয়ে-নারীরা গর্ভবতী হতে শুরু করল। প্রথমে বিষয়টা স্বাভাবিক মনে হলেও পড়ে তা অস্বাভাবিক হতে লাগল। মহিলার নির্দেশে গ্রামের বখাটে চোর ছোকরাদের ধরে ধরে জিজ্ঞেসাবাদ করা হল। কিন্তু গ্রামবাসী এর উত্তর পেল না। পাবেই বা কি করে ওই চোর ডাকাতরাও উদ্বিগ্ন কেননা তাদের ঘরের মেয়ে নারীরাও গর্ভবতী। এবার মেয়ে নারীদের জিজ্ঞাসাবাদ। পুরো গ্রামবাসী হাজির পঞ্চায়েতে। কিন্তু কেউ কিছুই বলতে পারেনা। সবাই চুপ। আবার নানা জনের নানা কথা কেউ বলে ঈশ্বরের আশীর্বাদ এটা এবং এ থেকে যেসব বাচ্চা জন্ম নিবে সেসব অলৌকিক ক্ষমতা পাবে। কেউ বলে বছর খানেক আগে নদীর ধারে যে পাগলিটার লাশ পড়েছিল কেউ সেটাকে দাহ কিংবা কবর দেয়নি তার আত্মার অভিশাপ বলে মনে করছে। এবার ওই লোকটার মনে কিছু সমীকরণ আর সন্দেহের সৃষ্টি হল তাই সে একটা গর্ভবতী কিশোরী মেয়েকে শহরের বড় ডাক্তার হতে টেস্ট করানোর চিন্তা করল। প্রস্তাব দিল। কিন্তু মেয়ে-নারীদের শরীর দেখানো পাপ বলে তারা ডাক্তারের কাছে যেতে দিল না। তবে কিছুদিন পর যখন লোকটার নাবালিকা মেয়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে তখন সে এই বিষয়টা চেপে যায়। কাউকে জানায় না। একদিন নিজের বড় রকমের অসুস্থতার নাম করে একমাত্র মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে শহরের দিকে রওনা হয়। পথে গ্রামের মোড়লের সাথে দেখা। মোড়ল শহরে যাওয়ার ব্যাপারটা জানায় তাকে বাঁধা দিতে চেষ্টা করে কিন্তু লোকটা বলে তার দেখাশোনা করার জন্য মেয়েকে সঙ্গে নেয়া জরুরী। ডক্টর রিতা সৈকত শহরের নামকরা ডাক্তার। লোকটা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর ডক্টর রিতার এপয়েন্টমেন্ট পেল।ডক্টর রিতা বিভিন্ন টেস্ট করার পর লোকটাকে জানায় যে তার মেয়ে সত্যিই প্রেগন্যান্ট। সে খুব আশ্চর্য হয়ে এও বলে এটা শক্তিশালী কোনো বীর্যের কাজ কেননা তার এই মেয়ের সন্তান ধারণ ক্ষমতা নেই বললেই চলে। লোকটা এ কথা শুনে কেঁদে ফেলে। ডক্টর রিতাকে বিশ্বস্ত মনে করে গ্রামের সমস্ত ঘটনা বলে দেয়। প্রথমে ডক্টর রিতা অবাক হয়, বিশ্বাস করতে পারে না। ভাবে লোকটা হয়তো মিথ্যে বলছে। তাই তিনি তার মেয়ের সাথে একান্তে কথা বলতে চায়। মেয়েকে জিজ্ঞেসাবাদ করায় সে কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেনা। কোনো ছেলে কিংবা পুরুষ তাকে ছুঁয়নি বলে বার বার না না উচ্চারণ করতে থাকে। ডক্টর রিতা শেষে কৌশলে প্রশ্ন করে যে তার বাবা ছাড়াও তাকে কে বেশি আদর করে। তখন মেয়েটা কেউ একজনের নাম বলে চেহারার বর্ণনা এমন ভাবে দেয় যে ডক্টর রিতার পূর্ব স্মৃতি মনে পড়ে বেশ ভয় পেয়ে যায়। তিনি লোকটাকে এ বিষয়ে কিছু না বলে বিদায় দেয়। সপ্তাহ দু'য়েক পর লোকটা যখন গ্রামে ফিরে তখন অবাক হয়ে যায়। গ্রামে ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। একে একে গর্ভবতী সেই মেয়ে-নারীদের শরীর থেকে রক্ত বের হতে শুরু করে। মহিলা আগন্তুক পঞ্চায়েত ডাকে। সবাইকে শান্ত হতে বলে। ভয় না পেতে বলে। ঈশ্বরের কৃপা এটা জানায় এবং এও বলে ঈশ্বর কর্তৃক পরীক্ষা। মেয়ে-নারীদের গর্ভে অলৌকিক সন্তান দিয়েছেন বলে যারা অসন্তুষ্ট