এইচ এম মিনহাজুল আবেদীন
আমার স্নেহের প্রিয় সন্তান!
করিয়াছি তোমায় উপদেশ দান,
কথাগুলো অতিশয় মূল্যবান।
মান্য করিবে মোর পুত্র, হবে কল্যাণ।
আমি খুঁজিয়াছি সারাটি জীবন,
করিয়াছি সুখের সন্ধান।
আমি এদেশ বিদেশ ঘুরিয়াছি,
তাই বলছি সেই ফরমান।
আমি সুখ-সুখ করে কাঁদিয়াছি যৌবনে আসিবে সুখ।
নাহি মিলিয়াছে সুখ,
তবুও হৃদয়ে প্রশান্তি হাসিখুশি ছিলো মুখ।
নয়নে দেখিতে সুখ চাকচিক্যে যাহার,কিন্তু,
গভীরে ছিলো যে তাহার ভয়াল আঁধার।
পাশের বহু জন দেখিয়াছি সেই চাকচিক্য ধাঁধায়,
তবুও সে ধাঁধায় ফেলিতে পারেনি আমায়।
তুমি দেখিবে রঙ্গিন স্বপ্ন বুনা কত-শত মানুষ,
নয়নের আভা সেসব তবে, "বাস্তবে তা" রঙিন ফানুস।
নয়নে যাহা দেখিয়াছি তুমি দেখিতে পারো,
চাকচিক্য ভুবনে তুমি দেখিবে আরো।
কিন্তু, জানিবে তাহা সমুদয় সুখের উপাদান নহে,
স্মরণ রাখিবে তুমি,
ভ্রান্তি পথে নাহি সুখ বহে।
ভ্রান্তি পথে খুঁজিয়া সুখ!
ইহকাল পরকাল দু-পারেই দুখ!
ভ্রান্তি পথে নাহি খুঁজে সুখের সন্ধান,
সেটুকু সময় পড়িয়া দেখিবে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন।
অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, প্রয়োজনীয় যাহাকিছু সব,
জীবনের তরে সবকিছু দিয়াছেন মহান রব।
তাই তোমার তরে শুকরিয়া হে মহান রব,
আমার নহে কিছু;
যাবতীয় তোমার গৌরব।
নয়নে দেখিতে মোহময় স্বাদিত ভুবন,
যাহা কিছু করিয়াছি শুধু,
ধরিয়া রাখিতে যৌবন।
ধরিয়া রাখিতে যৌবন করিয়াছি বহু কষ্ট,
বেলা শেষে বুঝিয়াছি মিছে সময় করিয়াছি নষ্ট।
তাহাতে লোভনীয় ছিল পূর্ণ জগৎ উপর,
তাহার চেয়ে বেশ ভালো ছিল শূন্য উদর।
তবুও,
বেলা ফুরাবার তরে শান্তিতে আসিতো ঘুম,
বহু দেখিয়াছি সুখি মানুষ গুলো জগতে নির্ঘুম।
আমি এক অধিঃপতিত সমাজে দিন কাটায়াছি।
চারিদিকে শুধু অশ্লীলতার পানে দৌড়াতে দেখিয়াছি।
বহু জন দেখিয়াছি অশ্লীলতায় ভরিয়াছে উদর।
তাহাতেই সুখ মিলিত বটে!
তবে মানুষ হইয়াছে ভোঁদড়।
অবাক দৃষ্টি পানে দেখিয়াছি তাহাদের মহা ধংসের গ্লানি,
রঙ্গিন স্বপ্ন খুঁজিয়া দেহ-মন বিষাদের ম্লানি!
নয়নে দেখিয়াছি লোভনীয় যতকিছুর উপাদান,
জমা ছিলো গভীরে তার জুলুমের প্রতিদান।
ছুটিয়াছে বহু জ্ঞানী গুনী পণ্ডিত বিজ্ঞজন,
ছুটিনি সেদিকে,
আপন হস্তে করিয়াছি হৃদয় দমন।
অশ্লীলতার মাঝে খুঁজিয়া সুখ,
পাইবে পাপ পঙ্কিলতা।
একই সুখ খুঁজিয়া পাইবে রাখিয়া শালীনতা।
আমি ভুবন হইতে চলিয়া যাইবো,
রইবো না চিরকাল,
কথাগুলো হৃদয়ে লুকাইয়া রাখিও
জন্ম হইতে মৃত্যুকাল।
তুমি ছিলে আমার পরম আদরের ধন,
যাহা লিখিয়াছি তাহা করিবে অনুসরণ।
মা হইলো এই জগতের শ্রেষ্ঠ নিয়ামত,
মা-জননী রবের দেওয়া শ্রেষ্ঠ রহমত।
তাহার তরেই দেখিয়াছো সুন্দর ভুবন,
বাঁচিয়া থাকিতে জননীর করিবে যতন।
তোমার প্রকৃত সুখের পথটা দেখাইয়া যাই,
তুমি সুখী হইলে মোর চাওয়া-পাওয়া আর কিছু নাই।
তুমি যদি সুখী হতে চাও জীবনে মরণে,
দুটি গ্রন্থ রাখিও সঙ্গে জীবনের প্রতিটি ক্ষণে।
মদীয় রবের-
১. মহাগ্রন্থ কুরআনের বানী।
২. ছহিহ হাদিসে লেখা বিশ্বনবীর পূর্ণ জীবন খানি।
আমার কলিজার টুকরা প্রিয় সন্তান,
আল-কুরআন আর সহীহ সুন্নাই হইবে তোমার সঠিক পথের সন্ধান।
তোমার যৌবনের সূচনালগ্নেই সালাত সঙ্গে লইবে,
ধরণীতে যাহা কিছু কল্যাণ তোমার সঙ্গী হইবে।
থাকিবে তুমি যেথায়,
ওয়াক্ত মত সালাত করিবে আদায়।
হেলায় ফেলায় করিয়া নষ্ট নাহি করিবে সময়।পুত্র!
