‘দল বাঁচাতে দরকার, মনিরুলের পদত্যাগ’ ‘দফা এক, দাবি এক, মনিরুলের পদত্যাগ’ ‘মনিরুল হটাও, বিএনপি বাঁচাও’ ‘অর্থলোভী ও আওয়ামীলীগ লালনকারী মনিরুলের বহিষ্কার চাই’ এ ধরনের নানা শ্লোগানে জেলা বিএনপির একাংশ ও তাদের অনুসারীরা প্রকম্পিত করে তোলেন শহরের পুরাতন টার্মিনালের মুক্তমঞ্চ চত্বর।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে মনিরুলকে স্বেচ্ছাচারী ও দলের জন্য ক্ষতিকারক এবং তাকে অবিলম্বে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মো: আলী হাসান, জেলা কৃষকদলের আহবায়ক মো: নবীর হোসেন,বিএনপি নেতা মো: দেলোয়ার হোসেন, মো: জামাল উদ্দিন, যুবদলের জেলা সভাপতি মো: মশিয়ার রহমান, জেলা শ্রমিকদলের সভাপতি সাইদুজ্জামান আমল। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো: আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব এনামুল কবীর চন্দন, বিএনপি নেতা রিয়াজুল ইসলাম টিংকু, শিহাবুর রহমান শিহাব, সদর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আরিফুল আকবর মিল্টন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো: ফরিদ বিশ^াসসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।এ মঞ্চে ঘন্টাব্যাপী চলা সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বক্তব্য শেষে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি পুরাতন বাস টার্মিনাল থেকে শুরু হয়ে আদালত চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
বিএনপি নেতা মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সদ্য সমাপ্ত পৌর বিএনপির সভাপতি- সেক্রেটারি ও সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচনে ভোটার প্রতি ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা ব্যয় করে ভোট কিনে তার পছন্দের প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করেছেন।নির্বাচন পরবর্তীতে অর্থের বিনিময়ে খুশি করা হয়েছে পক্ষের কাউন্সিলদের।
জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক আলী হাসান বলেন, পৌর বিএনপির কমিটি গঠন উপলক্ষে কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মো: মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ভোট কেনা, প্রভাব বিস্তার, নিরপেক্ষতা হারানোসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া কৃষকদলের খুলনা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মোস্তর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক গুলি করার নাটক সাজিয়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে মনিরুল। মনিরুল পদে থাকা অবস্থায় আগামি ৫ ফেব্রæয়ারি জেলা কমিটির সম্মেলন হলে সেটা নিরপেক্ষ হবে না।নতুন জেলা কমিটি গঠনে মনিরুল ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং তৃণমূলের মতামত নিয়ে নির্বাচন দিতে চান না জনবিচ্ছিন্ন জেলা সেক্রেটারি। জেলা কমিটির সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন করতে হলে মনিরুলের স্বেচ্ছায় পদত্যাগ কিংবা তাকে বহিষ্কার করতে হবে। মনিরুল ক্ষমতায় থাকাকালে নির্বাচন হলে ভোটাররা তাদের পছন্দের যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন না।বিএনপির হাইকমান্ডের এ ব্যাপারে দ্রæত যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।