অবিলম্বে বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মিথ্যা, গায়েবি ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
একই সাথে তিনি স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রামে নিহত ও আহত হয়েছেন তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ারও দাবি জানান।
আজ সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির উদ্যোগে ‘দ্বি-কক্ষ পার্লামেন্ট: উচ্চ কক্ষের গঠন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় বক্তৃতাকালে তিনি এই আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল ইসলাম জানান, ‘- আমাদের ও বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা, হয়রানিমূলক ও গায়েবি মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক বলে আমি আবারও দাবি উত্থাপন করছি অন্তবর্তী সরকারের কাছে। আর স্বৈরাচার বিরোধী সংগ্রামে যারা আহত হয়েছেন, নিহত হয়েছেন তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আরেকটা কথা এই অন্তবর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই, এখনো আপনাদের প্রশাসনে সেসমস্ত ব্যক্তি রয়ে গেছেন যারা ফ্যাসিস্ট সরকারকে দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য দুর্নীতি ও দুবৃর্ত্তায়নে মদদ দিয়েছে, তাদেরকে এখনো পর্যন্ত ওই সমস্ত জায়গা থেকে অপসারণ করা হয়নি। আমরা আবারো দাবি জানাই, অতি সত্ত্বর তাদের চিহ্নিত করে সরিয়ে দিয়ে এমন একটা নিরপেক্ষ কাঠামো তৈরি করতে হবে যাতে একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে।’
মূল প্রবন্ধে জাতীয় সংসদ প্রশ্নে জেএসডির প্রস্তবনায় বলা হয়েছে, বিদ্যমান এক কক্ষের জাতীয় সংসদ দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ গঠন যার মেয়াদ হবে ৪ বছর। সংসদের নিম্নকক্ষ হবে ৩ শ’ আসন বিশিষ্ট এবং উচ্চকক্ষ ২ শ’ আসনের।
সংসদের নিম্নকক্ষে দলীয় প্রতিনিধিরা এবং উচ্চকক্ষে শ্রেণী-পেশা-কর্মজীবীর প্রতিনিধিরা থাকবেন। উচ্চ কক্ষ থেকেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে।
বিএনপির মহাসচিব জানান , ‘আপাতত রাষ্ট্র পরিচালনা এখন যাঁরা এসেছেন এবং নির্বাচনের ব্যবস্থা করবার জন্যে আমার দল যেটা বিশ্বাস করে যে, এই ধরনের প্রধান সমস্যাগুলো হলো মৌলিক যে পরিবর্তন আসবে সেই সংশোধনী যেটাই বলি না। কারন সেটা কখনই জনগণের মতামত ছাড়া অসম্ভব। তার জন্য পার্লামেন্ট হচ্ছে একমাত্র জায়গা।’
তিনি জানান , ‘যে কোনো পরিবর্তন অথবা যেকোনো সংস্কারে জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়, উচিতও নয়। যে কারণে সবার আগে যেটা দরকার সেটা হচ্ছে যে, ওই সরকারকে পদত্যাগ করে, নির্বাচন কমিশনকে ভেঙে দিয়ে নতুন করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা সেটা আমরা দাবি করেছিলাম। অবশ্য ইতিমধ্যেই পতন হয়েছে সরকারের, ভেঙে দেয়া হয়েছে সংসদ এবং অন্তবর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নিয়েছেন তারা।’
তিনি বলেন, ‘সুতরাং পার্লামেন্ট নির্বাচন করতে হবে সেটা যেন একেবারে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় সেজন্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সেই নির্বাচন হতে হবে এবং নিরপেক্ষ অবাধ নির্বাচন হতে হবে।’
জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, ‘একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অবশ্যই করতে হবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তবে কেন্দ্রীয় সংস্কার ছাড়া নির্বাচন দিলে তাতে কোনো লাভ হবে না। এটা আমাদেরকে করতে হবে। সংবিধান সংস্কার ও শাসনব্যবস্থা মেরামত করতে হবে। যারা হত্যা করেছে, তাদেরকে ক্ষমা করা যাবে না। অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘যেভাবেই হোক এখন যারা অন্তবর্তী সরকার তারা এই গাড়িটা চালাচ্ছেন, ড্রাইভ করছেন তাদের হাতে স্টিয়ারিং। শেষ সিদ্ধান্তটা তাদেরই নিতে হবে। এটা ভাবতে হবে আপনাকে।’
আসম আবদুর রব জেএসডির সভাপতির সভাপতিত্বে ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দীন পাটোয়ারী ও শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন সাধারণ সম্পাদকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ জাসদের শরীফ নুরুল আম্বিয়া,রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আবু ইউসুফ সেলিম,গনসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়ক আবুল হাসান রুবেল, এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।
আলোচনা সভায় গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী, জেএসডির মোহাম্মদ সিরাজ মিয়া, তানিয়া রব, কে এম জাবির প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।