নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় ডিপটিউবয়েল স্থাপন প্রকল্পে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
কালিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য অফিস ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজসে ২০২৩ অর্থবছরে (Tender Id: 866347) (package no: Arrp-150/1) পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্পের ১২৫ টি ডিপটিউবয়েল পাশ হলেও ৯৪ জন সুবিধাভোগী মধ্যে অধিকাংশ অতিরিক্ত অর্থের মাধ্যমে ডিপটিউবয়েল পেয়েছে বাকি ৩১ টি ডিপটিউবয়েল স্থাপন না করে বিল তুলে আত্মসাৎ করার অভিয়োগ উঠেছে।
তদন্ত করে দেখা যায়, প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ১২৫টি ডিপটিউবয়েলের মধ্যে ৩১ টি ডিপটিউবয়েল আত্মসাৎ করে লাখ লাখ টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিখরচায় হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য উঠে আসে।
ভুক্তভোগী আনসার সদস্য নুরুল হক বলেন,২০২৩ সালে ডিপটিউবয়েল পাশ হলেও আমি ডিপটিউবয়েল পায়নি। ইঞ্জিনিয়ার বলেন আপনার ডিপটিউবয়েল পাশ হয়েছে। পাশের কথা বলে দশ হাজার পাঁচশত টাকা ইঞ্জিনিয়ার খালিদ স্যার নিয়েছে। অথচ আমি ডিপটিউবয়েল পায়নি। অতিরিক্ত ঘুষ নিয়ে আমার ডিপটিউবয়েল অন্য কথাও দিয়ে দিছে।মো : নাসির শেখের ভাই সোহাগ মেম্বার বলেন,আমি অফিসের মেকানিক সাহাবুল ইসলাম কে প্রথমে ১৫ হাজার টাকা দিছি পরে ১০ হাজার দিছি, বর্তমান তিনি লোহাগড়ায় কর্মরত। আমাদের ডিপটিউবয়েলর গোড়া পাকা ও করে দেয়নি।
অনান্য ভুক্তভোগীরা বলেন আমাদের নামে বরাদ্দকৃত পাশ হয়ে আসা ডিপটিউবয়েল কালিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য সহকারী প্রকৌশলী খালিদ আহমদ উসমানী আত্মসাৎ করেছে। প্রশাসনের কাছে এই অপরাধের সঠিক বিচারের দাবি সহ ডিপটিউবয়েল অতিদ্রুত আমাদের প্রাপ্য বুঝে দেওয়ার দাবি করছি
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে কালিয়ায় ১২৫ টি বাড়িতে ডিপটিউবয়েল স্থাপন করা হয়। কাজটি পেয়েছিল সাতক্ষীরার ঠিকাদার মিস ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ ।
সুবিধাভোগীদের সঙ্গে আলাপ করলে জানা যায়, ডিপটিউবয়েলের জন্য সরকার নির্ধারিত ৭ হাজার টাকার পরিবর্তে সুবিধাভোগিদের কাছ থেকে ২৫ হাজার ৩০ হাজার ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অনেক টিউবওয়েলের নিচের পাকাকরণের কাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান করেনি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার লিটন বলেন,অফিস আমাদের নিকট থেকে শতভাগ কাজ বুঝে বিল প্রদান করে। তবে ডিপটিউবয়েল কার নামে পাশ হয়েছে কে পেয়েছে আর কে পায়নি সেটা অফিস বলতে পারবে।
কালিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিঠুন রায় বলেন, আমার জানা মতে যে ডিপটিউবয়েল পাশ হয়েছে সব বাড়িতে টিউবওয়েল করা হয়েছে। কোন বাড়ি বাদ পড়েনি।
কালিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী খালিদ আহমদ উসমানীর বক্তব্য আনতে গিলে এক সপ্তাহ সময় নেয়। অফিস থেকে বাহির হতে না হতে বিভিন্ন সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা, মেম্বার সহ বিভিন্ন লোক দিয়ে নিউজ বন্ধের জন্য সুপারিশ করে। এক সপ্তাহ পরে বক্তব্য আনতে গিয়ে দেখি অফিস কক্ষ বন্ধ। বক্তব্য আনতে অফিসে একের অধিকবার গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনে কথা হলে তিনি বক্তব্য না দেওয়ার তালবাহানা করে।