মঙ্গলবার , ১২ মে ২০২৬ , সন্ধ্যা ০৭:৩০
ব্রেকিং নিউজ

বাবা মায়ের শাসন

রিপোর্টার : নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : বৃহঃস্পতিবার , ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ , রাত ১০:৩৩

লেখক :-

আফছানা খানম অথৈ

বর্তমানে সমাজে শিক্ষিত বাবা মা বাচ্চাদের পড়ালেখার জন্য শাসন করেন বেশী। পাঁচ ছয় বছরের শিশু এর কত বা জ্ঞান হয়েছে।যে সে একগাদা বই পড়বে?

বাচ্চাকে পড়ানোর পূর্বে  লক্ষ রাখতে হবে তার বয়স রুচি এবং সামর্থ্য।এই তিনটা দিকের প্রতি লক্ষ রেখে বাচ্চাকে পাঠদান করতে হবে।

কিন্তু বর্তমানের শিক্ষিত বাবা মা এসব দিক না ভেবে বাচ্চাদের পাঠদান করান।

বর্তমানে দেশের আনাচে কানাচে কিছু কিন্ডারগার্টেন প্রাইভেট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন কিছু ধনাঢ়্য ব্যক্তিগন।

এসব স্কুলে ক্লাস ওয়ান এ পাঠদান করা হয় দশ বিষয়ের ও বেশি।

শুধু তাই নয় ক্লাস ওয়ানের বাচ্চাকে পড়ানো হয় Article এর ব্যবহার।অর্থাৎ Article কোথায় কোথায় বসবে?

এখন প্রশ্ন হলো প্রথমে শিখতে হবে Article কাকে বলে?

তারপর শিখতে হবে কোন আর্টিকেল  কোথায়  বসবে?এটা সম্পূর্ণ গ্রামার লেভেলের সেভেন এইটের পড়া।

এইসব কঠিন  পড়া পাঁচ ছয় বছরের শিশু বাচ্চা  কি বুঝবে? 

এই পড়ার জন্য বাচ্চাকে টিচার দেয় চাপ।এরপর বাসায় গেলে মা বাবা দেয়,আরেক চাপ।

সব বাচ্চা পারে তুই পারিস না কেনো?

গাদা কোথাকার,মাথায় কিচ্ছু নেই,গোবর।এবার যদি পরীক্ষায় ফাস্ট না হতে পারিস।কিচ্ছু দেব না।মেরে রক্তাক্ত্ব করব।

এই সেরেছে বাচ্চা ভয়ে ভয়ে থাকে।কি করে ফাস্ট হওয়া যায় এই নিয়ে চিন্তাভাবনা করে।স্কুল থেকে ফেরার পর প্রাইভেট পড়তে যায়।সেখান থেকে আসলে আবার মা পড়ান।একটু যে বাচ্চা দম নিবে।সেই সময় নেই।

 ক্লাস ওয়ানের একটা বাচ্চা কিসের এত পড়া?বাংলা ইংরেজি অংক এই তিনটা বিষয় পড়ালে তো হয়? এর বাইরে এত বই কিসের?এতটুকুন একটা বাচ্চা এত জ্ঞান কিভাবে ধরে রাখবে?

বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন,বাচ্চাদের বয়স অনুযায়ী পাঠাদান করতে হবে। পড়ার জন্য বেশী চাপ দেয়া যাবে না।যদি অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়।ব্রেনে সমস্যা হবে,মেধা নষ্ট হবে,পড়ার প্রতি আগ্রহ কমে যাবে।

সাত বছরের অয়ন পড়ালেখায় খুব ভালো ছিল।কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র,সেকেন্ড বয়।কিন্তু মা বাবা সন্তুষ্ট না।বাচ্চাকে চাপ দেয়,

তোমাকে সবার সেরা হতে হবে?বৃথা সময় নষ্ট করা যাবে না।সব সময় পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হবে।একটু দম নিতে পারবে না।শুধু পড়ালেখা আর পড়ালেখা,এর বাইরে কিছু করা যাবে না।

কি আর করা মা বাবার কথা তো শুনতে হবে।অয়ন মা বাবার কথা অনুযায়ী পড়তে গিয়ে তার ব্রেনে সমস্যা দেখা দিয়েছে।সে এখন কথাবার্তা বলে না।হাবাগোবা হয়ে বসে থাকে।মা বাবার মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে।কাউকে চিনতে পারে না।

তাড়াতাড়ি ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হলো।বিস্তারিত বর্ণনা শোনার পর ডাক্তার বলল,

এতটুকুন বাচ্চাকে এত চাপ দেয়ার কি প্রয়োজন ছিল?

আপনাদের দোষে বাচ্চার এই অবস্থা হয়েছে।অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপের কারণে তার ব্রেনে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এখন তাকে সুস্থ করতে হলে পড়ালেখা থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখবেন।খেলাধুলা, আনন্দ,বিনোদনের মধ্যে রাখবেন।কোনো চাপ সৃষ্টি করবেন না।বাচ্চার সাধ্যের বাইরে কিছু করতে দিবেন  না।সে যা করতে চাইবে তা করতে দিবেন।তবে বাচ্চা সুস্থ হবে, এর ব্যতিরেকে নয়।

ডাক্তারের কথা শুনে মা বাবা ঘাবড়ে গেলেন।বুঝতে পারলেন নিজেদের ভুল।কেনো করলেন, অতিরিক্ত শাসন,কেনো দিলেন অতিরিক্ত পড়ার চাপ যার কারেণে বাচ্চার আজ  এই ভয়াবহ অবস্থা।এইসব ভেবে অনুশোচনায় কাতর হয়ে পড়লেন।

 




গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত। কোড নং :- ৩৪৬১