কবি লাবনী খানম
কবি লাবনী খানম ১৯৮৬ সালের ৩০শে জুন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের দীননাথ পাড়া গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
কবির বংশ পরিচিতি :
কবির পিতামহ সোনাউল্লাহ ছিলেন একজন স্বনামধন্য স্থানীয় জমিদার। কবি'র দাদা শামসুর রহমান ছিলেন একজন সুশিক্ষিত, ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি।লাবনী খানমের পিতা মো:নজরুল ইসলাম পেশায় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন।তিনিও শিক্ষিত এবং বিদ্যানুরাগী ছিলেন।তিনি সংস্কৃতমনা ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন।কাব্যচর্চা করতেন।কবি'র পিতা যৌথ কাব্যগ্রন্থে একজন লেখক।
কবির পিতার যৌথ কাব্য গ্রন্থের নাম :
০১| নাম-সবুজ পাতা
সবচেয়ে বড় কথা তিনি ১৯৭১ সালে অষ্টম শ্রেণি পড়াকালীন মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।তিনি লাহুড়িয়া ইউনিয়নের
কবির পিতা একজন মুক্তিযুদ্ধা কমান্ডার ছিলেন।
এবং মুক্তিযুদ্ধা ভাতা পান। তাঁর প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন বাংলার মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ২০১৯ সালে প্রয়াত হন।মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর ছবি টাঙিয়ে মাথার উপরে রেখে ঘুমাতেন।ছোট্ট একটি পারিবারিক লাইব্রেরি গড়ে ছিলেন তিনি।তিনি সকল ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতেন।নিজের পিতার জমিতে হাফেজি মাদ্রাসা ও মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন।তিনি কঠোর রাজনীতি করতেন।কবি লাবনী খানমের মাতা ঝর্ণা বেগম একজন শিক্ষিতা নারী ছিলেন।তিনি হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ও প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে ছোট ছোট কচি ছেলেমেয়ে রেখে ১৯৮৯ সালে আগস্ট মাসে এই দুনিয়া ছেড়ে চিরতরে হারিয়ে যান।এরপর লাবনী খানম নতুন মা জুলেখা বেগমের হাতে প্রথম বর্ণমালা শেখেন।লাবনী ছিলেন শিশুবেলা থেকেই পড়াশুনার প্রতি প্রবল আগ্রহী। শিক্ষকের অনুপ্রেরণা, প্রতিবেশী, বাবা-জমা,নানা বাড়ি,দাদু বাড়ির সবার উৎসাহে নিজেকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেন।কবি লাবনী খানম এর ৬ ভাই বোন।তাঁর মধ্যে তিনি তৃতীয়।সবাই লেখাপড়া শিখেছেন।কবি'র নানা সাইদুর রহমান তৎকালীন সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন।এবং স্থানীয় জমিদার ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তি ছিলেন। বর্তমানে তাঁর নামে লোহাগড়া উপজেলার ধানাইড় গ্রামে একটি এতিম খানা ও হাফেজি মাদ্রাসা চলমান আছে।কবি লাবনী খানমের নানী ও শিক্ষিতা ছিলেন,তাঁর বাবার বাড়িলাহুড়িয়া ত্রৈলক্ষণ পাড়ায় একটি আলিয়া মাদ্রাসা, হাফেজী মাদ্রাসা ও এতিমখানা চালু করেন।এবং নানীর পিতা সায়া সাহেব একজন নামকরা বুজুর্গ ব্যক্তি ছিলেন এবং ওইখানে প্রতিবছর ওরস শরীফ পালিত হয়।কবি লাবনী খানম মাতৃহারা হয়েও পড়াশোনা কে আন্তরিক ভাবে লালন করতেন।
কবির লেখাপড়া জীবন :
