মঙ্গলবার , ১২ মে ২০২৬ , রাত ০৮:৫১
ব্রেকিং নিউজ

রবীন্দ্রনাথের ধর্ম

রিপোর্টার : কবি রুহুল আমিন
প্রকাশ : শুক্রবার , ৯ জানুয়ারী ২০২৬ , রাত ০৯:০৭

কবি :- 

- সৌরভ দুর্জয় ধধধধ

-----------------------------------

ঋষি পুরুষ। কবি, সাহিত্যিক ও দার্শনিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক,সংগীতসহ সাহিত্যের সব শাখায় ছিলো যাঁর বিচরণ। লিখেছেন প্রচুর। পেয়েছেন নোবেল পুরষ্কার। ছিলেন জমিদার। করেছেন নাইট উপাধি পরিহার। ১৩ এপ্রিল ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগে প্রায় এক হাজার তীর্থ যাত্রী শিখদের হত্যা করে বৃটিশ রাইফেলস এর বর্বর সদস্যরা। বইয়ে দেয় রক্ত বন্যা। যা দেখে পাষাণ হৃদয়েও জেগে ওঠে কান্নার জলোচ্ছ্বাস। এ ঘটনায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু কাঁদেননি। তিনি জমিদার হয়েও বৃটিশদের দেওয়া নাইট উপাধি প্রত্যাখ্যান করেন। এজন্য কবিকে হতে হয়েছিল বেনিয়াদের বিরাগভাজন। তবুও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অটল ছিলেন তাঁর সিদ্ধান্তে। তিনি নিজ খ্যাতির চেয়ে মানবতাকে গুরুত্ব দিতেন বেশি। গবেষণা করেন নাই কোন ধর্মের লোক মারা গেল। চিন্তা করেন নাই নাইট উপাধি পরিহার করলে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর দীর্ঘ লেখক জীবনে প্রচুর লিখেছেন। তবে কোন লেখাই তাঁকে প্রশ্নবিদ্ধ করে নাই। তাঁর সব লেখাই যেন মানুষের জন্য। মানবতার জন্য। তিনি তাঁর লিখনের মধ্যে ধর্ম নিয়ে করেন নাই বাড়াবাড়ি। ছড়ান নাই সাম্প্রদায়িকতার ছন্দ। তিনি ছিলেন না ধর্মান্ধ কিংবা উগ্র ধার্মিক। বরং সকল ধর্মের প্রতি ছিলেন সহনশীল। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম যেমন লিখেছেন শ্যামা সঙ্গীত ও কীর্তন। আবার তাঁর লেখনী গোড়া ধান্ধাবাজ হিন্দুদের করছেন চপটাঘাত। বাদ দেন নাই মুসলমানদেরও তিনি যেমন লিখেছেন হামদ -নাথ আর গজল তেমনি আঘাত হেনেছেন ভন্ড ধার্মিকদের। এতে তিনি  কিছু ক্ষেত্রে হিন্দু মুসলিম উভয়ের বিরাগভাজন হয়েছেন । আবার বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মুসলমানদের 'যবন'  বলে হয়েছিলেন চরম ভাবে সমালোচিত। