কবি– সুহাইল আহমেদ
দুর নীলিমার চাঁদ দেখেছ
দেখনি তাহার ক্ষত,
অপূর্ণতা সবারই আছে
ঠিক আমারই মত।
বনের পাখির গান শেষ হলে
কে রাখে তাহার খোঁজ?
দুঃখ ভুলাতে গেয়ে যায় গান
সুরের পাখিরা রোজ।
ফুলের বৃক্ষ শুকিয়ে গেলে
কে রাখে তা আঙিনায়?
দুঃসময়ের বন্ধুটাকেও
অনেকেই ভুলে যায়।
আতরের ঘ্রাণ যতক্ষণ বহে
ততক্ষণই তার খ্যাতি,
ঘ্রাণ ফুরালে আতরদানী
পড়ে থাকে দিবা-রাতি।
জলসা ঘরের ঝাড়বাতি খানা
রঙিন আলোতে জ্বলে,
দিনের বেলায় সেই ঝাড়বাতি
নীরবে নিভৃতে ঝোলে।
শীত কালেতে রবির কিরণ
সকলের কাছে প্রিয়,
গ্রীষ্ম এলে একই সেই রবি
হয়ে যায় অসহনীয়।
শীতল জলে তৃষ্ণা মেটাতে
আসলেই বড় মজা,
পৌষের জলে স্নান করিতে
কেন তবে এত সাজা?
দেহের কোথাও কাঁটা ফুটিলে
কাঁটা দিয়ে তোলা হয়,
তবু কেন কাঁটা এতো নিন্দিত
সকলের কাছে হায়!
দৈনন্দিন রান্নার কাজে
আগুনের দরকার,
ঘরের চালেতে আগুন লাগিলে
ভুলি তার উপকার।
নিজমনে মোরা কত কিছু লিখি
খাতার পৃষ্ঠা জুড়ে,
যদি সে পৃষ্ঠা ছিড়ে যায় তবে
ফেলে দেই আঁস্তাকুড়ে।
বিনা প্রয়োজনে কেউ কারো নহে
মাটির গড়া এই ভবে,
দুঃখ কষ্ট বিরহের মাঝে
ছেড়ে চলে যায় সবে।