তাদের গর্ভপাত করিয়েও দিচ্ছেন মূলত এটা পরীক্ষা ছাড়া আর কিছুই নয়। সবাইও ঠিক তাই বলে মনে করে এবং কিছুদিন পর গ্রামের পরিবেশ একদম শান্ত হয়ে পড়ে। একদিন ভোরে মহিলা গ্রামের ভেতর কিছু অপরিচিত মুখ দেখে সে ভড়কে যায়। চিন্তায় ভেঙে পড়ে। অস্থিরতার ছাপ ভেসে ওঠে তার চোখে, মুখে। গ্রামের মানুষেরা তাকে আকস্মিক মন খারাপ দেখে তারাও দুঃখ প্রকাশ করে। দিনকে দিন মহিলার উদাসীনতা কেমন বাড়তে থাকল। সে কিছুতেই এটা বলতে নারাজ কারণ এতে গ্রামের মানুষেরা ভীষণ চিন্তায় পড়ে যাবে। একমাত্র তাদের চিন্তা করে সে নিজেই আরো অস্থির হয়ে পড়ে। কিন্তু গ্রামের মানুষ তাকে খুব জোর করে ধরায় সে অপরিচিত লোকদের আনাগোনার কথা তাদের জানিয়ে দেয়। এতে গ্রামবাসী ভীষণ অবাক হয়। উদ্বিগ্নতার ছাপ সকলের চোখে, মুখে। সবাই সতর্ক হয়। মহিলার নির্দেশে গ্রামের চারিদিকের শেষ সীমান্তে পাহাড়া বসানো হয়। এতে গ্রামের সকল বয়সের ছেলে পুরুষরা যোগ দেয়। এর কিছু দিন পর একদিন সকালে নদীর ধারে দু জোড়া গর্ভবতী লাশের খবর ঘাসফড়িংয়ের মত বাতাসে উড়তে শুরু করে। আর্তনাদের আওয়াজে গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। মহিলা আবারো পঞ্চায়েত ডাকে। গ্রামের বুড়োরাসহ প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষিতরা সকলেই চিন্তায় বিমগ্ন। সকলের বিমর্ষ মুখে ভয়ের ছাপ। কি হচ্ছে গ্রামে! এই নিয়ে পালাক্রমে তর্ক বিতর্ক হতেই থাকে। কিন্তু পঞ্চায়েত থেকে না কোনো সন্দেহ না কোনো সমাধান কিছুই উঠে আসে না। আশ্চর্যরকম ভাবে দুদিন পর আবারো সেই একই ঘটনা ঘটে। তবে এবার তিন জোড়া গর্ভবতীর লাশ নদীর পশ্চিম কোণে। নিঃস্তব্ধ গ্রাম। কিভাবে কি ঘটছে তার কোন হিস্যা তারা বের করতে পারে না। বুড়োদের একদল রাশিচক্র নিয়ে বসে। আরেকদল পূর্ব জনমের অন্য গ্রামের মানুষদের সাথে কোন শত্রুতা আছে কিনা তা বের করতে স্মৃতিচারণ করতে থাকে। তবে গ্রামে যে এত কিছু ঘটে যাচ্ছে তা কেউই পাশের গ্রামে কিংবা শহরে জানাচ্ছে না। কেননা মহিলা চায়না শান্তিপূর্ণ এই গ্রাম নিয়ে অন্য গ্রামের মানুষরা হুলুস্থুল শুরু করুক। হাসাহাসি করুক কিংবা সাহায্য করতে এগিয়ে আসুক। মহিলা সকলকে সাহস দেয়। সকলের মনে শক্তি, আনন্দ ফিরিয়ে আনতে উৎসবের আয়োজন করতে বলে। যেহেতু মহিলা তাদের দেবীতুল্য তাই তারা নিজেদের দুঃখ ভুলে দেবীকে খুশী করতে কোমর বেঁধে লেগে পড়ে। যেখানে পঞ্চায়েত বসে সেই জায়গাটায় উৎসবের কেন্দ্রস্থল নির্ধারণ করা হয়। বড় একটা আগুনের কুণ্ডলী জ্বালানোর মাধ্যমে সকল আয়োজন সম্পন্ন করে। বস্তুত উৎসবের মূল আমেজ এটাই। মধ্যরাতে সকল নারী পুরুষরা ক্লান্ত। যে যার বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে কিন্তু পথে সকলে পড়ে যায়। পরদিন ঘুম ভাঙলে সকলে নিজেদের রাস্তায় আবিষ্কার করে। কিন্তু চোখ কপালে উঠে তখন যখন দেখে ঐসব বাকী গর্ভবতী মেয়ে-নারীরা উধাও! এটা কিভাবে সম্ভব তা তারা কোনভাবেই হিসাব মিলাতে পারে না। মহিলা উপবাসে বসে। তার কান্নায় আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে। সে নিজেকে পাপী দাবী করে চিৎকার করতে থাকে। কেননা তার জন্যেই মেয়ে-নারীরা ঘর হতে বের হয়েছে। এসবের বলে বলে সে নিজেকে দায়ী করে অজোরে কাঁদতে থাকে। সকলে নিজেদের শোক ভুলে তার শোকে মাতম। তারা দেবীতুল্যকে হাসতে বলে। উপবাস ভাঙতে বলে। নচেৎ কেউ কেউ নিজেদের শেষ করে দিবে বলে পণও করে।
