নড়াইল জেলা প্রতিনিধি
নড়াইল জেলার একাধিক ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে ২ বছর আগে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিয়োগ উঠেছে একটি সঙ্গবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, তারা প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে দেনায় জড়জড়িত। অনেকে বাড়ি ছাড়া অনেকে পাওনাদারের চাপে হতাশায় ভুগছে ।
এই প্রতারক চক্রের প্রধান যশোর জেলার অভনগন থানার ৮ নং ছিদ্দিপাশা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামের(১) মো ঃ হুরমুজ সরদারের ছেলে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো মিরাজুল সরদার (৩৮),(২) মো ইচমাইল মোল্যার মেয়ে সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী তানিয়া বেগম (২৭) (৩) মো ধনু সরদার (মৃত্যু) ছেলে, সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো মিরাজুল ইসলামের পিতা হুরমুজ সরদার (৫৮)। (৪) মোঃ ইমরুল সরদারের ছেলে, সিঙ্গাপুর প্রবাসী মো মিরাজুল ইসলামের চাচাতো ভাই মো ছাইফুল সরদার (৩৯)।
এই বিষয়ে ভুক্তভোগীরা হলেন , পেড়লী গ্রামের মোঃ হিলাঙ্গীর সিকদারের ছেলে মো ঃ আলামিন সিকদার (২২) এর ১০ লক্ষ টাকা , শিতলপাটি গ্রামের মো ঃ হাচান শেখের ছেলে মোঃ মামুন শেখ (৩৫) এর ২০ লক্ষ টাকা, শিতলপাটি গ্রামের মো রবিউল শেখের ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম (২৮) এর ১০ লক্ষ টাকা, পেড়লী গ্রামের মোঃ হাবির ছেলে মো ঃ আজাদ (৩৫) এর ১০ লক্ষ টাকা, চন্দ্রপুর গ্রামের মো তোকি শেখের ছেলে মো ঃ সোহেল (২৩) এর ১০ লক্ষ টাকা, পেড়লী গ্রামের মোঃ শহিদের ছেলে মো রফিকুল (২৩) এর ১০ লক্ষ টাকা, শিতলপাটি গ্রামের মো ঃ মুরাদ শেখের ছেলে মোঃ সোহেল শেখ (৩২) এর ৫ লক্ষ টাকা , শিতলপাটি গ্রামের মো সাজেম শেখের ছেলে মোঃ সোজাল শেখ (৩৭) এর ১০ লক্ষ টাকা,জামরিলডাঙ্গা গ্রামের চানমিয়া (মৃত্যু) ছেলে জিন্দার মাস্টার (৫০) এর ২০ লক্ষ টাকা, নড়াইলের হারুন কাজির ছেলে মোঃ ফিরোজ হোসেন(৩৫) এর ১০ লক্ষ টাকা, কালিয়া গ্রামের ইপতার চৌধুরীর ছেলে মোঃ সায়েদ চৌধুরী (২৮) এর ১০ লক্ষ টাকা, পেড়লী গ্রামের মোঃ সুলতান শরিফ (মৃত্যু) ছেলে মো ঃ রবুল শরিফের (৪০) এর ১০ লক্ষ টাকা সঙ্গবদ্ধ প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে ভুক্তভোগীরা সব পথে বসেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বাড়ি গিয়ে দেখি ঘরে তালা ঝুলানো, মুঠো ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বন্ধ বলে। তার চাচা চাচির কাছে জানতে চাইলে, বলেন টাকা নিছে সত্য কিন্তু কত টাকা নিছে আমরা জানি না। ভুক্তভোগীরা জানায়, সিঙ্গাপুরে পাঠানোর কথা বলে প্রতিটা মানুষের নিকট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। দীর্ঘদিন ঘুরানোর পর তারা জানতে পারে এরা প্রতারক চক্র । তখন তারা টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে কিছুদিনের জন্য সময় নেয়। নিদিষ্ট সময় পার হলে তাদের বাড়ি গিয়ে দেখা যায় ঘরে তালা ঝোলানো। ভুক্তভোগী মো হিলাঙ্গীর সহ অনেকে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, ব্র্যাক সহ এলাকার বিভিন্ন মানুষের নিকট থেকে ধারে সুদে করে টাকা এনে দিছি। ছেলে বিদেশ গিয়ে সব পরিশোধ করবে কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙ্গে দিছে এই প্রতারক মো মিরাজুল সরদার সহ তার পরিবার। এখন আমরা সবাই পথে বসে গেছি। ভুক্তভোগীরা আরো বলেন,এ বিষয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি এবং এই সমস্যা সমাধানের জন্য অনুরোধ করছি বলে জানান।