সালাত বিনা কখনো সুখ করিয়া সন্ধান,
বিনা সালাতে অর্জিত সুখ করিবে প্রস্থান।
সালাতহীন যত ধনদৌলত করিয়া কামনা,
বিফল হইবে তোমার সমুদয় প্রয়াস সাধনা।
তিনটি বিষয় সর্বদা করিবে বর্জন, ১. শিরক হইলো রবের প্রতি জুলুমের মহাভার,
এমন গুনাহ করিলে ক্ষমা নাহি কিন্তু আর।
২. সকল অশ্লীলতা হইতে থাকিবে তুমি দূরে।
রবের ভীতি রাখিবে সদা অন্তরে।
৩. যাচাই করিয়া কথাগুলো করিবে বিশ্বাস,
কুরআন সুন্নার আলোতে করিবে বিন্যাস।
সর্বদা করিবে মধ্যপন্থা অবলম্বন,
সকল উগ্রতা তুমি করিবে বর্জন।
একমাত্র কোন দল ব্যাক্তি গোষ্ঠীর নাহি করিবে পূজারী, দীনের পথে চলিতে কুরআন সুন্নাহর পূর্ণ অনুসারী।
উত্তম কথাটুকু গ্রহন করিবে শুধু।
প্রমাণিত নয় সে কথা গ্রহণীয় নয়,
যদিও বক্তার মুখে ফুটে মধু।
তোমার মাতা-পিতা ভাই-বোন স্ত্রী পরিবার,
সকলেই মোরা তোমার সে সুখের ভাগিদার।
তবে, আমার চাওয়া-পাওয়া নাহি কিছু আর,
নাহি চাহিয়াছে মা-জননী তোমার।
তুমি মোদের ঠকাবে?
তোমাকেও ঠকাবে তোমার সন্তান! কারণ!
স্বীয় হস্তদয়ে শিখাইয়া দিয়াছো জাহা,
রাখিবে তাহার প্রমাণ।
তোমার দায়িত্ব তুমি করিবে পালন, সকলের হইবে সহায়, যতই করিবে তোমায় বারন!
আমি দেখিয়াছি স্বীয় আত্মীয় পরিবার।
সকলেই করিতো সমাদর, তুমিও করিবে সদাচার।
রবের পক্ষ হইতে যখন আসিবে মেহমান,
কখনো করিবেনা তাহাদের অসম্মান।
এমন স্বভাব তুমি করিবে বর্জন,
সকলের সহিত করিবে কোমল আচরণ।
সালাম দিয়া মুচকি হাসিয়া করিবে আলিঙ্গন,
ন্যায়ের পথে সদা তুমি করিবে বিচরণ।
মলিন মুখে তাহারে অন্ন নাহি দিবে,
কৃপণতা নাহি করিয়া হাসিমুখে অন্ন উঠাইয়া দিবে।
জিজ্ঞাসা করিবে অতিথির আত্মীয় সমাচার,
আহার করাইবে যেটুকু নসিবে জুটিবে তোমার।
মুখে রাখিবে হাসি জীবদয়ে ভালোবাসি,
ভরসা করিবে রব কে শুধু,
তাহারই হইবে দাস।
মুখে রাখিবে হাসি কষ্ট দেবেনা কোন জনে,
জাহান্নাম যথেষ্ট হইবে তোমার মৃত্যুর পরক্ষনে।
মেহমান কে তুমি করিবে আঘাত?
উঠে যাবে রবের দেওয়া নাজ নেয়ামত।
সর্বদা করিবে রবের শুকরিয়া গুজার,
গরিব দুখীদের করিবে সুখের অংশীদার।
পরিশেষে কথাগুলো রাখিবে মনে,
রবের অখুশি নাহি কোন ক্ষণে।
জোর করিয়া সুখের পাখিটা নাহি দিবে ধরা,
বিফল হইবে চেষ্টায়,
অভাব আসিয়া দুয়ারে নাড়িবে কড়া।
উপদেশবলি লিখিয়াছি সব কাব্যছড়ায়,
সহজেই বুঝিতে পারিবে মোর উপদেশমালায়।
পরিশেষে আবারও বলিবো কথা একটাই,
আমলের মাঝেই শান্তি আসিবে সঠিক একথাই।
বৃথা চেষ্টা নাহি করিবে!
বিফল হইবে সব।
নাহি সুখ আসিবে পুত্র! অসম্ভব।
মোর জীবনে বহু দেখিয়াছি অপুণ্য!
ধরণীতে যাহাকিছু রহিয়াছে সবটুকুই শূন্য।
প্রার্থনা করিয়াছি রবের নিকট,
চাহিয়াছি মাগফিরাত,
আমলের বিনিময়ে আসিবে নাজাত।
তুমি চলার পথে থাকিবে সাবধান!
রবের পক্ষ হইতে নামিয়া আসিবে কল্যাণ অফুরান।ইতিঃ-তোমার শ্রদ্ধেয় পিতা।