নড়াইলে এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না কেউ। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি খাল দখল করে মৎস খামার গড়ে তুলেছেন তিনি।
শুধু তাই না হিন্দু সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের জমি জবর দখল, শালিশ বৈঠকে অর্থ লেনদেন সহ নানাবিধ অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি নড়াইল লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল সালাম সিকদার। ওরফে টাউট আব্দুল,ওরফে চিটার আব্দুল, ওরফে নেতা আব্দুল স্থানীয়রা তাকে এই সব নামে ডাকতে পছন্দ করেন।
সম্প্রতি সময়ে নড়াইল লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের বিল ইছমতি বিলের লাহুড়িয়া বাজার থেকে মিঠাপুর বাজার সংলগ্ন পাকা সড়কের পাশ দিয়ে বয়ে চলা খালের জায়গা দখল করে মাছের খামার গড়ে তুলা নিয়ে একটি সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা তার নানাবিধ অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।
সংবাদে বলা হয়েছে, ইছামতী বিলের ৩ নাম্বার সিটের ৩৩২২ দাগের সরকারি একশ শতক জমি দখল করে মাছের খামার গড়ে তুলেছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল সালাম। শুধু তাই না।তিনি হিন্দু সংখ্যা লঘু সম্প্রদায়ের জমি নাম মাত্র মূল্যে ক্রয় করে পার্শ্ববর্তী জমির মালিককে ঘিরে ফেলে কৌশলে জমি ক্রয় করেন। তার ছেলে
আশরাফুল ইসলাম নয়ন এক সময়ে ছাত্র লীগ নেতা ছিলেন। বর্তমানে পুলিশের চাকরি করেন।পুলিশের চাকরির সুবাদে তার নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় এহেন অপকর্ম করে চলছেন তিনি।
লাহুড়িয়া গ্রামের জিল্লুর রহমান জানান, এস, এস, সি পাস করে সালাম সিকদার একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছেলের প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় সরকারি জমি জবর দখল করেছেন। তার হাত থেকে সরকারি জমি রক্ষায় আমরা প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করি।
লাহুড়িয়া গ্রামের বুলু মিয়া বলেন, কৃষক পরিবারের ছেলে সালাম সিকদার। কোন রকম ভাবে পেটে ভাতে সংসার চলত তার। সম্প্রতি সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের দলের পদ পদবি পেয়ে ফুলে ফাপে উঠেছে। এলাকায় শালিস বিচার করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
টাকা হাতিয়ে নিয়ে থেমে থাকেনি সরকারি খাল দখল করে গড়ে তুলেছেন মৎস খামারে। সেখানে সন্ধ্যা নামলে চলে মাদকের রমরমা আড্ডা। ঘেরে থাকা ছোট ঘরে বসে চলে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি জবর দখলের নীল নঁকশা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন বলেন,আমার জমির পাশে জমি কিনে এমন ভাবে ঘিরে ফেলেছেন। এখন আমার জমির পানি বের হয় না। ফসল আনা নেওয়ার চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে আব্দুল সালামোর মুঠো ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।