তিনি দীননাথ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।এরপর হাজী মোফাজ্জ্বেল স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যাপীঠে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন।ওই বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শাখা খোলা না থাকায় মাগুরা জেলায় শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে চলে যান।সেখানে নিকট আত্মীয় না থাকায় লজিং থেকে পড়াশুনা চালিয়ে যান।তিনি মাগুরা মধুখালী গ্রামের নওশের মোল্লা ও নাসরিনের পরমস্নেহে শিক্ষার প্রতি আরো ঝুঁকে পড়েন।২০০১ সালে তিনি পুলুম গোলাম সরোয়ার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় 'এ ' গ্রেডে উত্তীর্ণ হন।এরপর তিনি যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মাইকেল মধুসূদন কলেজ যশোর থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।তিনি "ইতিহাসে" এম এ পাশ করেছেন এবং প্রতিটি ডিগ্রি প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
কবির বিবাহিত জীবন:
লাবনী ২০০১ সালেই বাল্যবিবাহ করেছিলেন শ্বশুরবাড়ি মানুষের চোখের মণি হয়ে।কিন্তু লাবনী অসীম সাহসী বালিকা ছিলেন,স্বামী বাবুল হাচানের কাছে একান্ত আবদার তাকে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হবে। যেমন ইচ্ছে, তেমনি কাজ।
কবির পেশা চাকরি জীবন :
তিনি ২০১০ সালে আতুকুড়া, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপজেলা নাসিরনগর,জেলা বি-বাড়ীয়ায় সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।এবং বাংলাদেশ সরকার ওই বছরে যশোর পিটিআই তে প্রশিক্ষণে পাঠান।।২০১১ সালে শ্বশুরালয় গাঁয়ে গোবিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।এর মাঝে দুই পুত্র সন্তানের জননী হয়ে যান।তাঁরা এখন উচ্চ শিক্ষা লাভের পথ খুঁজে চলেছে। দুজনেই বিজ্ঞান শাখায় অধ্যয়ন করছে।কবি লাবনী খানম শিশুবেলা থেকেই কাব্য সৃজনে আগ্রহী। কবিতা পড়তে প্রচুর ভালোবাসেন।তাই তো তিনি সাহিত্য কে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছেন।
কবির স্বরচিত কবিতা :
তিনি এপর্যন্ত প্রায় ২৫০০ কবিতা রচনা করেছেন।
কবির প্রথম যৌথ কাব্যগ্রন্থ :
০১| আকাশী ক্যানভাসে দীর্ঘশ্বাস
২০২২ যেটা একুশে বইমেলা ঢাকা, চট্টগ্রামে প্রকাশিত হয়।
০২| পুষ্পিত সনেট সম্ভার,
০৩| সবুজ পাতা,
মুক্তধারা সুব্রিতিক ছন্দের কবিতা সমগ্র প্রকাশিত হয়।
কবির একক কাব্যগ্রন্থ :
০১| আলোর প্রদীপ
প্রকাশিত হয় ২০২৩ ইংরেজি সালে
একুশে বইমেলা ঢাকায় প্রকাশিত হয়।এরপর যৌথ কাব্যগ্রন্থ, -পুষ্পিত সনেট সম্ভার,সবুজ পাতা,মুক্তধারা,সুব্রিতিক ছন্দের কবিতা,প্রকাশিত হয়।তিনি বিভিন্ন নামকরা পত্রিকায় কবিতা লিখেছেন। যেমন-শব্দসিড়ি(মুজিব বার্তা-২০২৩), ঐকতান বার্তা ঈদসংখ্যা -২০২৩ইং এবং বিদ্রোহী বিজয় দিবস বিশেষ সংখ্যা -২০২৩ এ নামকরা সাহিত্যকের মাঝে তাঁর লেখা স্থান পেয়েছে। এছাড়া তিনি নামকরা সংবাদপত্রে কবিতা নিত্যদিনে স্থান পাচ্ছেন।
যেমন-নয়াদিগন্ত,যায়যায় দিন,আমার সংবাদ,ভারতের পুরুলিয়া মানভূম সংবাদ পত্রিকা, দৈনিক যুগের আলো, আইনের চোখ, বিডিনিউজ ডটকম,দৈনিক যশোর স্পন্দন, গ্রামের বাংলাদেশ, আমেরিকা নিউইয়র্ক বাংলাদেশ পত্রিকা, ভোরের রানার,প্যারিসটাইমস,গ্রামের কাগজ,চাঁপাইদর্পন,ভোরের রানার,রংপুর, সিলেট,কুষ্টিয়া, লোকসমাজ ভারতের বজ্রকথা, বিভিন্ন নামকরা পত্রিকায় কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে। এছাড়া বিশ্বের সর্ববৃহৎ কাব্যগ্রন্থ-২০২৩ইং-এ কবিতা প্রকাশ হবে বলে আশা করছি।কবি লাবনী খানমের সংগ্রহে উপন্যাস, প্রবন্ধ, ও ছোটগল্প রয়েছে। এগুলো আগামী তে প্রকাশ হবে বলে আশা করছি।