বুধবার , ১৩ মে ২০২৬ , দুপুর ০১:২৭
ব্রেকিং নিউজ

গল্প:- বোনের শত্রু বোন

রিপোর্টার : কবি রুহুল আমিন
প্রকাশ : শুক্রবার , ২২ নভেম্বর ২০২৪ , বিকাল ০৪:১৩

লেখক :-

আফছানা খানম অথৈ

আজ আমি এমন একটা গল্প আপনাদের সামনে  উপস্থাপন করব।যা শুনলে আপনার স্থির থাকতে পারবেন না।গল্পটি হলো বোন কেনো বোনের শত্রু?

আমরা জীবনে অনেক গল্প শুনেছি।তবে বোন কেনো বোনের শত্রু? সেই গল্প শুনিনি।আজ সেই চরম সত্য ঘটনাটা  আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

আয়েশার রিলেশনের বিয়ে।এক বিয়ের অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় জাবেদের সাথে।তারপর ভালো লাগা থেকে ভালোবাসা।তাদের এই ভালোবাসার কথা দুপরিবারকে জানানো হলে কেউ মেনে নেয়নি।বাধ্য হয়ে তারা গোপনে বিয়ে করে।জাবেদ তখন বেকার ছিল।বউকে বাসা ভাড়া করে রাখার ক্ষমতা ছিলো না।কিন্তু এখন উপায়?

আয়েশার বাবা তাদেরকে মেনে না নিলেও মা কিন্তু ঠিকই মেনে নিয়েছে।মায়ের সম্মতিতে আয়েশা তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে উঠেছে।যাক আপাতত দুজনের থাকার জায়গা হয়েছে।

জাবেদ কিন্তু শিক্ষিত মাস্টার্স পাশ।দেখতে শুনতেও মন্দ  না হ্যান্ডসাম।তাই সাদিয়ার মা জামাইকে বরন করে নিয়েছে।তার ধারণা জাবেদ এক সময় ভালো চাকরী পাবে।যাক শ্বাশুড়ির আদর আপ্যায়নে জাবেদ খুব খুশি।ভালোই কাটছে তাদের দিনগুলো।

বছর ঘুরতে জাবেদের ভালো একটা চাকরী হলো।কিছদিন যাবার পর তারা আলাদা বাসা ভাড়া নিলো।নতুন বাসা, নতুন চাকরী, মাস শেষ মোটা এমাউন্ট মাইনে।ভালোই কাটছে তাদের দিনকাল।

কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতে সাদিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে।ভরদুপুরে মাথাঘুরে পড়ে যায়।খুব বমি হয়।ডাক্তার দেখালে ডাক্তার জানায়,

সাদিয়া প্রেগন্যান্ট, মা হতে চলেছে।তার এখন রেস্ট এ থাকা দরকার।

কিন্তু সে কী! এখন সংসার সামলাবে কে?

আয়েশা মা হতে চলেছে, জাবেদ খুশি।তাই অফিস থেকে এসে নিজে রান্নাবান্না করছে। সংসার সামলাচ্ছে।কিন্তু এভাবে আর কতোদিন?

অফিস, সংসার, জাবেদ কিভাবে সামলাবে?তাছাড়া সে পুরুষ মানুষ।সংসারের কাজ করা কী তার সাজে? পাছে তার খুব কষ্ট হচ্ছে।এখন একটা লোক রাখা দরকার।

এসব ভেবে আয়েশা তার ছোট বোনকে নিয়ে আসে তার দেখভাল ও সংসার দেখাশোনার জন্য।


ছোট বোন সাদিয়া ভালোভাবে তার সংসার সামলাচ্ছে।রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সংসারের যাবতীয় কাজকর্ম করছে।বোনের টেককেয়ার করছে,ভগ্নিপতির টেককেয়ার করছে।

আর এই সুযোগটা কাজে লাগিয়েছে জাবেদ।শালিকে ভালোবাসতে শুরু করেছে।বড় বোনের অনেক বদনাম করছে।ছোট বোন ও তাতে সাপোর্ট করেছে।এবং ভগ্নিপতির সাথে রিলেশনে জড়াচ্ছে।তাদের সম্পর্ক খুব গভীরে চলে যায়।তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।

আয়েশা প্রেগন্যান্ট কাজকর্ম করতে পারছে না।বোনের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

