মঙ্গলবার , ১২ মে ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৬:৪৮
ব্রেকিং নিউজ

নিঃসঙ্গতা

রিপোর্টার : কবি রুহুল আমিন
প্রকাশ : বৃহঃস্পতিবার , ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ , রাত ১১:০৩

লেখক :-

আফছানা খানম অথৈ

কবি হেলাল হাফিজ স্কুল জীবনে প্রেম পড়েন হেলেন নামক এক রমনীর।দু'তিনবছর ছুটিয়ে প্রেম করেন।বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন হেলেনের বাবার কাছে।হেলেনের বাবা রেগে আগুন।সামান্য স্কুল শিক্ষকের ছেলের সাথে মেয়েকে বিয়ে দেবেন?

না কিছুতেই না।

হেলেনকে বিয়ে দেন অনেক বড় ঘরে।হেলাল হাফিজ কিছুতেই তা মেনে নিতে পারলেন না।

অসহ্য যন্ত্রণায় ছটপট করলেন।দু'তিন দিন দানাপানি মুখে দিলেন না।কিছুতেই হেলেনকে ভুলতে পারছেন না।তার স্মৃতি মানসপটে এঁকে রাখলেন।

এদিকে হেলেনের ও একই অবস্থা।স্বামীর সংসার করছেন ঠিকই কিন্তু হেলাল হাফিজকে কিছুতেই ভুলতে পারছেন না।সংসার করছেন একজনের হৃদয়ের ধারণ করছেন অন্যজনকে। এটা যে একজন নারীর জন্য কতটা যন্ত্রণার তা সে ছাড়া কেউ বুঝে না।

হেলাল হাফিজ কতটা ভালোবাসতেন হেলেনকে তা বর্ণনা করার ভাষা নেই।তিনি হেলেনের বিরহ সইতে  পারলেন না।তাকে কতটা ভালোবাসেন তা কবিতার ভাষায় প্রকাশ করলেন।কবিতার বই লিখলেন,

"যে জলে আগুন জ্বলে" 

হেলেন স্বামীকে নিয়ে বইমেলায় গেলেন।অন্য বইয়ের সাথে সংগ্রহ করলেন হেলাল হাফিজের লেখা, যে জলে আগুন জ্বলে বইটিও।

বাসায় এসে পুরো বইটা পড়লেন।দেখলেন সমস্ত কবিতা তাকে নিয়ে লেখা।এবার বুঝতে পারলেন হেলাল হাফিজ তাকে কতটা ভালোবাসে তার বিরহে কতটা জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হচ্ছে।হেলেন তা সইতে পারলো না।মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লেন।শুধু তাই নয় কিছুদিন পর পাগল হয়ে গেলেন।পাগল স্ত্রী নিয়ে কোনো সুস্থ স্বামী কী সংসার করে?

করে না।

স্বামী তাকে তালাক দিলো।হেলেনের বাবা তাকে নিয়ে আসল। অনেক চিকিৎসা করলেন।কিন্তু কোনো সফলতা আসল না।সে পুরোপুরি পাগল হয়ে গেল।পাগল হলে মানুষ যা করে।যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে যাচ্ছে।নিরুপায় হয়ে বাবা তাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখলেন।

এদিকে কবি হেলাল হাফিজকে পারিবারিকভাবে ছাপ দেয়া হচ্ছে বিয়ে করার জন্য। তিনি কিছুতেই রাজী হচ্ছেন না।কিন্তু পরিবারের লোকজন মানলে তো?তাদের এককথা বিয়ে তোমাকে করতে হবেই?

হেলাল হাফিজ ভেবে দেখলেন এখানে থাকলে পরিবারের লোকজন বিয়ে করার জন্য বারবার ছাপ দিবে।তাই তিনি হোস্টেলে চলে গেলেন,যাতে সেখানে  একা থাকতে পারেন।কেউ তাকে ডিস্টার্ব না দেয়।

ঠিক তাই হলো তিনি সেখানে একাএকা নি:সঙ্গ জীবন কাটাচ্ছেন।পরিবারের লোকজন শত অনুরোধ করে তাকে ঘরে ফেরাতে পারেননি।তিনি যতদিন বেঁচে ছিলেন একাএকা হোস্টেলে ছিলেন।মরার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত।

তাকে যখন কোনো মিডিয়ার লোক জিজ্ঞেস করত,

আপনি বিয়ে করেননি কেনো?

উনি উত্তর দিতেন,

আমি বিয়ে করেনি সেটা ঠিক না।

বরং কেউ আমাকে বিয়ে করেনি।

তিনি হেলেনকে খুব ভালোবাসতেন।তার জাগায় তিনি কোনো নারীকে বসাতে পারেননি।তাকে ছাড়া কাউকে ভালোবাসতে পারেননি।সারাজীবন তার ভালোবাসা বুকে নিয়ে বেঁচে ছিলেন।তাই "নি:সঙ্গতাকে" বেঁচে নিয়ে সারাজীবন চোখের জল ফেলেছেন। জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হয়েছেন।কিন্তু কাউকে তা বুঝতে দেননি।

 




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত। কোড নং :- ৩৪৬১