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর দীর্ঘ জীবনে মুসলমানদের নিয়ে  'মুসলমানী গল্প' নামে একটি মাত্র ছোট গল্প লিখেছেন। যেখনে পিতৃ মাতৃহীন কমলার কাকা তরফদার বংশীবদনের চেয়ে মুসলমান হবির খাঁকে বড় করে তুলে ধরা হয়েছে। বড় করে তুলে ধরা হয়েছ মুসলমানদের মানবতাকে। মোটকথা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হিন্দুদের নিয়ে করেন নাই বাড়াবাড়ি। মুসলমানদের দেন নাই গালি।বৌদ্ধদের ভাবেন নাই শত্রু। খৃষ্টানদের সাথে করেন নাই প্রতিযোগিতা।শিখদের করেন নাই অবহেলা। রবীন্দ্রনাথ জন্মেছিলেন ব্রাহ্মণের ঘরে। শেষকৃত্য সম্পাদন হয়েছিল নিম তলা শ্মশানে। তবুও তিনি হিন্দু ছিলেন না। ছিলেন পীরালি ব্রাহ্মণ।  ছিলেন একেশ্বরবাদী ব্রাহ্ম ধর্মের অনুসারী। কখনো করেন নাই বিগ্রহ পুজা।পীরালি ব্রাহ্মণেরা ছিলেন পীর খান জাহান আলীর ভক্ত। তারা ব্রাহ্মণ হলেও মুসলমানের অনেক রীতিনীতি আচার অনুষ্ঠান মেনে চলতেন। পীরালি ব্রাহ্মণের নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন সতীশ চন্দ্র মিত্র। তাঁর 'যশোহর খুলনার ইতিহাস' বইতে লিখেছেন : "পয়োগ্রাম কসবা এক সময় সমৃদ্ধশালী নগরী ছিল। এখানে অনেক সম্ভ্রান্ত মুসলমান এখনও বাস করিতেছেন। বোধ হয় এতগুলি খাঁটি উচ্চ বংশীয় উন্নতিশীল মুসলমান পরিবার একত্র হইয়া যশোহর- খুলনার অন্য কোন স্থানে নাই। ইঁহাদের অনেকে পশ্চিম দেশ হইতে আগত সম্ভ্রান্ত মুসলিম অধিবাসীর বংশধর এবং কতক, যে সকল উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরা মুসলমান ধর্ম্ম পরিগ্রহ করেন, তাঁহাদেরই অধস্তন পুরুষ। কথিত আছে,  খাঁ জাহানের পয়োগ্রাম নিবাসকালে পীরালি সম্প্রদায়ের প্রথম উৎপত্তি হয়। দক্ষিণডিহি প্রাচীন স্থান। ইহার দক্ষিণডিহি নামকরণ খাঁ জাহানের সময় হইতে হয়। পূর্ব্বে ইহা পয়োগ্রাম ছিল। বিপ্লবের অব্যবহিত পরে এখানে রায় চৌধুরী বংশীয়রা বাস করেন। যখন খাঁ জাহান পয়োগ্রাম আসেন, তখন রায় চৌধুরীগণ তথাকার প্রধান ব্যক্তি ছিলেন। ইঁহারা ব্রাহ্মণ, কনোজাগত দক্ষের বংশধর। দক্ষের জ্যেষ্ঠ পুত্র ধীর মুর্শিদাবাদের ৬ ক্রোশ পশ্চিমে গুড়গ্রাম প্রাপ্ত হইয়া তথায় বাস করেন। তজ্জন্য এই বংশীয়গণ গুড়ী বা গুড়গ্রামী ব্রাহ্মণ বলিয়া পরিচিত। এই বংশীয় শরণ বল্লালসেনের চতুর্দ্দশগ্রামী গৌণ কুলীনের অন্যতম। পরে দনৌজামাধবের সমীকরণে ও রাজা গণেশ দত্তখানের ব্যবস্থায় গুড়গ্রামিগণ সাধ্যশ্রোত্রিয় মধ্যে পরিগণিত হন। শরণের প্রপৌত্র ভবদত্ত পশ্চিম বঙ্গের পাঠান শাসনকালে গুণগরিমায় খাঁ উপাধি পান। ব্রাহ্মণের খাঁ উপাধি হেতু লোকে তাঁহাকে ' বামন খাঁ ' বলিত। ভবদত্তের পৌত্র রঘুপতি আচার্য্য শেষ বয়সে বানপ্রস্থ অবলম্বন করিয়া কাশীবাসী কালে পাণ্ডিত্যের জন্য দন্ডীদিগের নিকট হইতে একটি স্বর্ণদন্ড উপহার প্রাপ্ত হন, এই জন্য তাহার উপাধি হয় কনকদন্ডী। তদবধি তাঁহার বংশীয়গণ কনকদন্ডীগুড় বলিয়া খ্যাত।  বল্লাল সেনের সময় সূর্য্যমাঝি নামক একজন ঊীবর অদ্ভুত কার্য্যের পুরস্কার সূর্য্যদ্বীপের রাজত্ব পাইয়াছিলেন। এই সূর্য্যমাঝির এক অধস্তন পুরুষ মুসলমান ধর্ম গ্রহণ করিয়া সুলতান মাঝি বলিয়া পরিচিত হন। প্রবাদ এই, পূর্বোক্ত কনকদন্ডীর পুত্র রমাপতি এই সুলতান মাঝিকে বিনিষ্ট করিয়া সূর্য্যদ্বীপ অধিকার করিয়া লন। রমাপতির চারপূত্র- সর্বানন্দ,জ্ঞানানন্দ ও অমৃতানন্দ। তন্মধ্যে অমৃতানন্দ সরস্বতী সন্নাসধর্ম্ম গ্রহনপূর্বক সিদ্ধিলাভ করেন।জ্ঞানানন্দের পুত্র জয়কৃষ্ণ ; তৎপুত্র নাগরনাথ ও দক্ষিণানাথ। মুসলমান ধর্ম্মাশ্রিত সুলতান মাঝির উপর অত্যাচারের সময় হইতে পশ্চিম বঙ্গের শাসনকর্ত্তৃগণ রমাপতি ও তদ্বংশীয়দিগের উপর অত্যান্ত বিরূপ ছিলেন ; কিন্তু গৌড়াঞ্চলে সিংহাসন লইয়া এরূপ গন্ডগোল চলিতেছিল যে, এদিকে তাঁহারা বিশেষ মনোযোগ দিতে পারে নাই। সম্ভবতঃ রাজা গণেশের সময় নাগর ও দক্ষিণনাথ উভয় ভ্রাতা হিন্দু নরপতির সাহায্যাদি করিয়া সন্তোষ বিধান করেন, এবং তাহার ফলে রায়চৌধুরী উপাধি লাভ করেন। ইঁহারা দুই ভ্রাতায় কালে চেঙ্গুটিয়া পরগণা দখল করিয়া লন, এবং অপেক্ষাকৃত নিরাপদ প্রদেশে সদর্পে শাসনদণ্ড পরিচালনার জন্য দক্ষিণডিহি অঞ্চলে আসিয়া বাসস্থান নির্দেশ করেন। কেহ কেহ বলেন, এই দুই ত্রাতার মধ্যে বিভাগ সূত্রে উত্তরডিহি ও দক্ষিণডিহি নাম করণ হয়। জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা ভৈরবকূলে উত্তর দিকে থাকেন, উহাই উত্তরডিহি, এবং কনিষ্ঠ ভ্রাতা দক্ষিণনাথ দক্ষিণডিহি পাইয়াছিলেন। কেহ কেহ দক্ষিণডিহি নামের সহিত দক্ষিণনাথ নামের ও সম্বন্ধ স্থাপন করেন। নাগর রায় সাধারণের সুবিধার জন্য এই প্রদেশে এক হাট স্থাপন করেন, সেই 'নাগরের হাট ' বর্ত্তমান বেজেরডাঙ্গা ষ্টেশনের সন্নিকটে  ছিল। এখনও লোকে সে স্থান পরিদর্শন করিয়া থাকে। যাহা হউক রায়চৌধুরীগণই দক্ষিণডিহি নামে স্থান ভাগ করেন বা খাঁ জাহান আসিয়া তাঁহার নব প্রতিষ্ঠিত সহরের ঐ রূপে ভাগ করেন, তাহার নিশ্চয়াতা নাই। তবে এইটুকু নিশ্চয়তা আছে যে, খাঁ জাহানের আগমনের পরও দক্ষিণডিহিতে রায়চৌধুরী বিশেষ গৌরবান্বিত ছিলেন।  