খুলনার তেরখাদা উপজেলার ইউএনও মোহাম্মাদ শহিদুল্লাহ'র বিরুদ্ধে বিজয় দিবস ও তারুন্যের উৎসবে ব্যপক অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে সরকারী টাকা আত্মসাতসহ টেন্ডার ছাড়া কাঠের ব্রীজ সংস্কারের নামে নাম মাত্র কাজের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা বাবদ ৭৫ হাজার ও বিজয় মেলা বাবদ ১ লক্ষ টাকা সরকারি বরাদ্দ থাকলেও বিজয় দিবসের দোহাই দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন ইটের ভাটা, করাত কল ও এনজিওসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ আসে। এ ছাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ৮০ হাজার ভাড়ার টাকাও খরচ দেখিয়েছেন ওই খাতে। অথচ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী দিয়েছেন ৭৫ টাকার প্লেট ও ফুল। আবার ভাউচারে দেখিয়েছেন ১২৫ টাকা। আর খাবার হিসাবে দিয়েছেন কেক, কলা, বিস্কুট ও সিংগাড়া বলে জানান জনৈক মুক্তিযোদ্ধা।
এ ঘটনায় এলাকায় চলছে নিন্দা ও সমালোচনার ঝড়। তবে চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে ইউএনও শহিদুল্লাহ বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা তাদের বরাদ্দের ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ভাড়ার ৮০ হাজার টাকা তাদের চাহিদা মাফিক নিজেরা খরচ করেছেন। কিন্তু ওই মুক্তিযোদ্ধারা বলেছেন, তাদের মতামতের কোন গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া এ বিষয়ে ভাউচার দেখতে চাইলে ইউএনও ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে এড়িয়ে যান।
১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে ব্যয় করা হবে বলে চাঁদা আদায় করা হয়েছে বিভিন্ন ইটভাটা, এনজিও, করাতকলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে। ওই সমস্ত ভাটার মালিক ও এনজিও প্রতিষ্ঠানে ফোন করে এর সত্যতা মিলেছে। তবে ইউএনও বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এ দিকে তারুণ্যের উৎসবের ৯ টি প্রগ্রাম সম্পন্ন না করে শুধু হা-ডু-ডু খেলার আয়োজন করে বাদ রাখা হয়েছে ফুটবল, ব্যাডমিন্টন ও খেলা এবং বিজ্ঞান মেলা ও তারুণ্যের উৎসব আলাদাভাবে করার কথা থাকলেও একই ষ্টলে দুটি প্রগ্রাম করা হয়েছে।
এ ভাবে অনিয়ম করে কাগজে কলমে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করে ভুয়া রেজুলেশনের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে সরকারি টাকা।
এ বিষয়ে ইউএনও মোঃ শহিদুল্লাহ বলেছেন, সব কটি প্রোগ্রাম তিনি সম্পূর্ণ করেছে এবং ওয়েব সাইটে ছবি দেওয়া আছে। কিন্তু ওয়েব সাইটে সকল প্রোগ্রামের ছবি পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া সরেজমিনে গেলে চৌধুরী পাড়ার জুয়েল ও ওপারের চা দোকানী রাবু মোন্ডল ছাড়াও আরো অনেকে জানান, উপজেলা ও প্রাইমারী স্কুলের মধ্যবর্তী খালে কাঠের পুল সংস্কার বাবদ এলজিইডি অফিসের মাধমে ২ লক্ষ টাকা তুলেছে শুনেছি। তবে অফিস পিয়নের মাধ্যমে নামমাত্র খরচ করেই শেষ করা হয়েছে কাঠের ব্রীজের সংস্কার কাজ। এ বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা। তবে নকশা ও ষ্টিমেট অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে বলে দাবী করেছেন ইউএনও শহিদুল্লাহ।
উপজেলা প্রকৌশলী ভাস্কর মৃধা বলেন, ওই কাজটা উপজেলা পরিষদের। এ বিষয়ে জানলেও কোন তথ্য তিনি দিবেন না বলে জানান। তবে ২ লক্ষ টাকার কাজে টেন্ডার লাগে নাকি বলে মৃদু হাসেন এবং কোন টেন্ডার হয়নি বলে নিশ্চিত করেন।