২২ সেপ্টেম্বর ( রবিবার) সকল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শত শত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ অনুষ্ঠানে উল্লেখ্য ; প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও হাজারো শিক্ষার্থী ইউরোপে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে চায়। তারই প্রেক্ষিতে আমাদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটি থেকে অফার লেটার আসার পরে টিউশন ফি পে করে সর্বশেষ যেই ধাপটার সম্মুখীন হতে হয় তা হচ্ছে ভিসা ইন্টারভিউ। বিগত সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার মধ্যে অন্যতম আরো একটি ব্যর্থতা হচ্ছে ইউরোপের ম্যাক্সিমাম দেশের দুতাবাস বাংলাদেশে নিয়ে আসতে না পারা। ম্যাক্সিমাম দুতাবাস বাংলাদেশে না থাকার কারণে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের ভারতে গিয়ে ভিসা সাক্ষাৎকারের সম্মুখীন হতে হয়। ভারতে ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য প্রবেশ করতে গেলে তাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের ডাবল এন্ট্রি ভিসা করে নিতে হয়। কিন্তু তাদের শর্ত অনুযায়ী সকল বৈধ প্রমাণপত্র দেয়ার পরেও তারা বিনা কারনেই আমাদের ডাবল এন্ট্রি ভিসা প্রত্যাখ্যান করে দেয়। এতে করে যেমন আমাদের সময়ও নষ্ট হয় তেমনি আর্থিক দিক দিয়েও আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হই। আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থী স্কলারশিপ পাওয়ার পরেও তাদের এই ডাবল এন্ট্রি ভিসা জটিলতার জন্য নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌছাতে পারে না। পাশাপাশি আমরা যারা নিজস্ব অর্থায়নে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে টিউশন ফি পে করে থাকি তারা নির্দিষ্ট সময়ে ইউনিভার্সিটিতে স্ব-শরিরে উপস্থিত থাকতে না পারলে আমাদের প্রদানকৃত টিউশন ফি-ও ফেরত পাই না অনেকক্ষেত্রে। এ বছর অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশের তুলনায় রোমানিয়াতে সবেচয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশুনার জন্য তাদের মিনিস্ট্রি কর্তৃক প্রদানকৃত অফার লেটার পেয়েছে। ভারতীয় ভিসা জটিলতার কারনে আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কিছু শর্তসাপেক্ষে আমরা বিকল্প দুটি দেশ ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডে আমাদের ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রমের জন্য দুতাবাসে সাক্ষাৎকারের অনুমতি পাই। তাদের শর্তে ছিল ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে আমরা যেনো আবার ভারতেই আমাদের ভিসা সাক্ষাৎকার দেই। ইন্ডিয়ার ভিসা জটিলতার জন্য যারা তখনো টিউশন ফি পে করে নাই তারা এই নোটিশটা দেখার সাথে সাথেই অনেকে টিউশন ফি পে করে দেয় এবং ভিয়েতনামে যাওয়ার জন্য ভিসার আবেদনও করে ফেলে। অলরেডি কিছু স্টুডেন্ট ভিসা পেয়ে ভিয়েতনামে চলেও গেছে। ভিয়েতনামে ভিসা, প্লেনের টিকিট বুকিং, হোটেল বুকিং এসব মিলিয়ে অলরেডি অনেকেই ৮০-৯০ হাজার টাকার মত এখানে খরচ ফেলছে। কিন্তু হঠাৎ করেই আমাদের ভিয়েতনাম থেকে জানানো হয় ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ায় তারা এখন থেকে আর কোনো বাংলাদেশীকে নতুনভাবে সাক্ষাৎকারের অনুমতি দিবে না। প্রকৃতপক্ষে ভারত এখনো ঠিকঠাকমতো ভিসা ইস্যুই করছে না। তারা দু-তিনদিন পরপর নির্দিষ্ট সংখ্যক কিছু স্লট দেয় যেখানে আমাদের মধ্যে ৫-৭জন ভারতীয় ভিসার আবেদন করতে পারে। কিন্তু ওই ৫-৭জনও প্রায় ১০-১৫দিন অপেক্ষার পরে ভিসাহীন খালি পাসপোর্ট ফেরত পায়। সব প্রয়োজনীয় প্রমানপত্র দেয়ার পরেও কোনো ধরনের কারন ছাড়াই আমাদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়। ভারত আমাদের ভিসা ইস্যু করতেছে এই মিথ্যা খবরের জন্য আমাদের প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ এখন হুমকির মুখে যারা অলরেডি ৩-৫ লাখ টাকা টিউশন ফি সহ একোমোডেশন বাবদ প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় লক্ষ টাকা পে করে দিয়েছে। এখনো রোমানিয়ান প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী সহ অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশের শিক্ষার্থী মিলিয়ে প্রায় হাজারো শিক্ষার্থী তাদের অফার লেটার পেয়ে ১ বছরের টিউশন ফি পে করার পরেও ভিসা সাক্ষাৎকার দিতে পারছে না। রোমানিয়ায় পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভারতের দিল্লিতে রোমানিয়ান দুতাবাসে সাক্ষাৎকারের জন্য যেতে হয়। সেখানে এখন পর্যন্ত ডিসেম্বরের ২০ তারিখের স্লটও পূরন হয়ে গিয়েছে যেখানে আমাদের অনেকেরই ইউনিভার্সিটির এনরোলমেন্টের সর্বশেষ তারিখ ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ। পাশাপাশি সেখানে গিয়ে যদি আমরা ভিসা ইন্টারভিউ দিয়েও দেই আমাদের সেই রেজাল্ট আসতে মিনিমাম ১ মাস চলে যায়, কেউ কেউ ৪৫দিব পরেও সিদ্ধান্ত পাচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের বিকল্প হিসেবে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডে আবারো সুযোগ করে দেয়ার পাশাপাশি আমাদের আরো একটি নিকটবর্তী দেশ শ্রীলঙ্কাকেও অন্তত এই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবছরে বাংলাদেশি রোমানিয়ায় ইউনিভার্সিটিগুলোয় সুযোগপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করে দিতে অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আমাদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে অনুরোধ করছি। অতি দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত না আসলে আমরা পরবর্তীতে যদি ভিসা পেয়েও যাই আমাদের ইউনিভার্সিটির স্বশরীরে উপস্থিতির সময়সীমা অতিক্রম হয়ে গেলে ইউনিভার্সিটি আমাদের গ্রহন করবে না এবং আমাদের রোমানিয়ান ইমিগ্রেশন থেকে রোমানিয়ায় প্রবেশ করতে দিবে না। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের বিনীত আবেদন অতিদ্রুত আমাদের এতগুলো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে আমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন। পাশাপাশি পরবর্তী শিক্ষাবছরে যেনো আমরা আমাদের বাংলাদেশ থেকেই বিভিন্ন দেশের দুতাবাসে সাক্ষাৎকার দিতে পারি সে ব্যাপারেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করুন।
আমরা ইউরোপগামী শিক্ষার্থীরা উপরোক্ত এই বিষয়ে ৩দফা দাবি নিয়ে আগামীকাল রবিবার অর্থাৎ ২২শে সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেছি। উক্ত আয়োজনকে আপনাদের সংবাদমাধ্যম দ্বারা দেশবাসী ও কর্তৃপক্ষের নিকট তুলে ধরার আর্জি পেশ করছি।