নাগরনাথ নিঃসন্তান। দক্ষিণানাথের চারি পুত্র ছিল - কামদেব, জয়দেব, রতিদেব ও শুকদেব। দক্ষিণানাথের মত তাঁহার পুত্রগণ প্রতাপান্বিত ছিলেন না, কারণ খাঁ জাহানের আগমনকালে তাঁহাকে কেহ বাধা দিয়াছিলেন বলিয়া জানা যায় নাই। পরন্ত খাঁ জাহানের  শাসন প্রতিষ্ঠার পর কামদেব ও জয়দেব, এই উভয় ভ্রাতায় নবাগত পাঠানবীরের প্রধান কর্ম্মাধ্যক্ষ হইয়া বসিয়াছিেন। খাঁ জাহানও এইভাবে তাহাদিগকে রুদ্ধবীর্য্য সর্পের মত করায়ত্ত করিয়াছিলেন। শুধু করায়ত্ত রাখা নহে, কৌশলে তাহাদিগকে মুসলমান ধর্ম্ম পরিগ্রহ করিতে বাধ্য করিয়াছিলেন। সেই ঘটনাই এদেশীয় পীরালি বংশের উৎপত্তির মূল। প্রবাদ আছে, বারবাজার ত্যাগ করিয়া, যখন খাঁ জাহান ভৈরবের কূলদিয়া ক্রমশঃ অগ্রসর হইতেছিলেন, জনৈক সুচতুর ব্রাহ্মণ তাঁহার পথপ্রবর্ত্তক ছিলেন। এমন কি, এ রূপও কথিত হয় যে, এই ব্রাহ্মণই খাঁ জাহানকে বঙ্গদেশে আনিবার মূল। গ্রাম্যবিবাদ ঘটিত প্রতিহিংসাই ব্রাহ্মণেক এই কার্য্যে প্রবৃত্ত করাইয়াছিল। সম্ভবতঃ চেঙ্গুটিয়া পরগণার অধিকারী দক্ষিণডিহির রায় চৌধুরী মহাশয়গণের সহিত উক্ত বিবাদ হয় এবং তাহাতেই বোধহয় ব্রাহ্মণকে স্বীয় হস্তে স্বগৃহে অনল প্রদান করিতে প্রলুব্ধ করে, কারণ প্রতিহিংসার অসাধ্য কিছুই নাই। ব্রাহ্মণ পরহিংসা করিতে গিয়া অহিংস করিয়া ছিলেন; কারণ তিনি ধর্ম বা  রাজ্য লোভে অথবা স্পর্শ দোষে নিজের জাতি ধর্ম বিসর্জন দিয়া মুসলমান ধর্মে দীক্ষিত হইয়া ছিলেন। তাহার পূর্বে কি নাম ছিল, জানি না, জানিয়াও বিশেষ কাজ নাই। এখন তাহার নাম হইল মুহম্মদ তাহের। তীক্ষ্ণবুদ্ধি ব্রাহ্মণ ধর্ম ত্যাগ করিয়া পাশবিক উন্নতির পথ পরিস্কার করিয়া লইলেন। পয়গ্রাম কসবার নবাব হইলেন খাঁ জাহান আলি এবং তাহার উজির হইলেন মুহম্মদ তাহের। আর রায় চৌধুরীদিগের মত বহু ভূপতি ভয়ে তাহাদের দ্বারস্থ হইলেন। শিঘ্রই খাঁ জাহান পয়োগ্রাম পরিত্যাগ করিয়া রাজ্য বিস্তার ও কৃষি পত্তনের উদ্দেশ্যে বাগেরহাট অভিমুখে যাত্রা করিলেন। পয়োগ্রামে তৎপ্রদেশীয় শাসনকর্ত্তৃত্ব