নড়াইলের লোহাগড়ায় প্রত্যাশা ক্লিনিকে সিজারের সময় শান্তা (২৩) নামে একজন প্রসূতি মৃত্যু হয়েছে। অ্যানেস্থেসিয়া ও সিজার একজন অনভিজ্ঞ ডাক্তারকে দিয়ে করানোর কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে ভূক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।
ঘটনার পর ওই চিকিৎসককে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। পারিবারিক সুত্রে জানগেছে, ৩ বছর আগে লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে এসএম নাঈমুর রহমানের সাথে শান্তার বিয়ে হয়। নাঈমুর ঢাকায় একটি বেসরকারী কোম্পানীতে চাকুরী করে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় শান্তার পিতার বাড়ি লোহাগড়া উপজেলার সরুশুনা গ্রামে জানাযার নামায শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের সরুশুনা গ্রামের ইকবাল হোসেনের মেয়ে শান্তাকে সোমবার (১২ আগষ্ট) সন্ধ্যায় লোহাগড়ার জয়পুর মোড়ে প্রত্যাশা ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। শান্তার মা লাভলী বেগম জানান, ভর্তির কিছুক্ষণ পর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ শান্তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। এসময় মিথুন বিশ^াস নামে একজন চিকিৎসক নিজেই অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে সিজার করে। সিজারের পর একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু কয়েকঘন্টা কেটে গেলেও শান্তাকে অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করেনি। বার বার শান্তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা জানান ভালো আছে। এক পর্যায়ে জানানো হয়, শান্তা একটু অসুস্থ্য তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিতে হবে। তাৎক্ষণিকভাবে এ্যাম্বুলেন্সযোগে নড়াইলে নেয়ার পথে তার শরীরে পুশ করা স্যালাইন একটুও যাচ্ছিলো না। তখন ওরা স্যালাইন চেপে ধরে শরীরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ্যাম্বুলেন্সে নেয়ার সময় শান্তার শরীর একটুও নড়েনি। শান্তা ভুল অপারেশন করে ওরা অনেক আগেই অপারেশন থিয়েটারে মেরে ফেলেছে। শান্তার মামা মুস্তাক অভিযোগ করেন, ‘ ক্লিনিকের মালিক সেলিম খরচ বাচানোর জন্য কোন
অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার না এনে অনভিজ্ঞ ডাক্তার মিথুন বিশ^াসকে দিয়ে অজ্ঞানের ইনজেকশন দেন এবং তাকে দিয়েই সিজার করেছেন। যার ভুল অপারেশনে কারণে তার ভাগ্নির অকাল মৃত্যু হয়েছে। নড়াইল সদর হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক মো. আসিফ আকবর বলেন,‘ শান্তা নামের ওই রোগীকে মৃত অবস্থায় নড়াইল সদর হাসপাতালে জরুরী বিভাগে আনা হয়েছিল। হাসপাতালে আসার অন্তত আধাঘন্টা আগে মারা গেছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ বের করতে হলে ময়নাতদন্ত করতে হবে। নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ লোহাগড়ায় একটি ক্লিনিকে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় মিথুন দাস নামে একজন ডাক্তারকে হাসপাতাল থেকে থানায় এনে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানতে পেরে লোহাগড়া থানায় মামলা করলে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ।