লেখক :-
ইলা ইয়াছমিন
হিংসা বিদ্বেষ, প্রতিশোধ,অহংকার নয়, প্রযুক্তি, বড় বড় দালান কোঠা,বীজ, স্কুল, হাসপাতাল নির্মাণ নয়, এবং শুধুমাত্র নির্বাচনে এসে ক্ষমতায় বসে শক্তি প্রয়োগ নয়। অন্যায় করার পরে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে গিয়ে শাস্তি দেওয়া নয়।( কারন কাউকে অন্যায় ভাবে মেরে ফেলার পর শাস্তি দিলে ঐ মৃত ব্যাক্তিটি তো আর ফিরে আসবে না। তাই বলে কি বিচার হবে অবশ্যই হতে হবে।) তাই যে কোন অন্যাকারী যে কোন অন্যায় করার আগে তাকে রুখে দেয়া এবং মানুষের মনে মানবতা মনুষ্যত্ববোধ, দেশপ্রেম সৃষ্টি করার ব্যবস্থা করতে পারাই হচ্ছে প্রকৃত সংস্কারের কাজ।
তা শুধু শক্তি প্রয়োগ করে সম্ভব নয়, এটা বারবার প্রমাণিত। লাগবে একটা সুন্দর শান্তিময় নিখুঁত আদর্শ। হ্যা ইসলামের প্রকৃত আদর্শ দিয়েই এমন একটা সুন্দর রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব। আমরা যুগে যুগে ইতিহাসে তাই দেখি। ১৪০০ বছর আগে প্রকৃত ইসলাম প্রতিষ্ঠার ফলে তখনকার সময়ে মানুষ যেমন ঘরের দরজা খুলে ঘুমাতে পারত, মানুষ স্বর্ণের দোকান খুলে রেখে মসজিদে যেত অন্যান্য ধর্মের লোকেরা নির্ভয়ে যার যার উপাসনালয়ে যেত। একটি সুন্দরী যুবতী নারী স্বর্ণ অলংকার পরিহিত অবস্থায় রাতের অন্ধকারে একা শত-শত মাইল পথ হেটে যেত তার মনে আল্লাহ ও বন্য পশুদের ভয় ছাড়া আর কোন ভয় থাকতো না। চোর, ডাকাত,গুন্ডা এসব কিছুর ভয় থাকতো না। কারন আল্লাহর প্রকৃত দীন অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম বিধান দিয়ে আল্লাহর রাসুল সা, ইস্পাত কঠিন ঐক্যবদ্ধ একটা জাতি গঠন করে নিজেদের জীবন সম্পদ উৎস্বর্গ করে, অক্লান্ত পরিশ্রম করে এমন একটা শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একটু চিন্তা করেন একটা সমাজে কতটুকু নিরাপত্তা হলে এমন ভাবে মেয়েরা চলা ফেরা করতে পারত। হতাশ হওয়ার কিছুই নেই, সময় চলে যায়নি।
ঠিক আজকের দিনেও তা সম্ভব। মানুষের তৈরি বিধানকে বাদ দিয়ে,একজন আদর্শ নেতার আনুগত্যে যদি আমরা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের উপর ইস্পাতের মতো ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে আল্লাহর হুকুম বিধান প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলে সমাজে আসবে অনাবিল শান্তি। মানুষে মানুষে কোন হিংসা থাকবে না, মানুষ মিথ্যা কথা বলবে না, কোন বৈষম্য থাকবে না, মারামারি থাকবে না, কোনরকম ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট থাকবে না, ব্যবসায়ীরা খাদ্যে ভেজাল মিশাবে না, চুরি, ডাকাতি কিছুই থাকবে না। সমাজে থাকবে ন্যায় বিচার। অন্যায়কারী যে-ই হোক, হতে পারে আপনজন, পয়সা ওয়ালা তা দেখা হবে না। তার একমাত্র পরিচয় হবে সে অন্যাকারী। তার যথাযথ শাস্তি হবে। একজনের সাথে আরেকজনের সম্পর্ক হবে আত্মার সম্পর্ক ভাই ভাই। একজন যদি আরেক জনের সাথে ভুল বসত সামান্য অন্যায় করে ফেলে তাহলে ক্ষমার দরজা খুলে দিবে। কারন সে এটা বুঝবে ক্ষমাই মহত্মের লক্ষন। সবার মনে আল্লাহর ভয় থাকবে। ইসলামের প্রকৃত আদর্শ ধারন করলে সমাজে প্রতিটি মানুষ হবে আদর্শ মানুষ। সবাই মিলেমিশে চলবে। এটাই ইসলামের প্রকৃত রূপ। যার আক্ষরিক অর্থই হচ্ছে শান্তি। একবার ভাবুন তো এমন একটা সমাজ পেলে কেমন কাটবে জীবন?