মুহম্মদ তাহেরের উপরই রাখিয়া গেলেন। --------- স্থানীয় হিন্দু মুসলমান তাঁহাকে ( মুহম্মদ তাহের কে) 'পীর আলি' করিয়া লইল। পীর আলি নব ধর্ম্মানুশাসনে নানা ভাবে হিন্দু বৌদ্ধ নানা জাতিকে মুসলমান ধর্ম্মে দীক্ষিত করিতে লাগিলেন। এই ভাবে যাহারা প্রকৃত ভাবে মুসলমান ধর্ম্ম গ্রহণ করিলেন তাঁহারা পীর আলি মুসলমান বলিয়া চিহ্নত হইলেন, এবং যাহারা ঐরূপ মুসলমানদের সহিত সংস্রব দোষে মুসলমান না হইয়াও সমাজচ্যুত হইলেন, তাঁহারা কেহ পীর আলি ব্রাহ্মণ, পীর আলি কায়েস্থ, পীর আলি নাপিত ইত্যাদি থাকিয়া গেলেন। --------------ইহাদের মধ্যে কলিকাতার প্রসিদ্ধ ঠাকুর বংশ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। ঠাকুর বাবুরা ভট্রানারায়ণের সন্তান শাণ্ডিল্য গোত্রীয় সিদ্ধশ্রেত্রীয়। তাহারা কুশিরা গাঞি ভুক্ত। খুলনা জেলার ভৈরবকূলবর্ত্তী পিঠা ভোগ ও ঘাটভোগ গ্রামে কুশারীদিগের বাস ছিল।পিঠাভোগের কুশারিগণ গোষ্ঠিপতির বংশ বলিয়া সম্মানিত। ঢাকা ও বাঁকুড়ায় কুশারিদিগের বাস আছে।  পিঠাভোগের কুশারি - বংশীয় পুরুষোত্তম বিদ্যাবাগীশ উক্ত রায় চৌধুরী বংশে বিবাহ করিয়া পীরালি হন।" সতীশ চন্দ্র মিত্র তাঁর বইয়ের ৯ নং পাদটীকায় লিখেছেন : "কথিত আছে, ঠাকুর বংশের এক পূর্ব্ব পুরুষ পঞ্চান্ন কুশারি খুলনা জেলার মিঠাভোগ গ্রাম পরিত্যাগ করিয়া, কালিঘাটের সন্নিকটে গোবিন্দপুর গ্রামে আসিয়া বাস করেন। সে সময় গোবিন্দপুরে জেলে, মালো, কৈবর্ত্ত প্রভৃতি জাতির বাস ছিল ; তাঁহারা নবাগত ব্রাহ্মণকে 'ঠাকুর' বলিয়া ডাকিতেন। তদবধি পঞ্চানন ও তাহার বংশীয়গণের ঠাকুর উপাধি সর্ব্বজনবিদিত হইয়া যায়।শুধু এ বংশে নহে, আরো অনেক বংশে এ রূপ ঠাকুর উপাধি ছিলো। ব্রাহ্মণকে সাধারণতঃ ঠাকুর বলিয়া সম্বোধন করেন। তবে কীত্তিগৌরবে কলিকাতার ঠাকুর - বংশের মত আর কেহ অনন্যোপাধিক হন নাই।" তিনি ১১ নং পাদটীকায় লিখেছেন : জয়রাম আমীন ঠাকুর, মহর্ষি অদেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, কালীকৃষ্ণ ঠাকুর, কবি চূড়ামণি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রাজা শৌরীনন্দ্রমোহন ঠাকুর। গুণেন্দ্রমোহন ঠাকুর, মহারাজ যতীন্দ্র মোহন ঠাকুর, প্রফুল্লনাথ ঠাকুর প্রভৃতি ঠাকুর- বংশীয় বহু খ্যাতনামা ব্যক্তি উক্ত রায় চৌধুরী বংশে বিবাহ করেন।"


