আফছানা খানম অথৈ
হিমেল ও সাদিয়া দু'জনের পরিচয় হয় ফেসবুকে।মেসেঞ্জারে কথা বলতে বলতে একে অপরের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে।
দুজন দু'প্রান্তে কারো সাথে কারো দেখা নেই।তবুও একে অপরের প্রতি ভালোবাসা যেন উপছে পড়ছে।এক সময় সাদিয়া দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।হিমেল রাজী হয়, এবং দুজন নিরিবিলি স্থানে গিয়ে দেখা করে।
হিমেলকে দেখে সাদিয়া মুগ্ধ হয়।সে খুব সুন্দর।প্রথম দেখাতে তাকে ভালো লাগে।তার প্রতি প্রচণ্ড ভালোবাসার সৃষ্টি হয়।সে শুরুতেই বলে ফেলে
I love you Himel.
হিমেলতো অবাক সাদিয়ার মুখে ভালোবাসার কথা শুনে।সে অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।তখনি সাদিয়া বলল,
কিছু বলছ না যে হিমেল?
কী বলব?
আমাকে ভালোবাস না?
জানি না?
মানে?
ভেবেচিন্তে দেখি,কী করা যায়?
তার মানে তুমি আমাকে ভালোবাসনা?
ঠিক তাই না।
তাহলে সত্যি সত্যি বলো,তুমি আমাকে ভালোবাস কি না?
হিমেল ও তাকে ভালোবাসে।কিন্তু তার প্রতি,সাদিয়ার ভালোবাসার আগ্রহ আরও বাড়ার জন্য ভাব দেখাচ্ছে।কিন্তু সাদিয়ার তর সইছে না।সে সরাসরি বলল,
হিমেল তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না।তোমাকে আমার চাই চাই।এরপর ও যদি না কর আমি আত্মহত্যা করব।
সত্যিই?
হুম সত্যি।
হিমেল দেখল সাদিয়া সত্যিই তাকে ভালোবাসে।তাই আর দেরী না করে বলে ফেলল,
I love you too Sadiya
আমিও তোমাকে ভালোবাসি।তোমাকে ছাড়া আমিও বাঁচব না।
এরপর দুজন একে অপরের হাতে হাত রেখে বাঁচা মরার শফথ করলো।যতদিন বাঁচবে একসঙ্গে থাকবে।মরতে হলে দুজন একসঙ্গে মরবে।
দুজনের ভালোবাসা একেবারে পাকা।কোনোক্রমে কেউ কাউকে ছেড়ে যাবে না।এমন প্রতিজ্ঞা করে তারা।রাতজেগে ফোনালাপন,চ্যাটিং...।
রাত শেষ হয়ে যায় তবুও তাদের কথা শেষ হয় না।একে অপরের প্রেমে উতলা।
নিয়মিত দেখা সাক্ষাত হয় দুজনের।দুজন দু'জনকে গিফট প্রদান করে।সাদিয়া হিমেলকে দেয় একটা হাতঘড়ি।আর হিমেল সাদিয়াকে দেয় একটা কালো শাড়ি।
কথার প্রসঙ্গে হিমেল জিজ্ঞেস করলো,
সাদিয়া তোমার কোন ফুল পছন্দ?
বেলী ফুল।
এবার সাদিয়া জিজ্ঞেস করলো,
তোমার কোন ফুল পছন্দ?
কাঠগোলাপ।
তাহলে আমাদের যদি কন্যা সন্তান হয়,তার নাম রাখব
কাঠবেলী, কী বলো?
ঠিক আছে তোমার যা পছন্দ আমার ও তা পছন্দ।
ঠিক আছে আজ থেকে আমি তোমাকে ডাকব কাঠবেলীর আম্মু?
ওকে জান ডেকো।
দু'জনের ভালোবাসা এতোটা গভীরে গিয়েছিলো,তারা সন্তানের নাম পর্যন্ত নির্ধারণ করে ফেলেছে।এবং সেই সন্তানের নাম ধরে ডাকার অনুমতিও দিয়েছিলো।ভালোই কাটছে তাদের দিনগুলো।
এরই মধ্যে হিমেলের বাবা তাকে বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলো।সাদিয়ার ভীষণ খারাপ লাগল।সে হিমেলের বিদেশ যাওয়াটা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারলো না।হিমেল তাকে অনেক বুঝাল,
লক্ষিটি রাগ করেনা মাত্র দুটো বছর।এরপর এসে মহাধুমধাম করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করে তোমাকে বউ করে ঘরে তুলব।
জান তোমাকে ছেড়ে থাকতে অনেক কষ্ট হবে।
তবুও থাকতে হবে।উপায় নেই।তাছাড়া ইনকাম না করলে তোমাকে খাওয়াবো কী?
এমনিভাবে তারা আর ও কিছু সময় কথোপকথন করে।অবশেষে সাদিয়া হিমেলকে বিদেশ যাওয়া অনুমতি দেয়।
হিমেল বিদেশ গেলেও তার মন পড়ে আছে প্রাণ প্রিয়া সাদিয়ার কাছে।কিছুতেই কাজে মন বসাতে পারছে না।বারবার তার কথা মনে পড়ছে।যখনি সময় পায়,দুজন কথার ঝাপি খুলে বসে।রাত শেষ হয়ে যায়,তবুও তাদের কথা শেষ হয় না।ব্যাটারি লো হলে তবেই কথা বন্ধ হয়।এর ব্যতিরেকে নয়।
এমনিভাবে কেটে গেল কয়েকমাস।হঠাৎ একদিন সাদিয়ার ফোন বন্ধ পায় হিমেল।বারবার কয়েকবার চেষ্টা করে। কিছুতেই সংযোগ হয় না।হিমেল বুঝতে পারছে না।কেনো তার ফোন বন্ধ।সে সপ্তাহ খানেক চেষ্টা করে, কোনোরকমে রকমে সংযোগ হচ্ছে না।সাদিয়ার ফোন বন্ধ বলছে।কিন্তু কেনো?হিমেল চিন্তা করে কিনারা পাচ্ছে না।কোনো কারণ ও খুঁজে পাচ্ছে না।সাতদিন পর তার ভাবী ফোন করে জানায়,সাদিয়াকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।
কথাটা শোনামাত্রই হিমেলের মাথায় সপ্ত আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।সাদিয়া অন্যকারো হবে,কথাটা ভাবতেই সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।বন্ধুদের সহযোগীতায় তার জ্ঞান ফিরে আসে।সে ভাবীর কাছে ফোন দিয়ে জানতে চাই সাদিয়া কেনো তাকে রিজেক্ট করলো?কেউ কোনো উত্তর দিচ্ছে না।অবশেষে সাদিয়াকে ফোন দিলে সে বলে,
আমি তোমাকে চিনি না।তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।আর কখনো ফোন দিবে না।
অবশেষে হিমেল বলল,
সাদিয়া প্লিজ ফোন রেখো না।আমার কিছু কথা শুন।
বলো কী বলবে?
সাদিয়া মানুষ এমন মিথ্যে বলতে পারে,জানতাম না।তুমি সবাইর চাপে পড়ে মনে হয় মিথ্যে বলছ?তবে একটা কথা মনে রেখ,তুমি আমার প্রথম এবং শেষ ভালোবাসা।তোমার জাগায় আমি অন্যকোনো নারীকে বসাতে পারব না।আমি তোমাকে সারাজীবন ভালোবেসে যাব।তোমার ভালোবাসা বুকে নিয়ে সারাজীবন বেঁচে থাকব।ভালো থেকো "কাঠবেলীর আম্মু"।