কলমে --জেবুন্নেছা জেবু
:- এদিকে পিউর সাথে ময়নার দেখা হলে পিউ বলে শুনো ময়না ভালোবাসাহীন মায়াহীন সম্পর্কে একছাদের নীচে একটা স্বাক্ষরের জন্য বেঁচে থাকাকে জীবন বলে না। এটা মনুষ্যত্বের অবমাননা মাত্র, ধার্মিকতার দোহাই দেয়া হয় অজ্ঞতার কারনে ,কোন র্ধমে অন্যায়কে সমর্থন করেনি।
ভালোবাসা অবৈধ হলে মায়ের ভালোবাসা হতে শুরু করে স্রষ্টার সকল সৃষ্টির প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে কি নাম দেবে?
আমি খুব জানি, সাগর তোমাকেই ভালোবাসে, তাহলে কোনটা সত্য আমি নাকি তুমি? (...….......)।
ময়না জানতে চায় আপনি এতো কিছু বুঝেন সাগরকে কেনো বুঝেন না?
সেতো খুব ভালো একটা ছেলে।
পিউ অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।
ময়না, সাগর নিশ্চয়ই তোমাকে বলেছে -আমি বড়লোকী কন্যার স্বভাবটা ছাড়িনি,ওর বাবা মাকে সম্মান করি না, তাই না?
ময়না অবাক হয়ে বললো - হ্যা,আপনি কি করে জানেন?
পিউ বললো আমরা মেয়েদের এটাই একটা বড় ভুল, আমরাই আমাদের শত্রু।
যেমন একজন শাশুড়ি বা ননদ ননস বুঝে না সে ও আমার মতো বা একজন বান্ধবী বুঝে না একজন মেয়ে বিয়ের পর শতভাগ চায় সংসারী হতে।
স্বামী বা স্ত্রী যদি অতি নিজ পরিবার মুখী হয়, নিজ বাবা মা ছাড়া কিছুই না বুঝে একান্ত অনুগত ছেলে মেয়ে হয়, সেখানে কখনোই সুখের সংসার আশা করা যায় না।
মাবাকে সম্মান করবে, ভালোবাসবে, দায়িত্ব পালন করবে সব ঠিক আছে কিন্তু জীবনসঙ্গীকে প্রাইওডিটি দিতে হবে, সম্মান করতে হবে, অবশ্যই ভালোবাসতে হবে সবকিছুর আগেই, অন্যথায় সেটা নামে মাএ সংসার হয় এবং উভয় পক্ষের লোকদের খেলার মাঠ হয়।
বিয়েটা সুখী এবং সুন্দর স্বাধীন জীবন যাপনের জন্য, সমঝোতা সমঅধিকার হতে হবে, তা না হলে ঝগড়া মনোমালিন্য চলতেই থাকে। নিজেদের সন্তানরা একটা সময় গিয়ে মা বাবাকে মান্যতো করবেই না, বরং সুযোগ নেবে।
যা সবাই সবার মাবাবার বেলায় নিয়ে থাকে। যে ভুল আমাদের বাবা মা করেছে সেটা অনুকরন করা যাবে না।
কেনো নিজেদের সংসারটা অন্যদের পরামর্শে চলবে ? সংসারটা কাদের ? গাড়ির ড্রাইভিং যে করে তাকে বাদ দিয়ে পাশের সিটে বসে অন্যজন চালালে কি ব্রেক ফেল করবে না?
ময়না বললো হ্যা,আপনি একদম সত্যি কথাটা বললেন। কিন্তু সাগরের ভাষায় আপনি সংসার মুখী নন,উশৃঙ্খল মেয়ে এভাবেই শুনেছি।
ময়না তোমার মনটা জয় করার জন্যে বলেছে।ওর কাজটা হলো তোমার কাছে আমাকে ছোট করা এ ছাড়া উপায় কি বলো? এই যে কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না, এটাতো আমরাই সৃষ্টি করেছি, তাই না?