কিন্তু সে কী! যে বোনকে তার সেবাযত্ন করার জন্য এনেছে।সে এখন তার দেখভাল ঠিকমতো করছে না।সে জাবেদকে সময় দিচ্ছে,তার দেখভাল করছে।কিছু বললে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাষা ব্যবহার করছে।আয়েশা নিরুপায়,অসহায় কোনো প্রতিবাদ করতে পারছে না।নিরবে সবকিছু হজম করছে।সে বুঝতে পেরেছে তার স্বামী এখন তার দখলে নেই।বোনের দখলে চলে গেছে।কিছু বললে তাকে ঘর থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে।এমন কি জাবেদ তার সন্তানকে অস্বীকার করছে।বলছে এটা তার সন্তান নয়।বেশি বাড়াবাড়ি করলে ঘর থেকে বের করে দেবে।বোন ও তা সাপোর্ট করছে।

জাবেদ সুযোগ খুঁজছে কখন বিয়ে করবে?

এর ফাঁকে আরও কিছু সময় পার হলো।আয়েশার প্রসব ব্যথা উঠল।তার পাশে এখন মা ছাড়া কেউ নেই।যাক নরমাল ডেলিভারীতে হাসপাতালে তার বাচ্চা হলো।আয়েশার বাচ্ছা হচ্ছে এ সময় তার স্বামী পাশে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সে কী করেছে সেইদিন সাদিয়াকে বিয়ে করে আনন্দ ফুর্তি করছে।আয়েশা যখন বাচ্চাকে নিয়ে বাসায় ফেরে তখন খবরটা শুনে মুর্ছিত হয়ে পড়ে।

বোনকে যখন জিজ্ঞেস করে,

তুই আমার মায়ের পেটের আপন বোন। তুই কি করে আমার স্বামীকে বিয়ে করলি?

তুই শত্রু নাকি বোন ভাবতে আমার কষ্ট হচ্ছে।তুই আমার সামনে থেকে দূর হয়ে যা।

না আমি যাব না।তুই ঘর থেকে বের হয়ে যা।

এটা আমার স্বামীর বাড়ি।আমি যাবনা,তুই যা।


দুবোনের একই স্বামীর বাড়ি। কিন্তু এখন কে যাবে?

এই নিয়ে দুবোনের মাঝে অনেক কথাকাটাকাটি হয়।কিন্তু কোনো সমাধান হয় না।অবশেষে জাবেদ এবং সাদিয়া মারপিট করে আয়েশাকে ঘর থেকে বের করে দেয়।

আয়েশা বাচ্চা প্রসব করেছে।এখন সে অসুস্থ তার সেবাযত্ন  করা পরিবারের লোকজনের দায়িত্ব এবং কর্তব্য।অথচ সেই আপন বোন তার শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে।এর চেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার আর কি হতে পারে?

আয়েশাকে বের করে দিয়েছে তার স্বামীর ঘর থেকে।তাও মায়ের পেটের আপন বোন।এই দু:খ সে রাখবে কোথায়?

আমরা যতদূর জানি এক সাথে আপন মায়ের পেটের দুবোন বিয়ে করা জায়েজ নেই হারাম।ইসলামে এটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।দুলাভাই শালিকে বিয়ে করতে পারবে,কখন?যখন তার বড় বোন মারা যাবে তখন,এক সাথে নয়।কিন্তু এই লোকটা এক সাথে দুবোনকে বিয়ে করে সংসার করছে।সমাজের মানুষগুলো তা চুপচাপ দেখছে?

কেউ প্রতিবাদ করছে না।

এখন প্রশ্ন হলো কোন মৌলবী এই বিয়ে পড়িয়েছেন?

অথবা কোন কাজি এই বিয়ে পড়িয়েছেন?

এসব তথ্য খুঁজে বের করা দরকার?

শুধু যে জাবেদ অন্যায় করেছে তা না।যারা এই বিয়ের সাথে জড়িত তারা সবাই সমান অপরাধী।কারণ এক সাথে আপন দুবোন বিয়ে করা জায়েজ নেই হারাম।ইসলাম এটা সাপোর্ট করে না।তাহলে এই লোকটা মুসলিম হয়ে কিভাবে ইসলামের নিয়ম ভঙ্গ করে হারাম কাজ করছে।এর প্রতিবাদ করা সকল মুসলিমের দায়িত্ব এবং কর্তব্য। আশা করি এই গল্প থেকে বড় বোনেরা শিক্ষা নিবেন।আর কখনো ছোট বোনকে ভগ্নিপতির দেখভাল করতে দিবেন না।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

 




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত। কোড নং :- ৩৪৬১