এর কয়েক মাস পর ওই লোকটার মেয়ের গর্ভবতী হওয়ার কথা গ্রামের সকলে জেনে যায়। যেহেতু বিষয়টা সে লুকিয়েছে এবং মিথ্যের আশ্রয় নিয়েছে সেহেতু তাকে প্রায়শ্চিত্ত করার জোর দাবী উঠে। মহিলা কোন মিথ্যাচার পছন্দ করে না। সে সত্যবাদী স্বর্গীয় দেবী। লোকটাকে তার মেয়ের গর্ভপাত করাতে বলে। কিন্তু লোকটা প্রাণ হত্যাকারী হতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। এ কথা মুখে মুখে রটে যায় যে ওই নাবালিকার গর্ভে যে সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে তা রাক্ষস হবে। এতে গ্রামবাসী ধ্বংস হয়ে যাবে। লোকটা মহিলার মুখের উপর চড়াও হয়ে কথা বললে তার আস্পর্ধা বেড়ে গেছে এবং সে দেবীতুল্যকে অপমান করেছে বলে তার শাস্তিস্বরূপ তাকে এবং তার পরিবারকে গ্রাম থেকে বের করে দেওয়ার ঘোষণা হয় আর সেদিনই তাদের গ্রাম থেকে বের করে দেয়। দীর্ঘ পথ হাঁটার ফলে গর্ভবতী নাবালিকা মেয়ের শরীরের অবস্থা মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে। লোকটা উপায়ান্তর না পেয়ে ড. রিতার কাছে নিয়ে যায়। ড. রিতা ট্রিটমেন্ট করার পর আরো একবার মেয়েটার সাথে একান্তে কথা বলতে চায়। এবারে তার প্রশ্ন শুনে মেয়েটা ভয়ে কাঁপতে শুরু করে এবং সে এই স্বীকারোক্তি দেয় যে পাঠাগারে সে অদ্ভূত কিছু একটা দেখেছিল এবং এর পর থেকে তার কেমন কেমন লাগা শুরু করেছিল। ড. রিতা সৈকত তাকে একটা ছবি দেখায় এবং নাবালিকা দেখে ভয় কাঁপতে কাঁপতে চোখ উল্টে মারা যায়। ড. রিতা নিশ্চিত হয়। সে তার স্বামী সৈকত রহমানকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত গ্রামের দিকে পা বাড়ায়। ড. রিতা এখন ছদ্মবেশী মুসাফির। গ্রামের পশ্চিম দিক হতে সে ঢুকে। এবং উত্তর পথে সৈকত চৌধুরী যে কি না ওই লোকটার দুঃসম্পর্কের মামতো ভাই হয়ে গ্রামে প্রবেশ করে। যেহেতু গ্রামে অপরিচিত মানুষ ঢোকা নিষেধ সেহেতু তাদের এই পন্থা বেছে নিতে হল। লোকটার মৃত গর্ভবতী নাবালিকা মেয়েকে কবর দেয়ায় যখন পুরো গ্রামবাসী ব্যস্ত তখন ড. রিতা বিশাল পাঠাগারে প্রবেশ করে। দীর্ঘ সময় পাঠাগার তল্লাশি করে অবশেষে লুকোনো একটি কক্ষ খুঁজে পায়। ভেতরে প্রবেশ করতেই সন্দেহ পাকাপোক্ত হয়। আগন্তুক কোনো মহিলা নয়, পুরুষ। যৌবনে যার সাথে ছিল তার পরিচয়। খুব কাছের। অল্প বয়েস। আবেগে বুঝেনি সত্য-মিথ্যের ফাঁরাক। যখন সত্য জেনেছে তখন নিরবে সরে গেছে ড. রিতা। পরে সব খোঁজ নিয়েছে। এ একটা রাক্ষস। নারীলোভী। আরো কয়েকটা শহর এভাবে খুনে, নষ্টামিতে ধ্বংস করে এখানে এসেছে। খুব চতুর তাই কেউ তাকে ধরতে পারে না। পুলিশ ব্যর্থ। এমন সূক্ষ্মভাবে ছদ্মবেশ নেয় যে তাকে চেনার কায়দা সম্ভবপর হয় না। একদম মুখোশধারী শুয়োর। একেক জায়গায় একেক পরিচয়ে ঢুকে। উদ্দেশ্য একটাই নারীর শরীর। এবার ড. রিতা পণ করে এই প্রতারক খুনীর গোপনাঙ্গ পঞ্চায়েতের বটগাছে ঝুলাবে।
সকল প্রমাণ তার হাতে------