রংপুরের হাজীরহাট থানাস্থ বখতিয়ারপুর (পশ্চিম পাড়া) মোঃ হযরত আলী নিকট বাইসাইকেল চাইলে দিতে অপারগতা জানাইলে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। সে প্রতিবাদ করলে তাকে দলবদ্ধ হয়ে লাঠিশোটা, ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে মারপিটে গুরুতর জখমের ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে তার স্ত্রী মোছাঃ আশা মনি (২৬), থানায় একটি এজাহার করে। এজাহারে উল্লেখ্য বিবাদী ১। মোঃ আরফিন মিয়া (২৪), পিতা-রজব আলী, মাতা-আফসানা বেগম ২। রজব আলী (৫০), পিতা-মৃত ভেরকা, ৩। আফসানা বেগম (৪০), স্বামী-রজব আলী, ৪। মজমুল (৪০), ৫। শহিদুল (৪৫), উভয়ের পিতা-মৃত জালাল, সর্বসাং-মধ্য বিন্নাটারী, থানা-হাজীরহাট, আরপিএমপি, জেলা-রংপুর। আমার স্বামী মোঃ হযরত আলী, পিতা-মহুবর আলী, সাং-বখতিয়ারপুর, থানা-হাজীরহাট, আরপিএমপি, জেলা-রংপুর সে পেশায় একজন রাজ মিস্ত্রি। আমার স্বামী গত ০৬/০৬/২০২৫ সকাল বেলা হাজীরহাট থানাধিন মধ্য বিন্নাটারীস্থ তাহার খালার বাড়ীতে যায়। আমার স্বামী তাহার খালার বাড়ী হইতে আসার পথিমধ্যে একই তারিখ সকাল আনুমানিক ৯ টায় হাজীরহাট থানাধীন মধ্য বিন্নাটারীস্থ জনৈক সাইফুল ইসলাম এর চা-মুদির দোকানে চা খাওয়ার জন্য বসে। ঐ সময় ১নং বিবাদী মোঃ আরফিন মিয়া আমার স্বামীর পূর্ব পরিচিত হওয়ার সুবাদে আমার স্বামীর নিকট হইতে বাইসাইকেল চায়। আমার স্বামী ১নং বিবাদীকে বাইসাইকেল দিতে না চাইলে ১নং বিবাদী ক্ষিপ্ত হইয়া আমার স্বামীকে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে। আমার স্বামী বিবাদীর গালিগালাজের প্রতিবাদ করিলে সকল বিবাদীগণ একই উদ্দেশ্যে বে-আইনী জনতায় দলবদ্ধ হইয়া হাতে লাঠিশোটা, ধারালো চাপাতি ইত্যাদি নিয়া আমার স্বামীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়িভাবে মারপিট করিয়া ছিলাফোলা জখম করে। বিবাদীগনের মারপিটের ফলে আমার স্বামী বেসামাল হইয়া পরিলে ১নং বিবাদী মোঃ আরফিন মিয়া তাহার হাতে থাকা ধারালো চাপাতিত্বরা হত্যার উদ্দেশ্যে আমার স্বামীর গলায় বাম পার্শ্বে সজোরে কোপ মারিয়া গুরুত্বর জখম করে। এ ঘটনা দেখে আশেপাশের লোকজন এসে বিবাদীগনের কবল হইতে আমার স্বামীকে রক্ষা করেন। উপস্থিত লোকজনের সামনে বিবাদীগণ আমার স্বামীকে সুযোগমত একাকী পাইলে মারপিট করিবে খুন করিয়া লাশ গুম করিবে মর্মে বিভিন্ন ভয়ভীতি হুমকি প্রদান করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। বিবাদীগনের মারপিটের ফলে আমার স্বামী আহত হইয়া পরিলে উপস্থিত লোকজনের সহযোগিতায় দ্রুত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আমি লোকমুখে সংবাদ পাইয়া আমারসহ আমার পরিবারের লোকজন দ্রুত হাসপাতালে যাইয়া উপরোক্ত ঘটনার বিষয় উপস্থিত লোকজনসহ আমার স্বামীর নিকট বিস্তারিত শুনি ও জানি। পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার স্বামীর অবস্থা আশঙ্খা জনক দেখিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফার্ড করেন। বর্তমানে আমার স্বামী ধানমন্ডি টুয়েন্টি সেভেন প্লাস হাসপাতালে চিকিৎসাধিন রহিয়াছে। উপরোক্ত ঘটনার বিষয় আমি স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের অবহিত করিলে তাহারা আমাকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।
এ বিষয়ে মেট্রোপলিটন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করা হবে বলে জানান তিনি।