দেশের সর্বউত্তরে হিমালয়ের পাদদেশ পঞ্চগড়ে সর্বত্রে আবারো পৌষের শীত ও ঠান্ডা জেঁকে বসেছে।
ক্রমাগতভাবে গত মঙ্গলবার ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস পরে নেমে আসে ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রীতে। এ বছরে সবচেয়ে নিম্ন ডিগ্রীতে তাপমাত্র রেকড করা হয় মঙ্গলবার। শীত ও ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষদের জনজীবন। পাথর শ্রমিক,ভ্যানচালক ও দিন মুজুরদের জনজীনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সচেয়ে বেশী বিপাকে পড়েছে, নদী থেকে পাথর উত্তলনকারী শ্রমিকরা।পাশে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী হীম শীতল জলে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া মহানন্দা সহ বেশ ক'টি নদী থেকে পাথর ও বালি উত্তোলনের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক। এই পেশার সাথে জড়িত অন্যান্য কর্মসংস্থানে রয়েছে আরো প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জীবন জিবীকা।দিনের একটু রোদের দেখা মিললেও রাতে কুঁয়াশার সাথে উত্তরের হিমেল বাতাসে হাড় কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে জনজীবনে। বিশেষ করে দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক, পাথর শ্রমিক, রিকশা-ভ্যান চালকসহ খেটে খাওয়া মানুষের বেশি দুর্ভোগ পোহাতে দেখা যায়।অন্যদিকে বাজারে নিত্য পন্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সল্প আয়ের শ্রমিকরা বর্তমানে যা আয় করছেন তা দিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।উত্তরের হিমেল বাতাস কুঁয়াশা ও ঠান্ডায় তাদের জীবনে নেমে পড়েছে অস্বস্তিশীল পরিবেশ।জীবন জীবিকায় সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে পাথর শ্রমিকরা প্রতিদিন হীমশীতল নদীতে ডুবে পাথর উত্তোলন করতে দেখা যায়।কেউ কেউ ঠান্ডা জনিত কপ সর্দি কাঁশিতে ভুঁগছেন। ফলে অনেকেই এই ঠান্ডায় কাজে যেতে পারছেন না।অনেকের পরিবারে অর্থাভাবে অতিকষ্টে জীবন যাপন করছেন। পাথর শ্রমিকের সাথে জড়িত রহিমুদ্দীন ও আইয়ুব আলী জানান, ঠান্ডায় তাঁদের আয় রোজগার এখন অনেক কমে গেছে। গরম মৌসুমে তাঁরা প্রতিদিন ৭/৮ শত টাকা উপার্জন করত কিন্তু শীত মৌসুমে এখন মাত্র ৪/৫ শত টাকা আয় করেন। বোদা উপজেলার ভ্যানচালক আমিনুল ইসলাম বলেন,এখন ঠান্ডায় অনেকেই অটোরিক্সাতে যাত্রীরা চলাফেরা করছে কিন্তু ভ্যান ও রিক্সায় আগের মত এখন লোক উঠছেনা ফলে আগে প্রতিদিন ৫/৬ শত টাকা উপার্জন হতো এখন ঠান্ডার কারণে ৩/৪ শ টাকা আয় আসে।ভ্যান ও রিক্সা চালক এবং বিশেষ করে পাথর শ্রমীকদের শীত ঠান্ডার কারণে এই সীমিত অর্থ দিয়ে সংসার চালানো অচল হয়ে পড়েছে।তাদের সন্তানদের লেখাপড়া খরচ ও রোগ চিকিৎসা কিছুই করতে পাচ্ছেন না।বাজারে পণ্য সামগ্রীর মুল্য বৃদ্ধি অন্যদিকে ঠান্ডায় আয় রোজগার কমে যাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তাদের পরিবার।পৌষের এ ঠান্ডা যেন তাঁদের মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাড়িয়েছে।