মঙ্গলবার , ১২ মে ২০২৬ , রাত ১০:৩৬
ব্রেকিং নিউজ

নড়াইলে জেলা সমাজ সেবা অফিসের উপ-পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

রিপোর্টার : নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ : বৃহঃস্পতিবার , ২৪ অক্টোবর ২০২৪ , রাত ০৯:১৭

নড়াইলে জেলা সমাজ সেবা অফিসের উপ-পরিচালক রতন কুমার হালদারের বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলেও তিনি আছেন বহাল তবিয়তে।

এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে সম্প্রতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা,সচিব, সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকসহ পাঁচটি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কালিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক  মো. শাহীদুল ইসলাম।          

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ওই কর্মকর্তা নড়াইল-২ আসনের আ'লীগ দলীয় সাবেক এমপি মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে দীর্ঘ দিন ৮-৯ বছর একই অফিসে থেকে সরকারী বিধিমালা উপেক্ষা করে   রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারসহ সীমাহীন দুর্নীতি, অপকর্ম ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হয়েছেন। আ'লীগ দলীয় সাবেক এমপি মাশরাফি বিন মুর্তজার একজন রাজনৈতিক পরামর্শ দাতা হিসেবে পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। সেই সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি  দীর্ঘকাল জেলা সমাজ  সেবা কার্যালয়ের উপ- পরিচালকের দায়িত্বে থাকায় সকল প্রকার অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগ পত্র উপ-পরিচালক রতন কুমার হালদারের বিরুদ্ধে দফা ওয়ারী কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে, যেমন- ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের কালিয়া  প্রেসক্লাব কল্যাণ সমিতিকে অনুদানের চেক প্রদানের ক্ষেত্রে নানা রকম  টালবাহানা ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অযথা হয়রানি করছেন। অনুদানের চেক বিতরণের ক্ষেত্রে সরকারি কোন নীতিমালা রতন কুমার হালদার দেখাতে পারেননি। অনুদানের টাকার পরিমাণ উল্লেখ না করে মনগড়া ৪টি শর্ত সাপেক্ষে চেক বিতরণের একটি চিঠি উক্ত প্রতিষ্ঠানকে ডাকযোগে প্রদান করেন। তবে ৪টি শর্তের মধ্যে অনুমোদিত কমিটির কথা উল্লেখ আছে যা তিনি নিজেই অনুমোদন দিবেন। যথারীতি কালিয়া প্রেসক্লাব কল্যাণ সমিতি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে উপ-পরিচালক রতন কুমার হালদারের নিকট কার্যকারী কমিটি উপস্থাপন করে। কিন্তু  তিনি অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে বিভিন্ন অজুহাতে উক্ত কমিটি অনুমোদন না দিয়ে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ফেরত পাঠিয়ে দেন। তিনি প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের কার্যকরী কমিটির অনুমোদন দিতে ৫হাজার টাকা করে উৎকোচ নেন। টাকা না দিলে কমিটি অনুমোদন দেন না বলে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযোগ আছে। চলতি অর্থ বছরে কালিয়া প্রেস ক্লাব কল্যাণ সমিতির অনুদানের চেক বাবদ ঘুষের টাকা না পাইলে  চেক ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি  প্রদান করেন।

এ ছাড়া গত বছর জেলার বিভিন্ন এতিমখানায় ভূয়া শিশুদের দেখিয়ে এতিমখানার জমজমাট ব্যবসা শিরোনামে' দৈনিক যুগান্তরসহ কয়েকটি পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। সে কারণেই  কালিয়া প্রেস ক্লাব কল্যাণ সমিতির অনুদানের চেক প্রদানে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে তিনি অনেক বাজে-বাজে মন্তব্য করেছিলেন বলে ব্যাপক গুঞ্জন আছে। দুর্নীতিবাজ ও অর্থলোভী উপ-পরিচালক রতন কুমার হালদার কর্তৃক অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ তাঁর সার্বিক কর্মকান্ড যথাযথ তদন্ত পূর্বক সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ও  দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

 এ বিষয় উপ-পরিচালন রতন কুমার হালদার বলেন, আমার কোন বক্তব্য বা মন্তব্য নেই। যিনি অভিযোগ করেছেন তিনিই বলবেন।

 




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত। কোড নং :- ৩৪৬১