যা হোক, পীরালী ব্রাহ্মণগণ তুঘলক সেনাপতি খান জাহান আলীর অনুসারী ছিলেন তবে মুসলমান ছিলেন না। খান জাহান আলী সেনাপতি হলেও পীর হিসেবে তিনি সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন। তাঁকে অনুসরণ করে অনেক শুদ্র, কায়েস্থ, ব্রাহ্মণ মুসলমান হয়েছেন। আবার অনেক হিন্দু ব্রাহ্মণ, কায়স্থ তাঁকে ভালোবাসতেন, এবং মুসলমানদের নিয়ম নীতি অনুসরণ করতেন কিন্তু তাঁরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন নাই। এভাবেই পীরালী ব্রাহ্মণ, কায়স্থ ইত্যাদি সম্প্রদায়ের উদ্ভব হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্ব পুরুষ পঞ্চান্ন কুশারি ছিলেন পীরালী ব্রাহ্মণ। এই পঞ্চান্ন কুশারি নিন্ম পুরুষ জয়রাম ঠাকুর। যিনি একজন আমীন ছিলেন(১৭৬০-৬২), ইংরেজদের জমিজমা মাপতেন।তিনি কলকাতায় ঠাকুর বংশের প্রতিষ্ঠাতা। কলকাতার ঠাকুরেরা পীরালী ব্রাহ্মণ হওয়ায় কলকাতার বনেদী ব্রাঅহ্মণেরা তাঁদের তেমন মূল্যায়ন করতেন না। এমনকি তাঁদের সাথে সাথে ছেলে মেয়ে পর্যন্ত বিয়ে দিতেন না।তাইতো রবীন্দ্রনাথ জোঁকাসাকোর জমিদার হয়েও কোলকাতার কোন ব্রাহ্মণের মেয়েকে বিয়ে করতে পারেন নাই। তিনি বিয়ে করেছিলেন খুলনার ফুলতলার দক্ষিণ ডিহি গ্রামের পীরানী ব্রাহ্মণ বেনীমাধব রায় চৌধুরীর মেয়ে মৃণালিনীকে। রবীন্দ্রনাথের পিতা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন রাজা রাম মোহনের ডান হাত। ব্রাহ্ম ধর্মের অনুসারী ও অন্যতম প্রধান পুরুষ। তিনি পুজা পর্বণাদি বন্ধ করে মাঘ 'উৎসব' 'নববর্ষ' 'দীক্ষাদিন' ইত্যাদী প্রবর্তন করেন। তিনি রবীন্দ্রনাথকেও ব্রাহ্ম ধর্মের দীক্ষা দেন। রবীন্দ্রনাথকে আদি ব্রাহ্ম ধর্মের সাম্পাদক মনোনীত করেন। রবীন্দ্রনাথ  ১৯০১ সালে পিতা দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুমতি নিয়ে শান্তিনিকেতনে ব্রাহ্ম চর্চা শ্রম গড়ে তোলেন। রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোন বিগ্রহ পূজা করেন নাই। তিনি ব্রাহ্ম ধর্মে অটল ছিলেন। আবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পাদন হয়েছিল নিমতলা শ্মশানে। রবীন্দ্রনাথের ধর্ম পরিচয় সৃষ্টি করছে এক রহস্যময় প্যারাডক্স। তাই বলা যায় : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন পীরালী ব্রাহ্মণ।


** সৌরভ দুর্জয় : নির্বাহী সম্পাদক, ত্রৈমাসিক সাহিত্য প্রত্যাশা পত্রিকা,সভাপতি - লোহাগড়া লেখক পরিষদ,  নড়াইল। আইনজীবী জজ কোর্ট, ঢাকা।


মোবাইল : ০১৩০৩১৪৪৮৭৬

 




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত। কোড নং :- ৩৪৬১