ময়না বললো সত্যি আপনি অনেক বুঝেন কিন্তু কথা না বললে আমি আপনাকে বুঝতাম ই না।
আসলেই
এখন কথা বলা, প্রেম ,ছাড়াছাড়ি বাড়াবাড়ি সব বেড়েছে, তাই বেড়েছে একাকিত্ব। কমে গেছে নিজের মানুষ, হারিয়ে গেছে বিশ্বাস, কি এক বিলাসীতার দৌড়!সে দৌড়ে পরাজিত বেশীরভাগ মানুষ সুখ চায় কিন্তু সুখ তো পূর্ণ্য অর্জন ছাড়া সম্ভব নয়,,,,,,
ছোট্ট শিশুর মতো নিজের সব আবদার অভিযোগ ভুল শুদ্ধ ইচ্ছে মতো সবকিছুই নিসংকোচে নিজ অস্তিত্বের মতো প্রকাশ করার পর ও যার কাছে মূল্যায়ন পাওয়া যায় সেই সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষ।
পিউ কথা টেনে নিয়ে বললো
যখন দেখবেন আপনার মানুষ টা আপনার ভুল ত্রুটি গুলো নিয়ে উপহাস বিদ্রূপ করছে, অন্যের সামনে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে যতো কষ্টই হোক সেই মানুষটাকে ত্যাগ করুন।
কারণ তার কাছে নিজের ভালোবাসার মানুষটার চেয়ে পারফেক্ট মানুষের মূল্য বেশী। সময় থাকতেই ভুল ষ্টেশন ছাড়ুন,নয়তো কাঁদতে হবে সমস্ত জীবন।
কথাগুলো শুনে ময়না অবাক হচ্ছে ,পিউ তো অনেক বুঝে। পরদিন অফিসে সাগর বললো ময়না একটু কথা ছিলো
কিন্তু ময়না এডিয়ে যাচ্ছে দেখে
অফিস ছুটির পর
সাগর ছোট বাচ্চার মতো কাদঁতে লাগলো। সাগর বলতে থাকে ময়না আমি তোমাকেই ভালোবাসি ,তোমার জায়গাটা আমি সত্যি পিউকে দিতে পারিনি, ওকে কিছুতেই ভালোবাসতে পারছি না, কেনো এমন হলো? ময়না দয়াকরে আমাকে ক্ষমা করো বাচঁতে দাও...
বিয়ের আগে যা ভাবলেই না,এখন কেনো এসব বলছো? অনেক দেরী হয়ে গেছে সাগর।
জীবন এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি করে দেয়, সামনে ও যাওয়া যায় না, পেছনে ও ফেরা যায় না।
মানুষ নিজের অজান্তেই ভুল করে যা শুধরাবার পথ থাকে না। সব দোষ তুমি সাগরের অথচ কষ্টটা সবার। হুট করে কিছু করতে নেই। জীবন ছোট কিন্তু ভুল সিদ্ধান্তের মূহুর্ত গুলো ছোট নয়।
ময়না পড়েছে মহা বিপদে, সাগরকে বললো পিউ, তুমি আর আমি মুখোমুখি বসতে চাই, আসলে কি হচ্ছে তা জানা জরুরী ।
সাগর বললো ঐ পিউর সাথে আমি বসতে পারবো না মাফ করো
ময়না বললো, তাহলে সব তোমার দোষ
অথচ তুমি নিজে স্ব ইচ্ছায় তাকে বিয়ে করেছো সাগর।
এই যে তোমরা ভালোবাসি বলতে বলতে মুখে যতোই ফেনা তুলো না কেনো, সত্যি ভালোবাসা গুলো স্বার্থহীন হয়। চাওয়া পাওয়ার চাহিদা থাকে না। তুমিতো স্বার্থপর সাগর, বিনাদোষে পিউকে দোষী করে কতো মিথ্যা বললে আমার কাছে যা ঠিক নয়।
অথচ তোমার আর ওর পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে বিয়ে করে দিনের পর দিন নব বিয়ের সুখের মূহুর্ত পোষ্ট দিলে, আবার বছর না যেতেই সংসার ভেঙ্গে দুই জন দুইদিকে যাবার নাম একটা মোহ, ভালোবাসা নয়।
ভালোবাসা এতো সহজ বিষয় ও নয় যে চাইলেই মিলে। নিজেকে শুদ্ধ করো যে নিজেকেই বুঝে না অন্যকে কি করে বুঝবে?
যে সম্পর্কের সামাজিক কোন ভিত্তি নেই, স্বীকৃতি নেই ,সম্মান নেই , সে সম্পর্কের পেছনে সময় আবেগ অর্থ বিবেক সম্মান নষ্ট করার মতো বোকামী আর কিছু হয় না।
যাকে নিজের করে নিয়েছো , নিজ কর্মদোষে তাকে কষ্ট দেয়ার অধিকার তোমার নেই ।
নিজের মানুষ টাকে শতভাগ ভালোবাসা দিয়ে সংসারী হও।
মাঝামাঝি সবকিছুই বিড়ম্ভনা বাড়ায় আর নিজের সাথেই নিজের ছলনা বাড়ায় অযথাই, সুখী হতে চাইলে কিছুদিন দুঃখকে বরন করো সব শুদ্ধ করো একটাই জীবন, মনকে যেমন করে তেমনই হয়।
সাগর খুব হতাশ আজ তার ভুলে সবাই তাকে ভুল বুঝছে। সাগর পিউকে বিয়ে করার পর বুঝতে পারছে সে ময়নাকেই সত্যি ভালোবাসে।
ময়না সাগরকে একটা ম্যাসেজ দিয়েছে সকালে উঠেই সেটা পড়ছে
আমরা ছিলাম আছি থাকবো ভালোবাসি ও ভীষন দুইজন দুজনাকে কিন্তু কেউ কাউকে পাওয়া হলো না বলে এই জীবনে আর দুঃখ করো না। ভালোবাসার বেদনা নিয়ে না হয় বেঁচে থাকি, তোমাকে আমিও খুব ভালোবাসি বলা হয়নি কতোটা যন্ত্রনা নিয়ে বেঁচে থাকি।
চাইলেই সব মিলে না বলেই আজ আমি একা, তুমি ও একা অথচ ইচ্ছে করলেই আমরা সুখী হতে পারতাম ! কেনো হলো না বলতে পারো?
সাগর কল দিয়ে আবার ও ক্ষমা চেয়ে বললো ময়না ক্ষমা কি করা যায় না?
সত্যি বলতে কি মানুষ অদ্ভূত চরিএের একদিন যেই তুমি আমাকে সেরা চোখে দেখতে, অসাধারণ ভাবতে, সেই তুমিই আমাকে আবার অতি তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে পিউকে জীবনে জড়ালে। আমার সকল অবদান কে মিথ্যা করে দিয়ে। যেনো জল আকাশে মেঘ হয় আবার বৃষ্টি হয়ে মাটিতে ফিরে ।
আসলে তুমি কাউকে ভালোবাসোনি খুজেঁছিলে কূল। যাকে মেয়েরা ভালোবাসা ভেবে করে ভুল।
মেয়েরা মানে?
শুনো সাগর তুমি মানুষকে যতোটা বোকা ভাবো ততোটাই বোকা তুমি। কি করে ভাবলে আমি যাকে ভালোবাসবো তাকে পরীক্ষা করবো না?
এটা ভাবাটাই তোমার বোকামি।
মেয়েরা যতোটা সহজ ততোটাই কঠিন হয়।
তুমি পরীক্ষায় ব্যার্থ হবার পর দ্বিতীয় বার ক্ষমা করিনি তোমার অপকর্ম গুলো আমি বলতে চাই না, শুধু বলতে চাই কেউ নিজের মানুষকে অন্যের বাহুডোরে দেখার পর সেই মানুষকে বিশ্বাস করা যায় না।
তারপর ওভীষন কষ্ট পেয়েও তাকে ছাড়া চলবে না ভেবে ভুল মানুষের কাছে পড়ে থাকা আর ভালোবাসাটা এক ধরনের মানসিক হীনমন্যতা। এই মানসিকতা আমাদের খুঁড়ে খুঁড়ে খায়, বলতে পারি না চিৎকার করে আমি কি নিয়ে বাঁচি? কেনো এভাবে ছলনা করো বিশ্বাস নিয়ে ? ভালোবাসা বাচাঁতে পারে আবার মেরে ও ফেলতে পারে, সহজ নয় ভালোবাসা।
পিউ সাগরকে ছেড়ে চলে যাবে আজকাল সব কিছু তে তার অস্থির লাগে একটা বাচ্চা হলে তাকে নিয়ে কেটে যেতো সময় কিন্তু না সাগর সাফ কথা বলে দিয়েছে তার মন কিছুতেই পিউকে চায় না।
এই কথা শুনার পর কোন মেয়ে ঠিক থাকা আসলেই কষ্ট কর।
ইদানিং প্রায় ঘুমের ঔষধ নিয়ে মরার মতো কাটে সময়।
ময়না সাগরকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতো , সাগর গরীব ঘরের সন্তান ছিলো ময়না যতোটা সম্ভব সাহায্যে করতো।
কিন্তু কি যেনো হয়ে গেলো সাগর হঠাৎ বড়লোকের একমাএ সুন্দরী মেয়ে পিউ মেয়েটার দেয়া প্রস্তাবে রাজী হয়ে গেলো, সাগর ও ময়না মাস্টার্সের শেষ বর্ষে আর পিউ অনার্স প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষে ময়না একটা স্কুলে চাকুরী নেয় আর সাগর পিউকে বিয়ে করে সরাসরি ওদের কোম্পানির এম ডি পদ পায়। সাগরের হঠাৎ বদলে যাওয়ায় ময়নার জীবন উলট পালট হয়ে যায়।
দুই বছর পর সাগর একদিন তার ভুলের জন্য ক্ষমা চায়, ময়নাকে বলে তুমি আমার কোম্পানি তে join হলেই বুঝবো ক্ষমা করেছো। ময়নার সেসময় চাকরীর খুব দরকার ছিলো । স্কুলের চাকুরীর সম্মানী ছিলো কম। তাই সাগরের কোম্পানিতে চাকরী করলেও সাগর ও পিউকে মানসিক ভাবে স্বাভাবিক মেনে নিয়েছিলো ।
চলবে,,,,,,